রোববার, ০৩ মে ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
রোববার, ০৩ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

পণ্য কিনে মূল্য পরিশোধের পরও তিনবার তল্লাশি চালিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী দুই নারী

সেকেন্দ্রাবাদে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিম নারীদের চরম হেনস্তা: শপিং মলে বোরকা-বিদ্বেষের নতুন নজির



সেকেন্দ্রাবাদে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিম নারীদের চরম হেনস্তা: শপিং মলে বোরকা-বিদ্বেষের নতুন নজির

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সেকেন্দ্রাবাদের একটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বোরকা পরিহিত দুই অন্তঃসত্ত্বা নারী। বিল পরিশোধ করে বের হওয়ার সময় মলের কর্মীরা তাঁদের একাধিকবার গতিরোধ করে তল্লাশি চালায় বলে জানা গেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (২ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা ওই শপিং মল থেকে প্রায় ৫,০০০ রুপির পণ্য কেনাকাটা করেন এবং যথাযথভাবে বিল পরিশোধ করেন। তবে প্রস্থান পথে যাওয়ার সময় মলের কর্মীরা তাঁদের সন্দেহবশত থামায়। নারীদের দাবি, একবার তল্লাশিতে আপত্তিকর কিছু না পাওয়ার পরও তাঁদেরকে আরও দুবার অর্থাৎ মোট তিনবার তল্লাশি করে হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সেকেন্দ্রাবাদের একটি শপিং মলে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং জনসমক্ষে অপদস্থ করা হয়েছে। বারবার তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীরা মল কর্মীদের কাছে এর প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নারীরা কর্মীদের কাছে এই অপমানের কারণ জানতে চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা শপিং মল কর্তৃপক্ষের অপেশাদার আচরণ এবং ধর্মীয় পোশাকের কারণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করছেন।

উক্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত শপিং মল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি ভাইরাল হলেও পুলিশি অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো গ্রাহকের ওপর সন্দেহ হলে মার্জিত উপায়ে তল্লাশির বিধান থাকলেও বারবার তল্লাশি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হেনস্তা করা নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিমর্যাদার পরিপন্থী।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যেন কোনোভাবেই গ্রাহকের আত্মমর্যাদা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানে। বিশেষ করে নারী ও শারীরিকভাবে নাজুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল আচরণ কাম্য। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ন্যায়বিচারের দাবি রাখে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


সেকেন্দ্রাবাদে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিম নারীদের চরম হেনস্তা: শপিং মলে বোরকা-বিদ্বেষের নতুন নজির

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সেকেন্দ্রাবাদের একটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বোরকা পরিহিত দুই অন্তঃসত্ত্বা নারী। বিল পরিশোধ করে বের হওয়ার সময় মলের কর্মীরা তাঁদের একাধিকবার গতিরোধ করে তল্লাশি চালায় বলে জানা গেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (২ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা ওই শপিং মল থেকে প্রায় ৫,০০০ রুপির পণ্য কেনাকাটা করেন এবং যথাযথভাবে বিল পরিশোধ করেন। তবে প্রস্থান পথে যাওয়ার সময় মলের কর্মীরা তাঁদের সন্দেহবশত থামায়। নারীদের দাবি, একবার তল্লাশিতে আপত্তিকর কিছু না পাওয়ার পরও তাঁদেরকে আরও দুবার অর্থাৎ মোট তিনবার তল্লাশি করে হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সেকেন্দ্রাবাদের একটি শপিং মলে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং জনসমক্ষে অপদস্থ করা হয়েছে। বারবার তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীরা মল কর্মীদের কাছে এর প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নারীরা কর্মীদের কাছে এই অপমানের কারণ জানতে চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা শপিং মল কর্তৃপক্ষের অপেশাদার আচরণ এবং ধর্মীয় পোশাকের কারণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করছেন।

উক্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত শপিং মল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি ভাইরাল হলেও পুলিশি অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো গ্রাহকের ওপর সন্দেহ হলে মার্জিত উপায়ে তল্লাশির বিধান থাকলেও বারবার তল্লাশি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হেনস্তা করা নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিমর্যাদার পরিপন্থী।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যেন কোনোভাবেই গ্রাহকের আত্মমর্যাদা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানে। বিশেষ করে নারী ও শারীরিকভাবে নাজুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল আচরণ কাম্য। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ন্যায়বিচারের দাবি রাখে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত