২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, গত ৮ মাসে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তা ৩ হাজার ২৬৯ বার লঙ্ঘন করেছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এই ২৪৫ দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ১৩৮ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে চরম মানবিক সংকটের মুখে থাকা গাজায় প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রবেশ করতে দিয়েছে বর্ণবাদী ইসরায়েল, যা বিশ্বমঞ্চে তাদের চরম অমানবিকতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চিত্রকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ মাস পার হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন একদিনের জন্যও থামেনি। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪৫ দিনে ইহুদিবাদী ইসরায়েল মোট ৩ হাজার ২৬৯ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। এই ধারাবাহিক হামলায় ৯৯২ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি শাহাদাতবরণ করেছেন এবং ৩ হাজার ১৩৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, এই সময়ে ৯৫ জন ফিলিস্তিনিকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার ও বন্দি করেছে দখলদার বাহিনী।
ত্রাণের নামে চরম প্রতারণা ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ
চুক্তি অনুযায়ী গাজায় নিয়মিত পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ইসরায়েল গাজাবাসীকে পরিকল্পিত ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি মোতাবেক এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল মাত্র ৫২ হাজার ৭৪০টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যা মোট প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র ৩৬ শতাংশ।
উল্লেখ্য, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন গাজায় ৬০০টি ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং ডিজেল, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসসহ ৫০টি জ্বালানিবাহী ট্রাক প্রবেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল ক্রমাগত এই শর্ত লঙ্ঘন করে অবরুদ্ধ গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষাবস্থা বজায় রেখেছে।
রাফাহ ক্রসিং ও চিকিৎসাবঞ্চিত ফিলিস্তিনি
২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ থাকার পর, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাফাহ ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশটি ইসরায়েল অত্যন্ত সীমিত এবং কঠোর শর্তে পুনরায় চালু করে। চুক্তি অনুযায়ী অন্তত ১৯ হাজার ৬০০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং তাদের সহযোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জায়নবাদী প্রশাসন মাত্র ৬ হাজার ৮৪৫ জনকে ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে, যা মোট প্রয়োজনের মাত্র ৩৫ শতাংশ। ফলে হাজার হাজার মুমূর্ষু রোগী গাজার ভেতরেই বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
মার্কিন পরিকল্পনা ও ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল বন্দি বিনিময়, হামাসের নিরস্ত্রিকরণ, গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হয়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস চুক্তির প্রথম ধাপের সমস্ত শর্ত কঠোরভাবে মেনে চললেও, ইসরায়েল শুরু থেকেই নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে গা বাঁচিয়ে চলে এবং একের পর এক হামলা চালিয়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ধাপের (সেনা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠন) ঘোষণা দেওয়া হলেও, তেল আবিব তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে প্রথমে নিরস্ত্রিকরণের অযৌক্তিক দাবি তুলে চুক্তিটি ভেস্তে দেয়।
ফিলিস্তিনিদের ওপর শতাব্দীর নিকৃষ্টতম গণহত্যা
বিবৃতিতে গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এই ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং গাজার চরম মানবিক বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সাথে তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি জায়নবাদীদের এই পরিকল্পিত জাতিগত নিধন ও গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ও গোলার আঘাতে গাজার মোট বেসামরিক অবকাঠামোর ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, গত ৮ মাসে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তা ৩ হাজার ২৬৯ বার লঙ্ঘন করেছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এই ২৪৫ দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ১৩৮ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে চরম মানবিক সংকটের মুখে থাকা গাজায় প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রবেশ করতে দিয়েছে বর্ণবাদী ইসরায়েল, যা বিশ্বমঞ্চে তাদের চরম অমানবিকতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চিত্রকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ মাস পার হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন একদিনের জন্যও থামেনি। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪৫ দিনে ইহুদিবাদী ইসরায়েল মোট ৩ হাজার ২৬৯ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। এই ধারাবাহিক হামলায় ৯৯২ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি শাহাদাতবরণ করেছেন এবং ৩ হাজার ১৩৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, এই সময়ে ৯৫ জন ফিলিস্তিনিকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার ও বন্দি করেছে দখলদার বাহিনী।
ত্রাণের নামে চরম প্রতারণা ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ
চুক্তি অনুযায়ী গাজায় নিয়মিত পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ইসরায়েল গাজাবাসীকে পরিকল্পিত ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি মোতাবেক এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল মাত্র ৫২ হাজার ৭৪০টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যা মোট প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র ৩৬ শতাংশ।
উল্লেখ্য, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন গাজায় ৬০০টি ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং ডিজেল, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসসহ ৫০টি জ্বালানিবাহী ট্রাক প্রবেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল ক্রমাগত এই শর্ত লঙ্ঘন করে অবরুদ্ধ গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষাবস্থা বজায় রেখেছে।
রাফাহ ক্রসিং ও চিকিৎসাবঞ্চিত ফিলিস্তিনি
২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ থাকার পর, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাফাহ ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশটি ইসরায়েল অত্যন্ত সীমিত এবং কঠোর শর্তে পুনরায় চালু করে। চুক্তি অনুযায়ী অন্তত ১৯ হাজার ৬০০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং তাদের সহযোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জায়নবাদী প্রশাসন মাত্র ৬ হাজার ৮৪৫ জনকে ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে, যা মোট প্রয়োজনের মাত্র ৩৫ শতাংশ। ফলে হাজার হাজার মুমূর্ষু রোগী গাজার ভেতরেই বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
মার্কিন পরিকল্পনা ও ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল বন্দি বিনিময়, হামাসের নিরস্ত্রিকরণ, গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হয়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস চুক্তির প্রথম ধাপের সমস্ত শর্ত কঠোরভাবে মেনে চললেও, ইসরায়েল শুরু থেকেই নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে গা বাঁচিয়ে চলে এবং একের পর এক হামলা চালিয়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ধাপের (সেনা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠন) ঘোষণা দেওয়া হলেও, তেল আবিব তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে প্রথমে নিরস্ত্রিকরণের অযৌক্তিক দাবি তুলে চুক্তিটি ভেস্তে দেয়।
ফিলিস্তিনিদের ওপর শতাব্দীর নিকৃষ্টতম গণহত্যা
বিবৃতিতে গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এই ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং গাজার চরম মানবিক বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সাথে তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি জায়নবাদীদের এই পরিকল্পিত জাতিগত নিধন ও গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ও গোলার আঘাতে গাজার মোট বেসামরিক অবকাঠামোর ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন