দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি শেষে অবশেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ সূচিত হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আজ রাত ৮টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG341। প্রায় ৩ ঘণ্টার সফর শেষে করাচি সময় রাত ১১টায় ফ্লাইটটি জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (PCAA) জানিয়েছে, বিমানের এই প্রথম ফ্লাইটটিকে স্বাগত জানাতে করাচি বিমানবন্দরে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট এই রুটে চলাচল করবে। ২০১২ সালের পর এটিই ঢাকা ও করাচির মধ্যে প্রথম নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান যোগাযোগ।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে নানাবিধ চড়াই-উতরাই দেখা দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ নতুন রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সময় ও খরচ—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এই সরাসরি আকাশপথ যোগাযোগ ব্যবসা, পর্যটন এবং দুই দেশের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে করাচি থেকে চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাকিস্তান গমন এবং পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পীদের ঢাকা সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সরাসরি যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি শেষে অবশেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ সূচিত হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আজ রাত ৮টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG341। প্রায় ৩ ঘণ্টার সফর শেষে করাচি সময় রাত ১১টায় ফ্লাইটটি জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (PCAA) জানিয়েছে, বিমানের এই প্রথম ফ্লাইটটিকে স্বাগত জানাতে করাচি বিমানবন্দরে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট এই রুটে চলাচল করবে। ২০১২ সালের পর এটিই ঢাকা ও করাচির মধ্যে প্রথম নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান যোগাযোগ।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে নানাবিধ চড়াই-উতরাই দেখা দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ নতুন রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সময় ও খরচ—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এই সরাসরি আকাশপথ যোগাযোগ ব্যবসা, পর্যটন এবং দুই দেশের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে করাচি থেকে চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাকিস্তান গমন এবং পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পীদের ঢাকা সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সরাসরি যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন