মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI), দেশটির বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট মনিকা উইটের গ্রেপ্তারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে ইরানে পালিয়ে যাওয়া এই নারী কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট সন্ধান দিতে পারলে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। উইটের বিরুদ্ধে আমেরিকার অতি-গোপন প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ও গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের কাছে ফাঁস করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া সাবেক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ মনিকা উইটের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে এফবিআই (FBI)। দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক এই মার্কিন এজেন্টকে আইনের আওতায় আনতে এবার ২ লক্ষ ডলারের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
মার্কিন বিচার বিভাগের ২০১৯ সালের একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ইন্ডিক্টমেন্ট) অনুযায়ী, ১৯৯৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন মনিকা উইট। পরবর্তীতে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঠিকাদার বা সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমেরিকার কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বা প্রতি-গোয়েন্দা বিভাগের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন কার্যক্রমে তার সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর মনিকা উইট আকস্মিকভাবে তেহরানে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় বা ইলতিজা (ইমিগ্রেশন) গ্রহণ করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ইরানে আশ্রয় নেওয়ার পর উইট তার অর্জিত জ্ঞান এবং পূর্ববর্তী কাজের সুবাদে তৈরি হওয়া কৌশলগত যোগাযোগগুলোকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী শক্তির হাতে তুলে দেন। তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গোপন উইং ও প্রজেক্টগুলোর তথ্য দেওযার পাশাপাশি তার সাবেক সহকর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের নিশানা করতে তিনি ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর সাইবার ইউনিটগুলোকে সরাসরি দিকনির্দেশনা ও গাইডলাইন দিয়েছিলেন।
এই আন্তর্জাতিক স্পিওনাজ বা গুপ্তচরবৃত্তি মামলার আওতায় কেবল মনিকা উইটই নন, তার সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করা আরও ৪ জন ইরানি নাগরিকও মার্কিন বিচার বিভাগের রাডারে রয়েছেন। এফবিআই ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, উইট বর্তমানে ইরানি ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন এবং তেহরান প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এখনও মার্কিন বিরোধী সক্রিয় কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ধান চালানো হচ্ছে।
বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI), দেশটির বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট মনিকা উইটের গ্রেপ্তারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে ইরানে পালিয়ে যাওয়া এই নারী কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট সন্ধান দিতে পারলে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। উইটের বিরুদ্ধে আমেরিকার অতি-গোপন প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ও গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের কাছে ফাঁস করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া সাবেক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ মনিকা উইটের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে এফবিআই (FBI)। দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক এই মার্কিন এজেন্টকে আইনের আওতায় আনতে এবার ২ লক্ষ ডলারের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
মার্কিন বিচার বিভাগের ২০১৯ সালের একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ইন্ডিক্টমেন্ট) অনুযায়ী, ১৯৯৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন মনিকা উইট। পরবর্তীতে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঠিকাদার বা সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমেরিকার কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বা প্রতি-গোয়েন্দা বিভাগের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন কার্যক্রমে তার সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর মনিকা উইট আকস্মিকভাবে তেহরানে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় বা ইলতিজা (ইমিগ্রেশন) গ্রহণ করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ইরানে আশ্রয় নেওয়ার পর উইট তার অর্জিত জ্ঞান এবং পূর্ববর্তী কাজের সুবাদে তৈরি হওয়া কৌশলগত যোগাযোগগুলোকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী শক্তির হাতে তুলে দেন। তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গোপন উইং ও প্রজেক্টগুলোর তথ্য দেওযার পাশাপাশি তার সাবেক সহকর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের নিশানা করতে তিনি ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর সাইবার ইউনিটগুলোকে সরাসরি দিকনির্দেশনা ও গাইডলাইন দিয়েছিলেন।
এই আন্তর্জাতিক স্পিওনাজ বা গুপ্তচরবৃত্তি মামলার আওতায় কেবল মনিকা উইটই নন, তার সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করা আরও ৪ জন ইরানি নাগরিকও মার্কিন বিচার বিভাগের রাডারে রয়েছেন। এফবিআই ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, উইট বর্তমানে ইরানি ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন এবং তেহরান প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এখনও মার্কিন বিরোধী সক্রিয় কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ধান চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন