শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

হিন্দুত্ববাদী কর্মী ববি চৌধুরীর বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ; সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে

বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে মুসলিম বিক্রেতাকে হুমকি ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করল হিন্দুত্ববাদী কর্মী



বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে মুসলিম বিক্রেতাকে হুমকি ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করল হিন্দুত্ববাদী কর্মী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর সিক্রিতে মঙ্গলবার (১২ মে) পবিত্র দিন হিসেবে দাবি করে এক মুসলিম বিক্রেতার চিকেন বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ববি চৌধুরী নামের এক হিন্দুত্ববাদী কর্মীর বিরুদ্ধে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই ওই বিক্রেতাকে হুমকি ও হেনস্থা করা হয়, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত ববি চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে হিন্দুত্ববাদী কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ভিডিও ফুটেজ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির মূল দাবি ছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের জন্য একটি পবিত্র দিন, তাই এই দিনে প্রকাশ্যে মুরগির মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি করা যাবে না।

বিক্রেতাকে উদ্দেশ্য করে ববি চৌধুরী বলেন, “আজ কী বার ভাই? তোমায় কে বলেছে এখানে মঙ্গলবার মুরগির বিরিয়ানি বিক্রি করতে? কে অনুমতি দিয়েছে? পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকান বন্ধ না হলে আমি আবার এসে পরীক্ষা করব।”

ভারতের সংবিধান বা উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ দিনে রাস্তার পাশে বৈধভাবে খাদ্য সামগ্রী বিক্রির ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট বা আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করার তথ্য এই ঘটনায় পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির এই নির্দেশ দেওয়ার কোনো আইনি এক্তিয়ার বা সরকারি কর্তৃত্ব ছিল না।

সেখানে উপস্থিত মুসলিম বিক্রেতারা ঘটনার আকস্মিকতায় ভীত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের প্রশ্ন করেন, কেন তাঁরা “এই দিনে” দোকান খুলেছেন? অন্য যেকোনো দিন বিক্রি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বিক্রেতাদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, “নিজেদের এলাকায় গিয়ে এগুলো বিক্রি করো।”

এই ঘটনার ফলে ওই দরিদ্র পথ-বিক্রেতারা তাঁদের দৈনন্দিন জীবিকা অর্জনের অধিকার থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ঘটনাটি স্থানীয় সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী এবং পথ-বিক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা নির্দিষ্ট দিনে মাংস বিক্রি বা ধর্মীয় উৎসবের দোহাই দিয়ে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের হেনস্থা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের অধিকার রয়েছে এবং ১৯(১)(g) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনার স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অন্য কোনো নাগরিকের স্বাধীন ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। এই ঘটনাটি সরাসরি আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা স্থানীয় প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বশীলতাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে মুসলিম বিক্রেতাকে হুমকি ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করল হিন্দুত্ববাদী কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর সিক্রিতে মঙ্গলবার (১২ মে) পবিত্র দিন হিসেবে দাবি করে এক মুসলিম বিক্রেতার চিকেন বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ববি চৌধুরী নামের এক হিন্দুত্ববাদী কর্মীর বিরুদ্ধে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই ওই বিক্রেতাকে হুমকি ও হেনস্থা করা হয়, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত ববি চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে হিন্দুত্ববাদী কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ভিডিও ফুটেজ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির মূল দাবি ছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের জন্য একটি পবিত্র দিন, তাই এই দিনে প্রকাশ্যে মুরগির মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি করা যাবে না।

বিক্রেতাকে উদ্দেশ্য করে ববি চৌধুরী বলেন, “আজ কী বার ভাই? তোমায় কে বলেছে এখানে মঙ্গলবার মুরগির বিরিয়ানি বিক্রি করতে? কে অনুমতি দিয়েছে? পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকান বন্ধ না হলে আমি আবার এসে পরীক্ষা করব।”

ভারতের সংবিধান বা উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ দিনে রাস্তার পাশে বৈধভাবে খাদ্য সামগ্রী বিক্রির ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট বা আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করার তথ্য এই ঘটনায় পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির এই নির্দেশ দেওয়ার কোনো আইনি এক্তিয়ার বা সরকারি কর্তৃত্ব ছিল না।

সেখানে উপস্থিত মুসলিম বিক্রেতারা ঘটনার আকস্মিকতায় ভীত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের প্রশ্ন করেন, কেন তাঁরা “এই দিনে” দোকান খুলেছেন? অন্য যেকোনো দিন বিক্রি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বিক্রেতাদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, “নিজেদের এলাকায় গিয়ে এগুলো বিক্রি করো।”

এই ঘটনার ফলে ওই দরিদ্র পথ-বিক্রেতারা তাঁদের দৈনন্দিন জীবিকা অর্জনের অধিকার থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ঘটনাটি স্থানীয় সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী এবং পথ-বিক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা নির্দিষ্ট দিনে মাংস বিক্রি বা ধর্মীয় উৎসবের দোহাই দিয়ে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের হেনস্থা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের অধিকার রয়েছে এবং ১৯(১)(g) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনার স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অন্য কোনো নাগরিকের স্বাধীন ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। এই ঘটনাটি সরাসরি আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা স্থানীয় প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বশীলতাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ