বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

মোদির বুলডোজার নীতি ও মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে জমিয়ত প্রধানের হুঙ্কার; ইতিহাস না জেনে যারা সমালোচনা করছে তারা মূর্খ

১৮০৩ সালে স্বাধীনতার জন্যই জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল: মাওলানা আরশাদ মাদানি



১৮০৩ সালে স্বাধীনতার জন্যই জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল: মাওলানা আরশাদ মাদানি

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের অবদান এবং বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানি। গতকাল (২৩ জুন) উত্তরাখণ্ডের রূড়কির কালিয়ারে জমিয়তের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ১৮০৩ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ছিল মূলত দেশের মুক্তির জন্য পবিত্র 'জিহাদ'। বর্তমান ভারতের বুলডোজার রাজনীতি ও মসজিদ ভাঙার তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।

ভারতের বিখ্যাত মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানি ইতিহাস ও বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এক যুগান্তকারী বক্তব্য দিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার রূড়কির নিকটবর্তী কালিয়ারে আয়োজিত এক বিশাল উলামা ও হাফেজে কুরআন সমাবেশে তিনি এই হুঙ্কার ছাড়েন।

স্বাধীনতার প্রথম ডাক ও জিহাদ

উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়াইয়ে মাদরাসা ও আলেমদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাওলানা মাদানি বলেন, “১৮০৩ সালে যখন দেশ ব্রিটিশদের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিল, তখন এই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম 'জিহাদ'-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে এবং দেশকে স্বাধীন করতে প্রতিটি মুসলমানের জন্য এই সংগ্রামে অংশ নেওয়া ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

তিনি বর্তমান সমালোচকদের ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সে সময় দাসত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব ছিল। এই আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল দেশের মাদরাসাগুলো। যারা আজ এই ইতিহাসের সমালোচনা করছে, তারা মূলত ভারতের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ও মূর্খ।”

বর্তমান ভারতে মসজিদ ও মুসলিম নিধন

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের উগ্র নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন জমিয়ত প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হচ্ছে।

মাওলানা মাদানি বলেন, “নরেন্দ্র মোদির বর্তমান সরকার বেছে বেছে মুসলমানদের মসজিদগুলো ভেঙে ফেলছে। স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতার মসনদে বসা শাসকেরা মুসলমানদের ক্ষতি করা শুরু করেছিল। একের পর এক সরকার মুসলমানদের দাঙ্গা ও অশান্তির বেড়াজালে আটকে রেখেছে।”

বুলডোজার সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে প্রবীণ এই নেতা বলেন, “আজ শুধু মুসলমান নয়, সরাসরি ইসলামকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশে মব লিঞ্চিং (গণপিটুনি) এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।”

সম্প্রীতি ও ভালোবাসার আহ্বান

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলেও মাওলানা মাদানি দেশের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঘৃণা দিয়ে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না।

“ভালোবাসা ও স্নেহ ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না। আপনি যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসেন, তবে আপনাকে ঘৃণার রাজনীতি বর্জন করে ভালোবাসার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে।” তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেমের পরীক্ষা।

মানবিকতায় বৈষম্যহীন মুসলিম সমাজ

পশ্চিমবঙ্গের বন্যার উদাহরণ টেনে মাওলানা মাদানি বলেন, মুসলিমরা সবসময়ই মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিল। তিনি মনে করিয়ে দেন, “যখন বাংলায় বন্যা এসেছিল, জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে খাবার ও সাহায্য পৌঁছে দিয়েছিল। আমরা কখনো বৈষম্য করিনি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ সেই উপকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


১৮০৩ সালে স্বাধীনতার জন্যই জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল: মাওলানা আরশাদ মাদানি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের অবদান এবং বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানি। গতকাল (২৩ জুন) উত্তরাখণ্ডের রূড়কির কালিয়ারে জমিয়তের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ১৮০৩ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ছিল মূলত দেশের মুক্তির জন্য পবিত্র 'জিহাদ'। বর্তমান ভারতের বুলডোজার রাজনীতি ও মসজিদ ভাঙার তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।

ভারতের বিখ্যাত মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানি ইতিহাস ও বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এক যুগান্তকারী বক্তব্য দিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার রূড়কির নিকটবর্তী কালিয়ারে আয়োজিত এক বিশাল উলামা ও হাফেজে কুরআন সমাবেশে তিনি এই হুঙ্কার ছাড়েন।

স্বাধীনতার প্রথম ডাক ও জিহাদ

উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়াইয়ে মাদরাসা ও আলেমদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাওলানা মাদানি বলেন, “১৮০৩ সালে যখন দেশ ব্রিটিশদের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিল, তখন এই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম 'জিহাদ'-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে এবং দেশকে স্বাধীন করতে প্রতিটি মুসলমানের জন্য এই সংগ্রামে অংশ নেওয়া ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

তিনি বর্তমান সমালোচকদের ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সে সময় দাসত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব ছিল। এই আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল দেশের মাদরাসাগুলো। যারা আজ এই ইতিহাসের সমালোচনা করছে, তারা মূলত ভারতের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ও মূর্খ।”

বর্তমান ভারতে মসজিদ ও মুসলিম নিধন

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের উগ্র নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন জমিয়ত প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হচ্ছে।

মাওলানা মাদানি বলেন, “নরেন্দ্র মোদির বর্তমান সরকার বেছে বেছে মুসলমানদের মসজিদগুলো ভেঙে ফেলছে। স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতার মসনদে বসা শাসকেরা মুসলমানদের ক্ষতি করা শুরু করেছিল। একের পর এক সরকার মুসলমানদের দাঙ্গা ও অশান্তির বেড়াজালে আটকে রেখেছে।”

বুলডোজার সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে প্রবীণ এই নেতা বলেন, “আজ শুধু মুসলমান নয়, সরাসরি ইসলামকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশে মব লিঞ্চিং (গণপিটুনি) এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।”

সম্প্রীতি ও ভালোবাসার আহ্বান

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলেও মাওলানা মাদানি দেশের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঘৃণা দিয়ে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না।

“ভালোবাসা ও স্নেহ ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না। আপনি যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসেন, তবে আপনাকে ঘৃণার রাজনীতি বর্জন করে ভালোবাসার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে।” তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেমের পরীক্ষা।

মানবিকতায় বৈষম্যহীন মুসলিম সমাজ

পশ্চিমবঙ্গের বন্যার উদাহরণ টেনে মাওলানা মাদানি বলেন, মুসলিমরা সবসময়ই মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিল। তিনি মনে করিয়ে দেন, “যখন বাংলায় বন্যা এসেছিল, জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে খাবার ও সাহায্য পৌঁছে দিয়েছিল। আমরা কখনো বৈষম্য করিনি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ সেই উপকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ