ভারতের উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার একটি আবাসিক কলোনিতে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লাজপত নগর এলাকার ওই কলোনির বাসিন্দারা প্রকাশ্যে পোস্টার লাগিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা কোনো মুসলিম ক্রেতার কাছে তাদের বাড়ি বিক্রি করবেন না। ঘটনাটি ভারতের আবাসন ব্যবস্থায় ধর্মীয় বিভাজন এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মোরাদাবাদের কাটঘর থানা এলাকার অন্তর্গত ‘শ্রী রাম সোসাইটি’র প্রায় ৪০টি পরিবারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্তত দুই ডজন বাড়ির সামনে এই বিতর্কিত পোস্টার দেখা গেছে।
তাদের দাবি, কলোনিটি একটি "সম্পূর্ণ হিন্দু সনাতনী সমাজ"। সেখানে একটি মন্দির রয়েছে এবং তারা সবাই মিলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন।
স্থানীয়দের যুক্তি, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে তারা চান না এখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কেউ এসে বসবাস করুক। তাদের মতে, সমমনা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পত্তি কেনাবেচা হলে তাদের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি বজায় রাখা সহজ হবে।
গত ২৮ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টারগুলোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কলোনির প্রবেশপথ এবং ব্যক্তিগত বাড়ির দেয়ালে এই পোস্টারগুলো সাঁটানো হয়েছে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, যদি কেউ বাড়ি বিক্রি করতে চায়, তবে কলোনির পক্ষ থেকে তাকে অনুরোধ করা হবে যেন কোনো হিন্দু পরিবারের কাছেই সেটি বিক্রি করা হয়। এটি তাদের "সম্মিলিত সিদ্ধান্ত" বলে তারা দাবি করছেন।
এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও বিচ্ছিন্নতার বোধ তৈরি করেছে। ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির শহরগুলোতে এ ধরনের "ঘেটোয়াইজেশন" বা আবাসন বৈষম্য নতুন নয়, তবে প্রকাশ্যে পোস্টার দিয়ে এমন ঘোষণা বিরল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে সম্পত্তি কেনাবেচায় বাধা দেওয়া ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ ধর্ম, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। সম্পত্তির মালিক তার ইচ্ছামতো যেকোনো নাগরিকের কাছে সম্পত্তি বিক্রির অধিকার রাখেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাসমূহ মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদকে আরও উসকে দেয়।
এখন পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের পছন্দের জায়গায় বসবাস ও সম্পত্তি কেনাবেচার অধিকার সর্বজনীন। ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে আবাসন খাতে এমন প্রতিবন্ধকতা সামাজিক শান্তি ও ইনসাফের পরিপন্থী। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার না হয়।
বিষয় : ভারত

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার একটি আবাসিক কলোনিতে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লাজপত নগর এলাকার ওই কলোনির বাসিন্দারা প্রকাশ্যে পোস্টার লাগিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা কোনো মুসলিম ক্রেতার কাছে তাদের বাড়ি বিক্রি করবেন না। ঘটনাটি ভারতের আবাসন ব্যবস্থায় ধর্মীয় বিভাজন এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মোরাদাবাদের কাটঘর থানা এলাকার অন্তর্গত ‘শ্রী রাম সোসাইটি’র প্রায় ৪০টি পরিবারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্তত দুই ডজন বাড়ির সামনে এই বিতর্কিত পোস্টার দেখা গেছে।
তাদের দাবি, কলোনিটি একটি "সম্পূর্ণ হিন্দু সনাতনী সমাজ"। সেখানে একটি মন্দির রয়েছে এবং তারা সবাই মিলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন।
স্থানীয়দের যুক্তি, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে তারা চান না এখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কেউ এসে বসবাস করুক। তাদের মতে, সমমনা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পত্তি কেনাবেচা হলে তাদের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি বজায় রাখা সহজ হবে।
গত ২৮ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টারগুলোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কলোনির প্রবেশপথ এবং ব্যক্তিগত বাড়ির দেয়ালে এই পোস্টারগুলো সাঁটানো হয়েছে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, যদি কেউ বাড়ি বিক্রি করতে চায়, তবে কলোনির পক্ষ থেকে তাকে অনুরোধ করা হবে যেন কোনো হিন্দু পরিবারের কাছেই সেটি বিক্রি করা হয়। এটি তাদের "সম্মিলিত সিদ্ধান্ত" বলে তারা দাবি করছেন।
এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও বিচ্ছিন্নতার বোধ তৈরি করেছে। ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির শহরগুলোতে এ ধরনের "ঘেটোয়াইজেশন" বা আবাসন বৈষম্য নতুন নয়, তবে প্রকাশ্যে পোস্টার দিয়ে এমন ঘোষণা বিরল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে সম্পত্তি কেনাবেচায় বাধা দেওয়া ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ ধর্ম, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। সম্পত্তির মালিক তার ইচ্ছামতো যেকোনো নাগরিকের কাছে সম্পত্তি বিক্রির অধিকার রাখেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাসমূহ মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদকে আরও উসকে দেয়।
এখন পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের পছন্দের জায়গায় বসবাস ও সম্পত্তি কেনাবেচার অধিকার সর্বজনীন। ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে আবাসন খাতে এমন প্রতিবন্ধকতা সামাজিক শান্তি ও ইনসাফের পরিপন্থী। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার না হয়।

আপনার মতামত লিখুন