ইসরায়েলে আলোচিত বন্দি নির্যাতন ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত টোমার-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামরিক বাহিনী ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ফাঁসের পর পাঁচজন রিজার্ভ সেনাকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত টোমার-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সামরিক বাহিনীর বন্দি নির্যাতন সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন।
রবিবার টোমার-ইয়েরুশালমি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই নিখোঁজ হন। এরপর ইসরায়েলি গণমাধ্যমে তার আত্মহত্যার আশঙ্কা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরে জানা যায়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন—তার ফোনে থাকা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে।
২০২৪ সালে ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক আদালত পাঁচজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তারা বন্দির মলদ্বারের কাছে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে তাকে নির্যাতন করেছিলেন—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, পুলিশ টোমার-ইয়েরুশালমির বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, প্রমাণ নষ্ট ও অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মামলা করেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, তিনি পদত্যাগের পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত তথ্য সুরক্ষার জন্য লুকিয়ে পড়েছিলেন।
জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন গাভি বলেছেন, “কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া ভিডিওটি দক্ষিণ ইসরায়েলের সদে তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে তোলা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীনই টোমার-ইয়েরুশালমি পদত্যাগ করেন এবং তার পদত্যাগপত্রে স্বীকার করেন, ভিডিওটি তার অফিস থেকেই গণমাধ্যমে পৌঁছেছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ঘটনা ইসরায়েলের বন্দিশিবিরে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং দায়মুক্ত সংস্কৃতির একটি উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
বিষয় : মানবাধিকার ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য ফিলিস্তিন

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলে আলোচিত বন্দি নির্যাতন ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত টোমার-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামরিক বাহিনী ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ফাঁসের পর পাঁচজন রিজার্ভ সেনাকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত টোমার-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সামরিক বাহিনীর বন্দি নির্যাতন সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন।
রবিবার টোমার-ইয়েরুশালমি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই নিখোঁজ হন। এরপর ইসরায়েলি গণমাধ্যমে তার আত্মহত্যার আশঙ্কা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরে জানা যায়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন—তার ফোনে থাকা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে।
২০২৪ সালে ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক আদালত পাঁচজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তারা বন্দির মলদ্বারের কাছে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে তাকে নির্যাতন করেছিলেন—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, পুলিশ টোমার-ইয়েরুশালমির বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, প্রমাণ নষ্ট ও অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মামলা করেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, তিনি পদত্যাগের পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত তথ্য সুরক্ষার জন্য লুকিয়ে পড়েছিলেন।
জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন গাভি বলেছেন, “কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া ভিডিওটি দক্ষিণ ইসরায়েলের সদে তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে তোলা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীনই টোমার-ইয়েরুশালমি পদত্যাগ করেন এবং তার পদত্যাগপত্রে স্বীকার করেন, ভিডিওটি তার অফিস থেকেই গণমাধ্যমে পৌঁছেছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ঘটনা ইসরায়েলের বন্দিশিবিরে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং দায়মুক্ত সংস্কৃতির একটি উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন