ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে ঐতিহাসিক জ্ঞানবাপী মসজিদের সীমানা প্রাচীরে গেরুয়া রঙের আল্পনা বা পেইন্টিং করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় মুসলিম সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করলে প্রশাসন স্পর্শকাতর এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
জ্ঞানবাপী মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বাতিন নোমানী এই ঘটনাকে মসজিদের পবিত্রতা ও কাঠামোর ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১ মে) জুমার নামাজের পর শতাধিক মুসল্লি নিয়ে তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মসজিদ চত্বরে বা দেয়ালে কোনো ধরণের রঙ করার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না। মাওলানা নোমানী আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে এই পেইন্টিং সরানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির পরিদর্শনে যান। অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কাশী বিশ্বনাথ করিডোর সংলগ্ন জ্ঞানবাপী মসজিদের দেয়ালে গেরুয়া পেইন্টিং করা হয়। স্থানীয় মুসলিম সমাজ বিষয়টিকে উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছে। শুক্রবার বিকেলে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারানসি পুলিশ ৫ শতাধিক জওয়ান মোতায়েন করে এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয়। বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে।
আইনগতভাবে জ্ঞানবাপী মসজিদের বিতর্কিত অংশটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নীতি থাকলেও দেয়ালে নতুন করে রঙ করার ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় নাগরিক সমাজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাই বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য এবং পেইন্টিং সংক্রান্ত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারানসি তথা ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির ইতিহাসে জ্ঞানবাপী একটি সংবেদনশীল নাম। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা জরুরি। যে কোনো ধরনের উস্কানি এড়াতে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিষয় : ভারত

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে ঐতিহাসিক জ্ঞানবাপী মসজিদের সীমানা প্রাচীরে গেরুয়া রঙের আল্পনা বা পেইন্টিং করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় মুসলিম সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করলে প্রশাসন স্পর্শকাতর এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
জ্ঞানবাপী মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বাতিন নোমানী এই ঘটনাকে মসজিদের পবিত্রতা ও কাঠামোর ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১ মে) জুমার নামাজের পর শতাধিক মুসল্লি নিয়ে তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মসজিদ চত্বরে বা দেয়ালে কোনো ধরণের রঙ করার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না। মাওলানা নোমানী আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে এই পেইন্টিং সরানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির পরিদর্শনে যান। অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কাশী বিশ্বনাথ করিডোর সংলগ্ন জ্ঞানবাপী মসজিদের দেয়ালে গেরুয়া পেইন্টিং করা হয়। স্থানীয় মুসলিম সমাজ বিষয়টিকে উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছে। শুক্রবার বিকেলে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারানসি পুলিশ ৫ শতাধিক জওয়ান মোতায়েন করে এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয়। বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে।
আইনগতভাবে জ্ঞানবাপী মসজিদের বিতর্কিত অংশটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নীতি থাকলেও দেয়ালে নতুন করে রঙ করার ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় নাগরিক সমাজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাই বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য এবং পেইন্টিং সংক্রান্ত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারানসি তথা ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির ইতিহাসে জ্ঞানবাপী একটি সংবেদনশীল নাম। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা জরুরি। যে কোনো ধরনের উস্কানি এড়াতে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন