অক্টোবর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়েছে। সীমান্তে দিনের পর দিন পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখায় পচে যাওয়া ফল ও সবজিই এখন গাজাবাসীর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজার স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন পচা সবজির দুর্গন্ধ এবং মাছিদের উপদ্রব। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সবজি ব্যবসার সাথে জড়িত মাহমুদ আবু সাদা জানান, সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ট্রাকগুলো এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে গাজায় যখন সবজি পৌঁছায়, তার পরদিনই সেগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু নিরুপায় মানুষ চড়া দামে সেই পচা পণ্যই কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
বাজারে আসা আয়িশ সুবহ নামের এক ক্রেতা জানান, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আগে যে টমেটোর কেজি ছিল ১ শেকেল, তা এখন ১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বেগুন ও কুমড়োর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ করতে না পারায় এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। গাজার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, কারণ নির্মাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে না পারায় সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল তা মানছে না। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগের তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ পণ্য প্রবেশ করছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, জ্বালানি এবং খাদ্য সহায়তায় ইসরায়েলি বাধা গাজাকে এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকায় গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
অক্টোবর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়েছে। সীমান্তে দিনের পর দিন পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখায় পচে যাওয়া ফল ও সবজিই এখন গাজাবাসীর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজার স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন পচা সবজির দুর্গন্ধ এবং মাছিদের উপদ্রব। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সবজি ব্যবসার সাথে জড়িত মাহমুদ আবু সাদা জানান, সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ট্রাকগুলো এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে গাজায় যখন সবজি পৌঁছায়, তার পরদিনই সেগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু নিরুপায় মানুষ চড়া দামে সেই পচা পণ্যই কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
বাজারে আসা আয়িশ সুবহ নামের এক ক্রেতা জানান, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আগে যে টমেটোর কেজি ছিল ১ শেকেল, তা এখন ১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বেগুন ও কুমড়োর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ করতে না পারায় এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। গাজার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, কারণ নির্মাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে না পারায় সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল তা মানছে না। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগের তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ পণ্য প্রবেশ করছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, জ্বালানি এবং খাদ্য সহায়তায় ইসরায়েলি বাধা গাজাকে এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকায় গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন