বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় এক মাস পার হলেও থেমে নেই ইসরাইলি হামলা। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব লঙ্ঘনের তথ্য প্রতিদিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলু

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, ইসরাইলি সেনারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার অমান্য করছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে—

  • তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে সামরিক অনুপ্রবেশ,

  • চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও তাঁবু গাজায় প্রবেশে বাধা,

  • গুলি, গোলাবর্ষণ ও বেসামরিক এলাকায় হামলা

থাওয়াবতেহ বলেন, “চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু দখলদার বাহিনী এখন পর্যন্ত ১৯৪ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।”

‘হলুদ রেখা’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই সীমারেখাকে, যেখান থেকে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরাইলি সেনারা তাদের অভিযান প্রত্যাহার করে। এটি এক ধরনের অদৃশ্য বিভাজন রেখা, যা গাজার দক্ষিণাঞ্চল ও খান ইউনিসের উত্তরাংশের মাঝামাঝি অবস্থিত।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী এই রেখা অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। থাওয়াবতেহ সতর্ক করে বলেন, “হলুদ রেখার কাছাকাছি যাওয়া বিপজ্জনক, কারণ ইসরাইল আগেও কোনো সতর্কতা ছাড়াই বেসামরিকদের হত্যা করেছে।”

ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, ইসরাইল এখনো ত্রাণবাহী ট্রাকের পূর্ণ প্রবেশ অনুমতি দেয়নি এবং রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করেনি, যার মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হতো। তিনি বলেন, “ইসরাইল চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে, যা মানবিক সংকট আরও বাড়াচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরাইলের এই ধরনের লঙ্ঘন শুধু শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে না, বরং গাজার মানবিক পরিস্থিতিকেও ভয়াবহ করে তুলছে।

গাজা কর্তৃপক্ষের ভাষায়, “শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি কাগজে আছে, বাস্তবে এখনো যুদ্ধ চলছে।”


বিষয় : আন্তর্জাতিক নৌহামলা মধ্যপ্রাচ্য ইসরাইল গাজা ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় এক মাস পার হলেও থেমে নেই ইসরাইলি হামলা। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব লঙ্ঘনের তথ্য প্রতিদিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলু

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, ইসরাইলি সেনারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার অমান্য করছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে—

  • তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে সামরিক অনুপ্রবেশ,

  • চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও তাঁবু গাজায় প্রবেশে বাধা,

  • গুলি, গোলাবর্ষণ ও বেসামরিক এলাকায় হামলা

থাওয়াবতেহ বলেন, “চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু দখলদার বাহিনী এখন পর্যন্ত ১৯৪ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।”

‘হলুদ রেখা’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই সীমারেখাকে, যেখান থেকে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরাইলি সেনারা তাদের অভিযান প্রত্যাহার করে। এটি এক ধরনের অদৃশ্য বিভাজন রেখা, যা গাজার দক্ষিণাঞ্চল ও খান ইউনিসের উত্তরাংশের মাঝামাঝি অবস্থিত।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী এই রেখা অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। থাওয়াবতেহ সতর্ক করে বলেন, “হলুদ রেখার কাছাকাছি যাওয়া বিপজ্জনক, কারণ ইসরাইল আগেও কোনো সতর্কতা ছাড়াই বেসামরিকদের হত্যা করেছে।”

ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, ইসরাইল এখনো ত্রাণবাহী ট্রাকের পূর্ণ প্রবেশ অনুমতি দেয়নি এবং রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করেনি, যার মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হতো। তিনি বলেন, “ইসরাইল চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে, যা মানবিক সংকট আরও বাড়াচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরাইলের এই ধরনের লঙ্ঘন শুধু শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে না, বরং গাজার মানবিক পরিস্থিতিকেও ভয়াবহ করে তুলছে।

গাজা কর্তৃপক্ষের ভাষায়, “শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি কাগজে আছে, বাস্তবে এখনো যুদ্ধ চলছে।”



কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত