ইউরোপীয় দেশ স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ভবন থেকে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে। তবে এর পরপরই দেশের প্রেসিডেন্ট নাতাশা পিরক মুসার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন 'প্রেসিডেন্ট প্যালেস'-এ পুনরায় ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে সরকারের দুই শীর্ষ চালিকাশক্তি—প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত ২২ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইয়ানেজ ইয়ানসা। নতুন এই প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভবনের সামনে উড়তে থাকা ফিলিস্তিনের পতাকাটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়।
হঠাত করে ফিলিস্তিনের পতাকা নামিয়ে ফেলার এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান স্লোভেনিয়ার প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি নাতাশা পিরক মুসার। তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরাসরি রাষ্ট্রপতির প্রাসাদের বাইরের দেয়ালে ফিলিস্তিনের পতাকা পুনরায় ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন।
মানবাধিকারের পক্ষে রাষ্ট্রপতির বার্তা
ফিলিস্তিনের পতাকা পুনরায় ওড়ানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নাতাশা পিরক মুসার এক বিবৃতিতে জানান, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম অবমাননার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই পতাকাটি আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাসাদের বাইরে দৃশ্যমান থাকবে এবং পরবর্তীতে প্রাসাদের ভেতরে পরিদর্শকদের ফিলিস্তিন সংকটের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করা হবে।
ইসরাইলি গোয়েন্দা সংযোগ
দেশটিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসরাইলের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানসা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ছে না। স্লোভেনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইয়ানসার বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাক কিউব’ (Black Cube) নামক একটি বিতর্কিত ইসরাইলি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে গোপনে অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এই ইসরাইলি সংযোগের কারণেই তাঁর নতুন সরকার ফিলিস্তিন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিন সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আলোচনা গতি পেলেও, গত ২২ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী জানসার দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাঁর ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ নীতি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা এই পতাকা বিতর্কের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিল।
বিষয় : স্লোভেনিয়া

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
ইউরোপীয় দেশ স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ভবন থেকে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে। তবে এর পরপরই দেশের প্রেসিডেন্ট নাতাশা পিরক মুসার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন 'প্রেসিডেন্ট প্যালেস'-এ পুনরায় ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে সরকারের দুই শীর্ষ চালিকাশক্তি—প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত ২২ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইয়ানেজ ইয়ানসা। নতুন এই প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভবনের সামনে উড়তে থাকা ফিলিস্তিনের পতাকাটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়।
হঠাত করে ফিলিস্তিনের পতাকা নামিয়ে ফেলার এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান স্লোভেনিয়ার প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি নাতাশা পিরক মুসার। তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরাসরি রাষ্ট্রপতির প্রাসাদের বাইরের দেয়ালে ফিলিস্তিনের পতাকা পুনরায় ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন।
মানবাধিকারের পক্ষে রাষ্ট্রপতির বার্তা
ফিলিস্তিনের পতাকা পুনরায় ওড়ানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নাতাশা পিরক মুসার এক বিবৃতিতে জানান, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম অবমাননার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই পতাকাটি আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাসাদের বাইরে দৃশ্যমান থাকবে এবং পরবর্তীতে প্রাসাদের ভেতরে পরিদর্শকদের ফিলিস্তিন সংকটের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করা হবে।
ইসরাইলি গোয়েন্দা সংযোগ
দেশটিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসরাইলের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানসা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ছে না। স্লোভেনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইয়ানসার বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাক কিউব’ (Black Cube) নামক একটি বিতর্কিত ইসরাইলি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে গোপনে অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এই ইসরাইলি সংযোগের কারণেই তাঁর নতুন সরকার ফিলিস্তিন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্লোভেনিয়ায় ফিলিস্তিন সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আলোচনা গতি পেলেও, গত ২২ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী জানসার দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাঁর ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ নীতি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা এই পতাকা বিতর্কের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিল।

আপনার মতামত লিখুন