কক্সবাজার সদরে নিখোঁজের তিন দিন পর নয়ন দাশ নামে এক মন্দির সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করছে। ভিত্তিহীন এই অপপ্রচার দুদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় মন্দিরের পূর্ব পাশের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় জানান, নয়ন দাশকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়েছিল নাকি তিনি নিজ ইচ্ছায় বের হয়েছিলেন, সে বিষয়ে পরিবার এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কাউকে সন্দেহ বা কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও পরিকল্পিত মনে করলেও এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা সাম্প্রদায়িক উসকানির তথ্য দিতে পারেননি।
অথচ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হওয়ার আগেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে' এবং 'নিউজ নাইন' বিষয়টিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন হ্যান্ডেল থেকে একে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত অপরাধ বা ছিনতাইয়ের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সমালোচিত হয়েছে। ঢাকার একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ডকেও তারা 'হিন্দু হত্যাকাণ্ড' হিসেবে প্রচার করেছিল, যা পরবর্তীতে ফ্যাক্টচেক বা তথ্য যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কক্সবাজারের এই ঘটনাতেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে অপপ্রচার চালানোকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয় : ফ্যাক্টচেক

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজার সদরে নিখোঁজের তিন দিন পর নয়ন দাশ নামে এক মন্দির সেবায়েতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করছে। ভিত্তিহীন এই অপপ্রচার দুদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় মন্দিরের পূর্ব পাশের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় জানান, নয়ন দাশকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়েছিল নাকি তিনি নিজ ইচ্ছায় বের হয়েছিলেন, সে বিষয়ে পরিবার এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কাউকে সন্দেহ বা কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও পরিকল্পিত মনে করলেও এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা সাম্প্রদায়িক উসকানির তথ্য দিতে পারেননি।
অথচ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হওয়ার আগেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে' এবং 'নিউজ নাইন' বিষয়টিকে “নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন হ্যান্ডেল থেকে একে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত অপরাধ বা ছিনতাইয়ের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সমালোচিত হয়েছে। ঢাকার একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ডকেও তারা 'হিন্দু হত্যাকাণ্ড' হিসেবে প্রচার করেছিল, যা পরবর্তীতে ফ্যাক্টচেক বা তথ্য যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কক্সবাজারের এই ঘটনাতেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে অপপ্রচার চালানোকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন