ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের (দাড়ি ও টুপি) কারণে রাফাত হুসাইন নামের এক প্রবীণ মুসলিম শোরুম মালিককে চরম হেনস্তা ও গালাগাল করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী নারী। গত ১৩ জুন (শনিবার) বিকেলে জুহুর 'মান্নাত এথনিক ডিজাইনার' শোরুমে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজেকে বাঁচাতে থানায় আশ্রয় নিলে প্রায় ১৫০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা থানা ঘেরাও করে তাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়কে নিশানা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলার ঘটনা থামছেই না। এবার খোদ মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এক প্রবীণ মুসলিম শোরুম মালিককে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও উগ্র সাম্প্রদায়িক স্লোগানের মাধ্যমে কোণঠাসা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম রাফাত হুসাইন, যিনি জুহুতে 'মান্নাত এথনিক ডিজাইনার' নামক একটি শেরওয়ানি ও স্যুটের শোরুম পরিচালনা করেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রাফাত হুসাইন জানান, গত ১৩ জুন শনিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ৪ জন নারী বিয়ের শেরওয়ানি ও স্যুট কেনার বাহানায় তার দোকানে প্রবেশ করেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তারা মুসলিমদের জীবনধারা এবং কাজ নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, উগ্র ও অবমাননাকর মন্তব্য শুরু করেন। রাফাত হুসাইন বলেন, "তারা আচমকা দাঁড়িয়ে যান এবং আমার সাথে চরম ভদ্রতাবিহীন আচরণ শুরু করেন। তারা বলতে থাকেন— 'তোমরা মুসলমান, তোমরা এক বিশেষ উপায়ে বসবাস করো এবং তোমাদের কাজ করার পদ্ধতি ভুল'।"
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাফাত হুসাইন দোকান থেকে কোনোমতে বের হয়ে নিকটস্থ থানায় ছুটে যান। কিন্তু শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, তিনি থানায় পৌঁছানোর ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবকের দল থানা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করে ফেলে। তারা বর্তমানে পুরো ভারতে চলা উগ্র সাম্প্রদায়িক স্লোগানগুলো দিতে শুরু করে।
রাফাত হুসাইনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ভেতরের একটি কক্ষে সুরক্ষায় রাখলেও, বাইরে থাকা উগ্র জনতার সাহস এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যুবক তাকে পিটিয়ে মারার জন্য থানার ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালায়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আসল অপরাধী ওই নারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগী রাফাত হুসাইনের বিরুদ্ধেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে।
থানার ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় রাফাত হুসাইন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান এবং দলটির নেতা ইমতিয়াজ জলিলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্য চান। ইমতিয়াজ জলিল তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের (DCP) সাথে কথা বলেন। রাফাত হুসাইনের অভিযোগ, এআইএমআইএম নেতাদের ফোন আসার পর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা ভূষণ মোরে বাইরে ১৫০ জনের তাণ্ডব ও স্লোগান চলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং মিথ্যা বলেন।
বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই মুসলিম ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, "এখন আমার নিজের শোরুমে দাঁড়াতেও ভয় লাগে। কে জানে কাল কে কোথা থেকে এসে আমার ওপর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দেবে! আমার একমাত্র অপরাধ হলো আমি দাড়ি ও টুপি পরে জুহুতে আমার শোরুমে বসেছিলাম।"
রাফাত হুসাইনের দৃঢ় বিশ্বাস, এই হামলাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। বিয়ের পোশাক কেনার বাহানায় আসা নারীরা কীভাবে এত দ্রুত ১৫০ জনের উগ্র জনতা জড়ো করল— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছে আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার জন্য কাউকে চুক্তি (কন্ট্রাক্ট) দেওয়া হয়েছিল। আমি ভাগ্যক্রমে থানায় দৌড়ে গিয়ে বেঁচে ফিরেছি।" এই ঘটনার ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা এবং পুলিশের একপেশে ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের (দাড়ি ও টুপি) কারণে রাফাত হুসাইন নামের এক প্রবীণ মুসলিম শোরুম মালিককে চরম হেনস্তা ও গালাগাল করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী নারী। গত ১৩ জুন (শনিবার) বিকেলে জুহুর 'মান্নাত এথনিক ডিজাইনার' শোরুমে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজেকে বাঁচাতে থানায় আশ্রয় নিলে প্রায় ১৫০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা থানা ঘেরাও করে তাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়কে নিশানা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলার ঘটনা থামছেই না। এবার খোদ মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এক প্রবীণ মুসলিম শোরুম মালিককে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও উগ্র সাম্প্রদায়িক স্লোগানের মাধ্যমে কোণঠাসা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম রাফাত হুসাইন, যিনি জুহুতে 'মান্নাত এথনিক ডিজাইনার' নামক একটি শেরওয়ানি ও স্যুটের শোরুম পরিচালনা করেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রাফাত হুসাইন জানান, গত ১৩ জুন শনিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ৪ জন নারী বিয়ের শেরওয়ানি ও স্যুট কেনার বাহানায় তার দোকানে প্রবেশ করেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তারা মুসলিমদের জীবনধারা এবং কাজ নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, উগ্র ও অবমাননাকর মন্তব্য শুরু করেন। রাফাত হুসাইন বলেন, "তারা আচমকা দাঁড়িয়ে যান এবং আমার সাথে চরম ভদ্রতাবিহীন আচরণ শুরু করেন। তারা বলতে থাকেন— 'তোমরা মুসলমান, তোমরা এক বিশেষ উপায়ে বসবাস করো এবং তোমাদের কাজ করার পদ্ধতি ভুল'।"
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাফাত হুসাইন দোকান থেকে কোনোমতে বের হয়ে নিকটস্থ থানায় ছুটে যান। কিন্তু শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, তিনি থানায় পৌঁছানোর ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবকের দল থানা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করে ফেলে। তারা বর্তমানে পুরো ভারতে চলা উগ্র সাম্প্রদায়িক স্লোগানগুলো দিতে শুরু করে।
রাফাত হুসাইনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ভেতরের একটি কক্ষে সুরক্ষায় রাখলেও, বাইরে থাকা উগ্র জনতার সাহস এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যুবক তাকে পিটিয়ে মারার জন্য থানার ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালায়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আসল অপরাধী ওই নারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগী রাফাত হুসাইনের বিরুদ্ধেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে।
থানার ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় রাফাত হুসাইন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান এবং দলটির নেতা ইমতিয়াজ জলিলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্য চান। ইমতিয়াজ জলিল তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের (DCP) সাথে কথা বলেন। রাফাত হুসাইনের অভিযোগ, এআইএমআইএম নেতাদের ফোন আসার পর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা ভূষণ মোরে বাইরে ১৫০ জনের তাণ্ডব ও স্লোগান চলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং মিথ্যা বলেন।
বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই মুসলিম ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, "এখন আমার নিজের শোরুমে দাঁড়াতেও ভয় লাগে। কে জানে কাল কে কোথা থেকে এসে আমার ওপর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দেবে! আমার একমাত্র অপরাধ হলো আমি দাড়ি ও টুপি পরে জুহুতে আমার শোরুমে বসেছিলাম।"
রাফাত হুসাইনের দৃঢ় বিশ্বাস, এই হামলাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। বিয়ের পোশাক কেনার বাহানায় আসা নারীরা কীভাবে এত দ্রুত ১৫০ জনের উগ্র জনতা জড়ো করল— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছে আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার জন্য কাউকে চুক্তি (কন্ট্রাক্ট) দেওয়া হয়েছিল। আমি ভাগ্যক্রমে থানায় দৌড়ে গিয়ে বেঁচে ফিরেছি।" এই ঘটনার ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা এবং পুলিশের একপেশে ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন