পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দিতে চাইলেও কারিগরি জটিলতায় আটকে আছে ইরান। যুদ্ধকালীন সময়ে নিজেদের পেতে রাখা সমুদ্র মাইনগুলোর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় এবং সেগুলো দ্রুত অপসারণের সক্ষমতা না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, ইরান সরকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পারছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান ছোট নৌকার সাহায্যে এই প্রণালীতে অসংখ্য নেভাল মাইন বা সমুদ্র মাইন স্থাপন করেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পথে থাকলেও তেহরান এখন বিপাকে পড়েছে, কারণ সমুদ্রের স্রোতে অনেক মাইন তাদের নির্ধারিত অবস্থান থেকে সরে গেছে (Drifting Mines)।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান এই মাইনগুলো মোতায়েনের সময় যথাযথ রেকর্ড রাখেনি অথবা তাদের কাছে এই মাইনগুলো দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি নেই। ফলে তেহরান একটি সংকীর্ণ করিডোর দিয়ে টোলের বিনিময়ে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও পুরো পথটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটির 'সম্পূর্ণ এবং নিরাপদ' উন্মুক্তকরণের দাবি জানিয়ে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, "প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে" প্রণালীটি খোলা রাখা হবে। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই 'প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা' শব্দটির মাধ্যমে মূলত মাইনের অবস্থান হারিয়ে ফেলাকেই স্বীকার করে নিয়েছে ইরান।
বিশ্বের জ্বালানি তেল এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রধান এই রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে আছে। ইসলামাবাদে চলমান এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে দ্রুত সমুদ্রপথ নিরাপদ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাইন অপসারণ করা মাইন স্থাপনের চেয়ে বহুগুণ কঠিন হওয়ায় এই সংকট সহসা কাটছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : ইরান হরমুজ প্রণালী

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দিতে চাইলেও কারিগরি জটিলতায় আটকে আছে ইরান। যুদ্ধকালীন সময়ে নিজেদের পেতে রাখা সমুদ্র মাইনগুলোর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় এবং সেগুলো দ্রুত অপসারণের সক্ষমতা না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, ইরান সরকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পারছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান ছোট নৌকার সাহায্যে এই প্রণালীতে অসংখ্য নেভাল মাইন বা সমুদ্র মাইন স্থাপন করেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পথে থাকলেও তেহরান এখন বিপাকে পড়েছে, কারণ সমুদ্রের স্রোতে অনেক মাইন তাদের নির্ধারিত অবস্থান থেকে সরে গেছে (Drifting Mines)।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান এই মাইনগুলো মোতায়েনের সময় যথাযথ রেকর্ড রাখেনি অথবা তাদের কাছে এই মাইনগুলো দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি নেই। ফলে তেহরান একটি সংকীর্ণ করিডোর দিয়ে টোলের বিনিময়ে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও পুরো পথটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটির 'সম্পূর্ণ এবং নিরাপদ' উন্মুক্তকরণের দাবি জানিয়ে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, "প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে" প্রণালীটি খোলা রাখা হবে। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই 'প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা' শব্দটির মাধ্যমে মূলত মাইনের অবস্থান হারিয়ে ফেলাকেই স্বীকার করে নিয়েছে ইরান।
বিশ্বের জ্বালানি তেল এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রধান এই রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে আছে। ইসলামাবাদে চলমান এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে দ্রুত সমুদ্রপথ নিরাপদ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাইন অপসারণ করা মাইন স্থাপনের চেয়ে বহুগুণ কঠিন হওয়ায় এই সংকট সহসা কাটছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন