শনিবার, ০২ মে ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ০২ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

রাজেন্দ্রনগরের মসজিদে ঢুকে ধর্মীয় কিতাব ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ; সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা পুলিশের

হায়দ্রাবাদের কিশমতপুরে মসজিদে ভাঙচুর ও পবিত্র কোরআন অবমাননা: এলাকায় চরম উত্তেজনা



হায়দ্রাবাদের কিশমতপুরে মসজিদে ভাঙচুর ও পবিত্র কোরআন অবমাননা: এলাকায় চরম উত্তেজনা

হায়দ্রাবাদের রাজেন্দ্রনগর থানাধীন কিশমতপুর এলাকায় একটি মসজিদে ঢুকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত মসজিদ-ই-বিলাল-এ বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক নজিরবিহীন নাশকতার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নীল শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জুতো পায়ে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে। কয়েক সেকেন্ড পর তাকে মসজিদ থেকে কিছু ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে থাকা পবিত্র কোরআনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের ক্ষতিসাধন করেছে এবং বেশ কিছু বই সরিয়ে ফেলেছে। রাজেন্দ্রনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) মুথু যাদব গণমাধ্যমকে জানান, পবিত্র কোরআনসহ মোট ছয়টি বই চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মসজিদের মূল কাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই নিশ্চিতভাবে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর এমএলসি মির্জা রহমত বেগ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় উসকানি দিতেই এই ন্যাক্কারজনক কাজ করা হয়েছে। মসজিদ কমিটি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আমরা দোষীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।"

বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কিশমতপুর ও সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


হায়দ্রাবাদের কিশমতপুরে মসজিদে ভাঙচুর ও পবিত্র কোরআন অবমাননা: এলাকায় চরম উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

হায়দ্রাবাদের রাজেন্দ্রনগর থানাধীন কিশমতপুর এলাকায় একটি মসজিদে ঢুকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত মসজিদ-ই-বিলাল-এ বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক নজিরবিহীন নাশকতার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নীল শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জুতো পায়ে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে। কয়েক সেকেন্ড পর তাকে মসজিদ থেকে কিছু ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে থাকা পবিত্র কোরআনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের ক্ষতিসাধন করেছে এবং বেশ কিছু বই সরিয়ে ফেলেছে। রাজেন্দ্রনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) মুথু যাদব গণমাধ্যমকে জানান, পবিত্র কোরআনসহ মোট ছয়টি বই চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মসজিদের মূল কাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই নিশ্চিতভাবে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর এমএলসি মির্জা রহমত বেগ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় উসকানি দিতেই এই ন্যাক্কারজনক কাজ করা হয়েছে। মসজিদ কমিটি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আমরা দোষীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।"

বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কিশমতপুর ও সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত