শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি অবরোধ ও টানা হামলায় বিপর্যস্ত গাজায় শিশুদের শৈশব থমকে গেছে; নতুন বছরেও তাদের আকাঙ্ক্ষা কেবল ভয়হীন জীবন ও পড়াশোনার সুযোগ

গাজার শিশুদের চোখে ২০২৫ ছিল মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমাবর্ষণের বছর — ২০২৬ এ তাদের চাওয়া নিরাপত্তা ও শিক্ষা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজার শিশুদের চোখে ২০২৫ ছিল মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমাবর্ষণের বছর — ২০২৬ এ তাদের চাওয়া নিরাপত্তা ও শিক্ষা

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য শিশুরা নতুন বছরকে নতুন স্বপ্নে বরণ করে নেয়, সেখানে গাজার শিশুদের কাছে ২০২৫ সালটি ছিল কেবল মৃত্যু, ক্ষুধা আর অবিরাম বোমা বর্ষণের নামান্তর। ২০২৬ সালে তাদের চাওয়া আকাশচুম্বী কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নিরাপদ একটু আশ্রয় আর স্কুলে ফেরার সুযোগ।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। গাজার হাজার হাজার শিশুর কাছে নতুন বছর মানে কোনো উৎসব নয়, বরং স্থগিত হয়ে যাওয়া স্বপ্ন আর টিকে থাকার এক কঠিন সংগ্রাম। সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিশুদের সাথে কথা বলে তাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার চিত্র উঠে এসেছে।

১২ বছর বয়সী নিজার আল-কুর্দ বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি জরাজীর্ণ স্কুলের শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। নিজার জানায়, "২০২৫ সালে আমরা শুধু একটু নিরাপদ জায়গা খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও শান্তি ছিল না।" খাবার খুঁজতে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর পড়ে হাত ভেঙে ফেলা নিজার আরও বলে, "সকালে স্কুলে যাওয়া, মসজিদে নামাজ পড়া আর বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করা—এগুলো অন্য দেশের শিশুদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু গাজায় আমাদের জন্য এটি এখন অপার্থিব বিলাসিতা।"

১৫ বছর বয়সী মাহমুদ শাহিন তার বাবাকে হারিয়েছে বোমা হামলায়। মা চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসাধীন। ছোট ভাইকে নিয়ে একাকী লড়াই করা মাহমুদ এখন তাবুতেই ছোট একটি দোকান দিয়ে জীবন চালাচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধ তাদের ঘর, নিরাপত্তা এবং শিক্ষা—সব কেড়ে নিয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থা (UNRWA) এর তথ্যমতে, গাজার প্রায় ১০ লাখ শিশু বর্তমানে শিক্ষা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত এবং তারা চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু শিক্ষা নয়, তীব্র খাদ্যাভাবও এই শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ১৪ বছর বয়সী দেলা আফানে জানায়, "আমার ছোট ভাই ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে বসে থাকত। আমরা শুধু ভয়হীন একটা স্বাভাবিক জীবন চাই।"

১১ বছর বয়সী ফাতেমা জেহরা মাসউদ গত বছরটিকে তিনটি শব্দে সংজ্ঞায়িত করেছে—'মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমা'। সে জানায়, তার অধিকাংশ বন্ধু আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে। বর্তমানে তারা পুড়ে যাওয়া অন্ধকার শ্রেণিকক্ষে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গাজার এই শিশুদের একটাই দাবি, ২০২৬ সাল যেন তাদের জন্য অন্তত একটু নিরাপত্তা আর স্কুলে ফেরার বার্তা নিয়ে আসে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় খাদ্যকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। বিশ্বের কাছে গাজার শিশুদের এই করুণ আকুতি এখন কেবলই মানবিক সহায়তার নয়, বরং স্থায়ী শান্তির।

বিষয় : জাতিসংঘ গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


গাজার শিশুদের চোখে ২০২৫ ছিল মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমাবর্ষণের বছর — ২০২৬ এ তাদের চাওয়া নিরাপত্তা ও শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য শিশুরা নতুন বছরকে নতুন স্বপ্নে বরণ করে নেয়, সেখানে গাজার শিশুদের কাছে ২০২৫ সালটি ছিল কেবল মৃত্যু, ক্ষুধা আর অবিরাম বোমা বর্ষণের নামান্তর। ২০২৬ সালে তাদের চাওয়া আকাশচুম্বী কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নিরাপদ একটু আশ্রয় আর স্কুলে ফেরার সুযোগ।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। গাজার হাজার হাজার শিশুর কাছে নতুন বছর মানে কোনো উৎসব নয়, বরং স্থগিত হয়ে যাওয়া স্বপ্ন আর টিকে থাকার এক কঠিন সংগ্রাম। সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিশুদের সাথে কথা বলে তাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার চিত্র উঠে এসেছে।

১২ বছর বয়সী নিজার আল-কুর্দ বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি জরাজীর্ণ স্কুলের শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। নিজার জানায়, "২০২৫ সালে আমরা শুধু একটু নিরাপদ জায়গা খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও শান্তি ছিল না।" খাবার খুঁজতে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর পড়ে হাত ভেঙে ফেলা নিজার আরও বলে, "সকালে স্কুলে যাওয়া, মসজিদে নামাজ পড়া আর বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করা—এগুলো অন্য দেশের শিশুদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু গাজায় আমাদের জন্য এটি এখন অপার্থিব বিলাসিতা।"

১৫ বছর বয়সী মাহমুদ শাহিন তার বাবাকে হারিয়েছে বোমা হামলায়। মা চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসাধীন। ছোট ভাইকে নিয়ে একাকী লড়াই করা মাহমুদ এখন তাবুতেই ছোট একটি দোকান দিয়ে জীবন চালাচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধ তাদের ঘর, নিরাপত্তা এবং শিক্ষা—সব কেড়ে নিয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থা (UNRWA) এর তথ্যমতে, গাজার প্রায় ১০ লাখ শিশু বর্তমানে শিক্ষা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত এবং তারা চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু শিক্ষা নয়, তীব্র খাদ্যাভাবও এই শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ১৪ বছর বয়সী দেলা আফানে জানায়, "আমার ছোট ভাই ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে বসে থাকত। আমরা শুধু ভয়হীন একটা স্বাভাবিক জীবন চাই।"

১১ বছর বয়সী ফাতেমা জেহরা মাসউদ গত বছরটিকে তিনটি শব্দে সংজ্ঞায়িত করেছে—'মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমা'। সে জানায়, তার অধিকাংশ বন্ধু আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে। বর্তমানে তারা পুড়ে যাওয়া অন্ধকার শ্রেণিকক্ষে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গাজার এই শিশুদের একটাই দাবি, ২০২৬ সাল যেন তাদের জন্য অন্তত একটু নিরাপত্তা আর স্কুলে ফেরার বার্তা নিয়ে আসে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় খাদ্যকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। বিশ্বের কাছে গাজার শিশুদের এই করুণ আকুতি এখন কেবলই মানবিক সহায়তার নয়, বরং স্থায়ী শান্তির।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত