শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

ত্রিশালে প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন; সমাজ থেকে ফ্যাসিবাদের ক্ষত ও অবক্ষয় দূর করতে নজরুলের আদর্শকে ধারণ করার তাগিদ

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসন ও মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান



মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসন ও মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শনিবার ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটানো জরুরি এবং এই ক্ষেত্রে কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শনিবার বিকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ শীর্ষক নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের সূচনা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে এই আয়োজন করতে পারায় সরকার গৌরববোধ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নজরুল ও বাংলাদেশ এক অবিভাজ্য সত্তা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।" তিনি কবির জন্মদিনে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবাইকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণ করার আহ্বান জানান। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি নজরুল জয়ন্তীর এই উৎসব উৎসর্গ করেন।

ফ্যাসিবাদের ক্ষতি ও মূল্যবোধের অবক্ষয়

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র মানুষের অধিকার হরণ আর অর্থ সম্পদই লুণ্ঠন করেনি, বরং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মানবতা, মানবিকতা এবং আবহমানকালের ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়কে প্রমাণ করে।" তিনি মনে করেন, কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সমাজে এই অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে।

এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরণের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতীয় কবির প্রতি অতীতে প্রদর্শিত সম্মান ও শ্রদ্ধার ঐতিহাসিক কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এছাড়া ১৯৭৯ সালের ২৫ মে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত র্যালিতেও শহীদ প্রেসিডেন্ট অংশ নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক ত্রিশালে 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না, বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে।

‘নজরুল সিটি’ গঠনের প্রস্তাব ও বিশ্বমঞ্চে নজরুল

প্রধানমন্ত্রী নজরুলকে বাংলা সাহিত্যের "নতুন ভোরের উদয় ও রুচির বিপ্লব" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিপ্লব, বিদ্রোহ, রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব-তমদ্দুন, ভজন-কীর্তন, প্রেম ও মানবিকতা—সব ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ। কবির স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে তাঁর বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কবির জীবন ও দর্শন বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় তিনি ১৯১৪ সালে নজরুলকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসন ও মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটানো জরুরি এবং এই ক্ষেত্রে কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শনিবার বিকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ শীর্ষক নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের সূচনা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে এই আয়োজন করতে পারায় সরকার গৌরববোধ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নজরুল ও বাংলাদেশ এক অবিভাজ্য সত্তা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।" তিনি কবির জন্মদিনে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবাইকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণ করার আহ্বান জানান। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি নজরুল জয়ন্তীর এই উৎসব উৎসর্গ করেন।

ফ্যাসিবাদের ক্ষতি ও মূল্যবোধের অবক্ষয়

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র মানুষের অধিকার হরণ আর অর্থ সম্পদই লুণ্ঠন করেনি, বরং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মানবতা, মানবিকতা এবং আবহমানকালের ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়কে প্রমাণ করে।" তিনি মনে করেন, কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সমাজে এই অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে।

এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরণের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতীয় কবির প্রতি অতীতে প্রদর্শিত সম্মান ও শ্রদ্ধার ঐতিহাসিক কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এছাড়া ১৯৭৯ সালের ২৫ মে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত র্যালিতেও শহীদ প্রেসিডেন্ট অংশ নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক ত্রিশালে 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না, বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে।

‘নজরুল সিটি’ গঠনের প্রস্তাব ও বিশ্বমঞ্চে নজরুল

প্রধানমন্ত্রী নজরুলকে বাংলা সাহিত্যের "নতুন ভোরের উদয় ও রুচির বিপ্লব" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিপ্লব, বিদ্রোহ, রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব-তমদ্দুন, ভজন-কীর্তন, প্রেম ও মানবিকতা—সব ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ। কবির স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে তাঁর বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কবির জীবন ও দর্শন বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় তিনি ১৯১৪ সালে নজরুলকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ