সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

রুদ্রপুরে জমি কিনেও বাড়ি করতে পারছেন না আসিম আনসারি; কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জালের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মুসলিম পরিবারকে বাড়ি নির্মাণে বাধা: এখানে কোনো মুসলিম থাকতে পারবে না বলে কাউন্সিলরের হুমকি



মুসলিম পরিবারকে বাড়ি নির্মাণে বাধা: এখানে কোনো মুসলিম থাকতে পারবে না বলে কাউন্সিলরের হুমকি

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উধম সিং নগর জেলার রুদ্রপুর শহরে এক মুসলিম ব্যক্তিকে নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আসিম আনসারির দাবি, কাউন্সিলর স্পষ্ট জানিয়েছেন ওই এলাকায় কোনো মুসলিমকে থাকতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

রুদ্রপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জাল এবং তার সহযোগী বিজয় আরোরার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আসিম আনসারি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ মে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করলে কাউন্সিলর একদল লোক নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। আনসারির দাবি, কাউন্সিলর তাকে বলেছেন, “আমরা কোনো মুসলিমকে এখানে বাড়ি করতে দেব না এবং এই গলিতে কোনো মুসলিম বাস করতে পারবে না।” এমনকি জমিটি বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে তাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিম আনসারি ২০২০ সালে ঈশ্বরি অ্যালায়েন্স কলোনিতে ১৫০ গজের একটি রেজিস্ট্রিকৃত প্লট কেনেন। দীর্ঘ ছয় বছর টাকা জমিয়ে তিনি নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। ৩ মে সকাল ৯টার দিকে কাউন্সিলর ও তার সহযোগীরা এসে কাজ থামিয়ে দেন এবং আসিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। আসিম একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছেন যেখানে কাউন্সিলর ও তার সঙ্গীদের নির্মাণ কাজের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ওই এলাকায় আরও প্রায় ১৫০টি মুসলিম পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করলেও তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী, ধর্ম, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সম্পত্তি কেনা এবং সেখানে বসবাসের অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আসিম আনসারি জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ তাকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জাল দম্ভোক্তি করে বলেছেন যে পুলিশ তার কিছু করতে পারবে না। বিষয়টি এখন স্থানীয় বিধায়ক পর্যন্ত গড়িয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তার মৌলিক অধিকার হরণ করা সংবিধানের চরম অবমাননা। প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


মুসলিম পরিবারকে বাড়ি নির্মাণে বাধা: এখানে কোনো মুসলিম থাকতে পারবে না বলে কাউন্সিলরের হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উধম সিং নগর জেলার রুদ্রপুর শহরে এক মুসলিম ব্যক্তিকে নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আসিম আনসারির দাবি, কাউন্সিলর স্পষ্ট জানিয়েছেন ওই এলাকায় কোনো মুসলিমকে থাকতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

রুদ্রপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জাল এবং তার সহযোগী বিজয় আরোরার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আসিম আনসারি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ মে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করলে কাউন্সিলর একদল লোক নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। আনসারির দাবি, কাউন্সিলর তাকে বলেছেন, “আমরা কোনো মুসলিমকে এখানে বাড়ি করতে দেব না এবং এই গলিতে কোনো মুসলিম বাস করতে পারবে না।” এমনকি জমিটি বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে তাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিম আনসারি ২০২০ সালে ঈশ্বরি অ্যালায়েন্স কলোনিতে ১৫০ গজের একটি রেজিস্ট্রিকৃত প্লট কেনেন। দীর্ঘ ছয় বছর টাকা জমিয়ে তিনি নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। ৩ মে সকাল ৯টার দিকে কাউন্সিলর ও তার সহযোগীরা এসে কাজ থামিয়ে দেন এবং আসিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। আসিম একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছেন যেখানে কাউন্সিলর ও তার সঙ্গীদের নির্মাণ কাজের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ওই এলাকায় আরও প্রায় ১৫০টি মুসলিম পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করলেও তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী, ধর্ম, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সম্পত্তি কেনা এবং সেখানে বসবাসের অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আসিম আনসারি জানিয়েছেন, তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ তাকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জাল দম্ভোক্তি করে বলেছেন যে পুলিশ তার কিছু করতে পারবে না। বিষয়টি এখন স্থানীয় বিধায়ক পর্যন্ত গড়িয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তার মৌলিক অধিকার হরণ করা সংবিধানের চরম অবমাননা। প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত