শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

শিক্ষা ও আবাসস্থলের নিরাপত্তাহীনতায় ফিলিস্তিনি নাগরিকরা; উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও পথরোধ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি তাণ্ডব: কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর গ্যাস ও সাউন্ড বোমা হামলা



পশ্চিম তীরে ইসরাইলি তাণ্ডব: কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর গ্যাস ও সাউন্ড বোমা হামলা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষার অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সোমবার সকালে আল-খলিল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একইসাথে সালফিত এলাকায় উগ্রবাদী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সশস্ত্র পাহারায় ফিলিস্তিনি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

ইসরাইলি সামরিক প্রশাসন ও উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই এ ধরনের অভিযানকে 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' হিসেবে দাবি করে থাকে। সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সন্দেহজনক গতিবিধি রোধে তারা মাঝে মাঝে 'নন-লেথাল' বা অ-মারাত্মক অস্ত্র (যেমন টিয়ার গ্যাস বা সাউন্ড বোমা) ব্যবহার করে। উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীরা দাবি করে থাকে যে, উক্ত এলাকাগুলো তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের অংশ, তাই সেখানে তাদের যাতায়াত এবং উপাসনার অধিকার রয়েছে। রাস্তা বন্ধ করার বিষয়টিকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বেষ্টনী হিসেবে প্রচার করে। তবে বেসামরিক শিশুদের ওপর হামলার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

১৩ এপ্রিল, সোমবার সকালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-খলিল (হেব্রন) শহরের নিকটবর্তী মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার উম্মুল খায়ের গ্রামে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (WAFA)-র তথ্যানুযায়ী, কোমলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোমা ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রাতে, যখন একদল উগ্রবাদী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী স্কুলের প্রধান সড়কে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে সকালে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথে পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেনারা তাদের ওপর চড়াও হয়।

অন্যদিকে, সালফিত শহরের কাফর হারিস গ্রামে ভোরে কয়েক ডজন উগ্রবাদী ইসরাইলি বসতবাড়িতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সরাসরি পাহারায় এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও যানবাহনে পাথর নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার পর তারা বিতর্কিতভাবে গ্রামের একটি মাজারে ধর্মীয় আচার পালন করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ার অধিকার অবিচ্ছেদ্য। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, দখলদার শক্তির দায়িত্ব হলো অধিকৃত অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, তাদের ওপর হামলা চালানো বা উস্কানি দেওয়া নয়।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে বেড়েছে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এসব হামলা ঘটা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নজির অত্যন্ত নগণ্য। এটি মূলত দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মৌলিক নাগরিক অধিকারকে পদদলিত করছে।

একটি শিশু যখন স্কুলে যাওয়ার পথে বোমার মুখে পড়ে, তখন বৈশ্বিক মানবাধিকারের বুলি কতটুকু কার্যকর? স্বচ্ছ তদন্ত, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উগ্রবাদীদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনাই এখন একমাত্র পথ।

বিষয় : ফিলিস্তিন পশ্চিম তীর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


পশ্চিম তীরে ইসরাইলি তাণ্ডব: কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর গ্যাস ও সাউন্ড বোমা হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষার অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সোমবার সকালে আল-খলিল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একইসাথে সালফিত এলাকায় উগ্রবাদী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সশস্ত্র পাহারায় ফিলিস্তিনি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

ইসরাইলি সামরিক প্রশাসন ও উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই এ ধরনের অভিযানকে 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' হিসেবে দাবি করে থাকে। সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সন্দেহজনক গতিবিধি রোধে তারা মাঝে মাঝে 'নন-লেথাল' বা অ-মারাত্মক অস্ত্র (যেমন টিয়ার গ্যাস বা সাউন্ড বোমা) ব্যবহার করে। উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীরা দাবি করে থাকে যে, উক্ত এলাকাগুলো তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের অংশ, তাই সেখানে তাদের যাতায়াত এবং উপাসনার অধিকার রয়েছে। রাস্তা বন্ধ করার বিষয়টিকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বেষ্টনী হিসেবে প্রচার করে। তবে বেসামরিক শিশুদের ওপর হামলার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

১৩ এপ্রিল, সোমবার সকালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-খলিল (হেব্রন) শহরের নিকটবর্তী মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার উম্মুল খায়ের গ্রামে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (WAFA)-র তথ্যানুযায়ী, কোমলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোমা ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রাতে, যখন একদল উগ্রবাদী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী স্কুলের প্রধান সড়কে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে সকালে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথে পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেনারা তাদের ওপর চড়াও হয়।

অন্যদিকে, সালফিত শহরের কাফর হারিস গ্রামে ভোরে কয়েক ডজন উগ্রবাদী ইসরাইলি বসতবাড়িতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সরাসরি পাহারায় এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও যানবাহনে পাথর নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার পর তারা বিতর্কিতভাবে গ্রামের একটি মাজারে ধর্মীয় আচার পালন করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ার অধিকার অবিচ্ছেদ্য। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, দখলদার শক্তির দায়িত্ব হলো অধিকৃত অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, তাদের ওপর হামলা চালানো বা উস্কানি দেওয়া নয়।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে বেড়েছে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এসব হামলা ঘটা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নজির অত্যন্ত নগণ্য। এটি মূলত দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মৌলিক নাগরিক অধিকারকে পদদলিত করছে।

একটি শিশু যখন স্কুলে যাওয়ার পথে বোমার মুখে পড়ে, তখন বৈশ্বিক মানবাধিকারের বুলি কতটুকু কার্যকর? স্বচ্ছ তদন্ত, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উগ্রবাদীদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনাই এখন একমাত্র পথ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত