শনিবার, ০২ মে ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ০২ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

শর্ম আল-শেখ চুক্তি ভঙ্গ করে গাজার ৩৬ শতাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ করার নতুন ছক 'অরেঞ্জ লাইন' উন্মোচন

গাজায় ২০০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ হামাসের



গাজায় ২০০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ হামাসের

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০০ দিন অতিবাহিত হলেও ইসরায়েল ক্রমাগত তা লঙ্ঘন করে 'গণহত্যা' অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা চুক্তির শর্ত মেনে বন্দি ও মরদেহ হস্তান্তর করলেও ইসরায়েল নতুন করে গাজার অভ্যন্তরে সীমানা বাড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের আরও সংকীর্ণ এলাকায় ঠেলে দিচ্ছে।

হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২০০ দিনে তারা এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো চুক্তির প্রতিটি ধারা মেনে চলেছে। বিপরীতে, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন শত শত নারী ও শিশুকে হত্যা করছে এবং গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করে রেখেছে। হামাসের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুদ্ধবিরতির আড়ালে গাজাকে ধ্বংস করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

জাতিসংঘ এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার অভ্যন্তরে 'অরেঞ্জ লাইন' (Orange Line) নামে একটি নতুন সীমানা তৈরি করেছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর চুক্তিতে 'ইয়েলো লাইন' (Yellow Line) অনুযায়ী ইসরায়েল গাজার ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছিল। এখন নতুন অরেঞ্জ লাইনের মাধ্যমে আরও ১১ শতাংশ ভূমি দখল করে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে গাজার ২০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের নিজ ভূমির মাত্র ৩৬ শতাংশ এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গাজা সরকারের তথ্যমতে, শুধুমাত্র গত এপ্রিল মাসেই ইসরায়েল ৩৭৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে ১১১ জন নিহত ও ৩৭৬ জন আহত হয়েছেন।

গত মাসে ১৮ হাজার ট্রাক সাহায্যের প্রয়োজন থাকলেও ইসরায়েল মাত্র ৪,৫০৩টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক বক্তব্য— "হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইয়েলো লাইন থেকে এক মিলিমিটারও নড়বে না ইসরায়েল"—চুক্তি ভঙ্গের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজাবাসীর বর্তমান অবস্থাকে 'আইনগত ও মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছে।

যুদ্ধবিরতি মানে কেবল কামানের গর্জন বন্ধ হওয়া নয়, বরং মানুষের জীবন ও অধিকার নিশ্চিত করা। ইসরায়েলের এই ক্রমাগত সীমা লঙ্ঘন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর (মিশর, কাতার ও তুরস্ক) প্রচেষ্টাকে সংকটে ফেলছে। একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল নিন্দা নয়, বরং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয় : হামাস গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


গাজায় ২০০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ হামাসের

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০০ দিন অতিবাহিত হলেও ইসরায়েল ক্রমাগত তা লঙ্ঘন করে 'গণহত্যা' অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা চুক্তির শর্ত মেনে বন্দি ও মরদেহ হস্তান্তর করলেও ইসরায়েল নতুন করে গাজার অভ্যন্তরে সীমানা বাড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের আরও সংকীর্ণ এলাকায় ঠেলে দিচ্ছে।

হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২০০ দিনে তারা এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো চুক্তির প্রতিটি ধারা মেনে চলেছে। বিপরীতে, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন শত শত নারী ও শিশুকে হত্যা করছে এবং গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করে রেখেছে। হামাসের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুদ্ধবিরতির আড়ালে গাজাকে ধ্বংস করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

জাতিসংঘ এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার অভ্যন্তরে 'অরেঞ্জ লাইন' (Orange Line) নামে একটি নতুন সীমানা তৈরি করেছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর চুক্তিতে 'ইয়েলো লাইন' (Yellow Line) অনুযায়ী ইসরায়েল গাজার ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছিল। এখন নতুন অরেঞ্জ লাইনের মাধ্যমে আরও ১১ শতাংশ ভূমি দখল করে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে গাজার ২০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের নিজ ভূমির মাত্র ৩৬ শতাংশ এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গাজা সরকারের তথ্যমতে, শুধুমাত্র গত এপ্রিল মাসেই ইসরায়েল ৩৭৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে ১১১ জন নিহত ও ৩৭৬ জন আহত হয়েছেন।

গত মাসে ১৮ হাজার ট্রাক সাহায্যের প্রয়োজন থাকলেও ইসরায়েল মাত্র ৪,৫০৩টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক বক্তব্য— "হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইয়েলো লাইন থেকে এক মিলিমিটারও নড়বে না ইসরায়েল"—চুক্তি ভঙ্গের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজাবাসীর বর্তমান অবস্থাকে 'আইনগত ও মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছে।

যুদ্ধবিরতি মানে কেবল কামানের গর্জন বন্ধ হওয়া নয়, বরং মানুষের জীবন ও অধিকার নিশ্চিত করা। ইসরায়েলের এই ক্রমাগত সীমা লঙ্ঘন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর (মিশর, কাতার ও তুরস্ক) প্রচেষ্টাকে সংকটে ফেলছে। একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল নিন্দা নয়, বরং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত