সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

সরকারের মতে ‘ফোবিয়া’ শব্দটি ব্যক্তিপর্যায়ের অযৌক্তিক ভয় বোঝায়, কিন্তু এটি মূলত একটি কাঠামোগত বর্ণবাদ

‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দ বর্জন করল সুইডেন: নতুন নাম ‘মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ’



‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দ বর্জন করল সুইডেন: নতুন নাম ‘মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ’

সুইডেন সরকার তাদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ’ (Anti-Muslim Racism) শব্দটি ব্যবহার করা হবে। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড গত ১ মে পার্লামেন্টে এক বিতর্কের সময় সরকারের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন।

সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডের মতে, ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তিনি জানান, ‘ফোবিয়া’ মূলত কোনো বিষয়ের প্রতি মানুষের ব্যক্তিগত বা অযৌক্তিক ভয়কে ইঙ্গিত করে। কিন্তু সরকারের বর্তমান লক্ষ্য কোনো ব্যক্তির ভয় নয়, বরং সরাসরি বৈষম্য এবং বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাই বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে এই পরিভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে আসেনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ‘বর্ণবাদ ও ঘৃণামূলক অপরাধ বিরোধী কর্মপরিকল্পনা’ থেকেই এই শব্দগত পরিবর্তনের সূচনা হয়। যদিও ২০২২ সালের সরকারি কর্মসূচিতে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা সংশোধনের পথে হাঁটছে স্টকহোম। পার্লামেন্টে ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির এমপি রিচার্ড জোমশফ জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া বিরোধী দিবস’ পালনে সরকারের এই পরিভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করলে বিষয়টি সামনে আসে।

সুইডেন কেবল নিজেদের মধ্যেই এই পরিবর্তন সীমাবদ্ধ রাখছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউনিয়ন) এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মগুলোতেও ‘ইসলামোফোবিয়া’র বদলে ‘মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ’ বা ‘মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা’ শব্দগুলো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। আগামী ১৮-১৯ মে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত এই সমস্যাটিকে ধর্মীয় গণ্ডি থেকে বের করে একটি মানবাধিকার ও বর্ণবাদ বিরোধী কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা।

শব্দের পরিবর্তন কেবল ভাষাগত নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটায়। সুইডেন সরকারের এই পদক্ষেপ মুসলিমদের প্রতি হওয়া বৈষম্যকে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি আইনি ও কাঠামোগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই পরিবর্তন মাঠ পর্যায়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে কতটুকু প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : সুইডেন ইসলামোফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দ বর্জন করল সুইডেন: নতুন নাম ‘মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ’

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

সুইডেন সরকার তাদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ’ (Anti-Muslim Racism) শব্দটি ব্যবহার করা হবে। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড গত ১ মে পার্লামেন্টে এক বিতর্কের সময় সরকারের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন।

সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডের মতে, ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তিনি জানান, ‘ফোবিয়া’ মূলত কোনো বিষয়ের প্রতি মানুষের ব্যক্তিগত বা অযৌক্তিক ভয়কে ইঙ্গিত করে। কিন্তু সরকারের বর্তমান লক্ষ্য কোনো ব্যক্তির ভয় নয়, বরং সরাসরি বৈষম্য এবং বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাই বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে এই পরিভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে আসেনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ‘বর্ণবাদ ও ঘৃণামূলক অপরাধ বিরোধী কর্মপরিকল্পনা’ থেকেই এই শব্দগত পরিবর্তনের সূচনা হয়। যদিও ২০২২ সালের সরকারি কর্মসূচিতে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা সংশোধনের পথে হাঁটছে স্টকহোম। পার্লামেন্টে ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির এমপি রিচার্ড জোমশফ জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া বিরোধী দিবস’ পালনে সরকারের এই পরিভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করলে বিষয়টি সামনে আসে।

সুইডেন কেবল নিজেদের মধ্যেই এই পরিবর্তন সীমাবদ্ধ রাখছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউনিয়ন) এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মগুলোতেও ‘ইসলামোফোবিয়া’র বদলে ‘মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ’ বা ‘মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা’ শব্দগুলো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। আগামী ১৮-১৯ মে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত এই সমস্যাটিকে ধর্মীয় গণ্ডি থেকে বের করে একটি মানবাধিকার ও বর্ণবাদ বিরোধী কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা।

শব্দের পরিবর্তন কেবল ভাষাগত নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটায়। সুইডেন সরকারের এই পদক্ষেপ মুসলিমদের প্রতি হওয়া বৈষম্যকে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি আইনি ও কাঠামোগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই পরিবর্তন মাঠ পর্যায়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে কতটুকু প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত