শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

পরিচয় লুকানোর অজুহাতে হয়রানি, নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ; আতঙ্কে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

উত্তরপ্রদেশে উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব: মুসলিম বৃদ্ধের চায়ের দোকানের নামফলক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরপ্রদেশে উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব: মুসলিম বৃদ্ধের চায়ের দোকানের নামফলক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে সাম্প্রদায়িক উস্কানির এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। একজন বয়োবৃদ্ধ মুসলিম চা বিক্রেতাকে জনসমক্ষে হেনস্তা করে তার দোকানের নামফলক সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করেছে একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেননি।

হাথরাস গেট থানা এলাকার রুহেরি বাইপাসের কাছে অবস্থিত শমসের খান নামের এক বৃদ্ধের চায়ের দোকান। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি "কুন্দন টি স্টল" নামে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন, যেখানে ব্যানারে "বাবা শমসের" নামটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে 'রাষ্ট্রীয় স্বাভিমান দল'-এর প্রতিষ্ঠাতা দীপক শর্মার নেতৃত্বে একদল কর্মী সেখানে চড়াও হয়।

তাদের অভিযোগ, শমসের খান "কুন্দন" (যার অর্থ খাঁটি সোনা) নামটি ব্যবহার করে নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করছেন। ভিডিওতে দীপক শর্মাকে বলতে শোনা যায়, "তোমার বাবা নাম রেখেছে শমসের, আর তুমি দোকানের নাম রাখবে কুন্দন?" বৃদ্ধ শমসের খান নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দোকানের ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা উগ্রপন্থীদের বাধা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। পুলিশের এই নির্লিপ্ততা ও নীরব সমর্থন নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে যেকোনো নাগরিকের যেকোনো ভাষায় বা নামে ব্যবসা করার আইনি অধিকার রয়েছে এবং "কুন্দন" শব্দটি কোনো বিশেষ ধর্মের একচেটিয়া নয়।

অপমানিত এবং আতঙ্কিত শমসের খান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি কেবল খেয়ে-পড়ে বাঁচার জন্য পরিশ্রম করছিলেন এবং তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এই ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, সামান্য অজুহাতে তাদের জীবিকা ও আত্মসম্মানের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য এক অশনিসংকেত।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


উত্তরপ্রদেশে উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব: মুসলিম বৃদ্ধের চায়ের দোকানের নামফলক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে সাম্প্রদায়িক উস্কানির এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। একজন বয়োবৃদ্ধ মুসলিম চা বিক্রেতাকে জনসমক্ষে হেনস্তা করে তার দোকানের নামফলক সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করেছে একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেননি।

হাথরাস গেট থানা এলাকার রুহেরি বাইপাসের কাছে অবস্থিত শমসের খান নামের এক বৃদ্ধের চায়ের দোকান। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি "কুন্দন টি স্টল" নামে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন, যেখানে ব্যানারে "বাবা শমসের" নামটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে 'রাষ্ট্রীয় স্বাভিমান দল'-এর প্রতিষ্ঠাতা দীপক শর্মার নেতৃত্বে একদল কর্মী সেখানে চড়াও হয়।

তাদের অভিযোগ, শমসের খান "কুন্দন" (যার অর্থ খাঁটি সোনা) নামটি ব্যবহার করে নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করছেন। ভিডিওতে দীপক শর্মাকে বলতে শোনা যায়, "তোমার বাবা নাম রেখেছে শমসের, আর তুমি দোকানের নাম রাখবে কুন্দন?" বৃদ্ধ শমসের খান নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দোকানের ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা উগ্রপন্থীদের বাধা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। পুলিশের এই নির্লিপ্ততা ও নীরব সমর্থন নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে যেকোনো নাগরিকের যেকোনো ভাষায় বা নামে ব্যবসা করার আইনি অধিকার রয়েছে এবং "কুন্দন" শব্দটি কোনো বিশেষ ধর্মের একচেটিয়া নয়।

অপমানিত এবং আতঙ্কিত শমসের খান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি কেবল খেয়ে-পড়ে বাঁচার জন্য পরিশ্রম করছিলেন এবং তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এই ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, সামান্য অজুহাতে তাদের জীবিকা ও আত্মসম্মানের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য এক অশনিসংকেত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত