দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত ৪৫ হাজার আলজেরীয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনী। সেই ভয়াবহ গণহত্যার ৮১তম বার্ষিকীতে আলজেরিয়ার সেটফ শহরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এক স্মরণ সভা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই দিবসটি আলজেরিয়ার মুক্তির সংগ্রামের প্রথম সোপান হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেটফ-এ আয়োজিত এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ‘মুজাহিদ’ (যুদ্ধ বীর) বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল মালিক তাশরিফত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার আলজেরীয়দের সাথে এই শোকের মিছিলে যোগ দেন ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসা দেশটির প্রতিনিধি এলিস রুফো।
অনুষ্ঠানে বুজাইদ সা’ল-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বুজাইদ সা’ল ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ১৯৪৫ সালের ৮ মে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে মিছিলে প্রথমবার জাতীয় পতাকা তুলে ধরেছিলেন এবং ফরাসি সেনাদের গুলিতে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন।
ফ্রান্সের সেন্ট-ফন্ডস সিটি কাউন্সিলের সদস্য দেলিলে মারতানি আনাদোলু এজেন্সিকে (AA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি ছিল আলজেরিয়ার স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ। ৮ মে তারিখটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কারণ এটি দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের সূচনা বিন্দুকে চিহ্নিত করে।"
সেটফ সিটি কাউন্সিলের সদস্য ওয়ালিদ বেলাব্বাস তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ঔপনিবেশিক ফ্রান্স যে গণহত্যা চালিয়েছে এবং স্বাধীনতার জন্য আলজেরীয়রা যে বিশাল আত্মত্যাগ করেছে, তা কোনোদিন বিস্মৃত হবে না।
১৯৪৫ সালের ৮ মে যখন বিশ্বজুড়ে নাৎসি বাহিনীর পতন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উদযাপিত হচ্ছিল, তখন আলজেরীয়রা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। সেটফ, গুয়েলমা এবং হাররাতা শহরজুড়ে শুরু হওয়া সেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ফরাসি বাহিনী প্রায় ৪০ দিন ধরে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় আনুমানিক ৪৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়, যা ইতিহাসে ‘সেটফ গণহত্যা’ নামে পরিচিত।
বিষয় : আলজেরিয়া

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত ৪৫ হাজার আলজেরীয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনী। সেই ভয়াবহ গণহত্যার ৮১তম বার্ষিকীতে আলজেরিয়ার সেটফ শহরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এক স্মরণ সভা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই দিবসটি আলজেরিয়ার মুক্তির সংগ্রামের প্রথম সোপান হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেটফ-এ আয়োজিত এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ‘মুজাহিদ’ (যুদ্ধ বীর) বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল মালিক তাশরিফত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার আলজেরীয়দের সাথে এই শোকের মিছিলে যোগ দেন ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসা দেশটির প্রতিনিধি এলিস রুফো।
অনুষ্ঠানে বুজাইদ সা’ল-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বুজাইদ সা’ল ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ১৯৪৫ সালের ৮ মে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে মিছিলে প্রথমবার জাতীয় পতাকা তুলে ধরেছিলেন এবং ফরাসি সেনাদের গুলিতে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন।
ফ্রান্সের সেন্ট-ফন্ডস সিটি কাউন্সিলের সদস্য দেলিলে মারতানি আনাদোলু এজেন্সিকে (AA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি ছিল আলজেরিয়ার স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ। ৮ মে তারিখটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কারণ এটি দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের সূচনা বিন্দুকে চিহ্নিত করে।"
সেটফ সিটি কাউন্সিলের সদস্য ওয়ালিদ বেলাব্বাস তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ঔপনিবেশিক ফ্রান্স যে গণহত্যা চালিয়েছে এবং স্বাধীনতার জন্য আলজেরীয়রা যে বিশাল আত্মত্যাগ করেছে, তা কোনোদিন বিস্মৃত হবে না।
১৯৪৫ সালের ৮ মে যখন বিশ্বজুড়ে নাৎসি বাহিনীর পতন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উদযাপিত হচ্ছিল, তখন আলজেরীয়রা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। সেটফ, গুয়েলমা এবং হাররাতা শহরজুড়ে শুরু হওয়া সেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ফরাসি বাহিনী প্রায় ৪০ দিন ধরে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় আনুমানিক ৪৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়, যা ইতিহাসে ‘সেটফ গণহত্যা’ নামে পরিচিত।

আপনার মতামত লিখুন