মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের রক্ষায় জরুরি এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের রক্ষায় জরুরি এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষাকারী এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ৭ মে পর্যন্ত চলমান এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ দুটি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে গত ২৬ এপ্রিল থেকে একযোগে ৩৩টি ক্যাম্পে শুরু হয়েছে বিশেষ 'মিজলস রুবেলা' (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR), ইউনিসেফ (UNICEF), আইওএম (IOM), ব্র্যাক (BRAC) ও চাইল্ড হেলথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া থাকলেও সুরক্ষার স্বার্থে শিশুদের আবারও এই টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকার পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টি রোধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত (শুক্রবার ও শনিবার ব্যতীত) নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা পাওয়া যাবে। অভিভাবকদের তাদের শিশুদের সাথে 'জেনারেল হেলথ কার্ড' এবং 'ফ্যামিলি অ্যাটেস্টেশন কার্ড' নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা এই টিকাটি বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত।

টিকাদানের পর কোনো কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, গায়ে র‍্যাশ বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা হতে পারে, যা দ্রুতই সেরে যায়। তবুও সতর্কতাস্বরূপ শিশুদের টিকা নেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো শিশুর প্রচণ্ড জ্বর, মুখ থেকে শুরু হওয়া লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : রোহিঙ্গা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের রক্ষায় জরুরি এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষাকারী এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ৭ মে পর্যন্ত চলমান এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ দুটি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে গত ২৬ এপ্রিল থেকে একযোগে ৩৩টি ক্যাম্পে শুরু হয়েছে বিশেষ 'মিজলস রুবেলা' (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR), ইউনিসেফ (UNICEF), আইওএম (IOM), ব্র্যাক (BRAC) ও চাইল্ড হেলথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া থাকলেও সুরক্ষার স্বার্থে শিশুদের আবারও এই টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকার পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টি রোধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত (শুক্রবার ও শনিবার ব্যতীত) নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা পাওয়া যাবে। অভিভাবকদের তাদের শিশুদের সাথে 'জেনারেল হেলথ কার্ড' এবং 'ফ্যামিলি অ্যাটেস্টেশন কার্ড' নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা এই টিকাটি বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত।

টিকাদানের পর কোনো কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, গায়ে র‍্যাশ বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা হতে পারে, যা দ্রুতই সেরে যায়। তবুও সতর্কতাস্বরূপ শিশুদের টিকা নেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো শিশুর প্রচণ্ড জ্বর, মুখ থেকে শুরু হওয়া লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত