ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায় এক অসহায় বৃদ্ধ মুসলিম হকারকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় স্লোগান 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক উগ্রপন্থী যুবকের এই হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার মোহাম্মদি এলাকায় এক চরম উদ্বেগজনক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবক ওই এলাকার এক বয়স্ক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে (হকার) তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবক বারবার ওই বৃদ্ধকে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ সময় বৃদ্ধ হকারকে চরম অস্বস্তি, ভয় ও নার্ভাসনেসের মধ্যে দিনাতিপাত করতে দেখা যায়। তিনি পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করলেও ওই যুবক তাকে রেহাই দেয়নি। এক পর্যায়ে অসহায় বৃদ্ধ ক্যামেরার সামনে বলতে বাধ্য হন, "তুমি ফোনটা বন্ধ করো, আমি বলছি।" কিন্তু এরপরও ওই যুবক ভিডিও করা বন্ধ করেনি এবং তাকে অন-ক্যামেরা স্লোগান দিতে বাধ্য করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা একে চরম অপমানজনক এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন অসহায় মানুষকে টার্গেট করার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা স্পষ্টতই একটি অপরাধমূলক তৎপরতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানুষের মৌলিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
অনলাইনে প্রতিবাদকারীরা স্থানীয় পুলিশকে ট্যাগ করে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় প্রকাশ করেছেন, যাকে অনেকেই 'রাহুল রাজপুত' বলে শনাক্ত করেছেন। তারা এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। লখিমপুর খেরি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "মোহাম্মদি থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে (এসএইচও) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর জানায়নি। ভারতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই ধরনের সংখ্যালঘু নিগ্রহের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম পালন, চর্চা এবং যেকোনো প্রকার জোরজুলুম ছাড়া স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো নাগরিককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা স্পষ্টত ভারতীয় দণ্ডবিধি ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আবার সামনে এনেছে।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায় এক অসহায় বৃদ্ধ মুসলিম হকারকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় স্লোগান 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক উগ্রপন্থী যুবকের এই হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার মোহাম্মদি এলাকায় এক চরম উদ্বেগজনক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবক ওই এলাকার এক বয়স্ক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে (হকার) তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবক বারবার ওই বৃদ্ধকে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ সময় বৃদ্ধ হকারকে চরম অস্বস্তি, ভয় ও নার্ভাসনেসের মধ্যে দিনাতিপাত করতে দেখা যায়। তিনি পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করলেও ওই যুবক তাকে রেহাই দেয়নি। এক পর্যায়ে অসহায় বৃদ্ধ ক্যামেরার সামনে বলতে বাধ্য হন, "তুমি ফোনটা বন্ধ করো, আমি বলছি।" কিন্তু এরপরও ওই যুবক ভিডিও করা বন্ধ করেনি এবং তাকে অন-ক্যামেরা স্লোগান দিতে বাধ্য করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা একে চরম অপমানজনক এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন অসহায় মানুষকে টার্গেট করার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা স্পষ্টতই একটি অপরাধমূলক তৎপরতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানুষের মৌলিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
অনলাইনে প্রতিবাদকারীরা স্থানীয় পুলিশকে ট্যাগ করে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় প্রকাশ করেছেন, যাকে অনেকেই 'রাহুল রাজপুত' বলে শনাক্ত করেছেন। তারা এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। লখিমপুর খেরি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "মোহাম্মদি থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে (এসএইচও) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর জানায়নি। ভারতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই ধরনের সংখ্যালঘু নিগ্রহের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম পালন, চর্চা এবং যেকোনো প্রকার জোরজুলুম ছাড়া স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো নাগরিককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা স্পষ্টত ভারতীয় দণ্ডবিধি ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আবার সামনে এনেছে।

আপনার মতামত লিখুন