আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে, পবিত্র রমজান মাসের ১৫ তারিখ ভোরে ফিলিস্তিনের হেব্রন (আল-খলিল) শহরের ঐতিহাসিক হারিমে ইব্রাহিমি মসজিদে সংঘটিত হয়েছিল এক নৃশংস গণহত্যা। ১৯৯৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উগ্রবাদী ইসরায়েলি সেটেলার বারুচ গোল্ডস্টাইনের গুলিতে ২৯ জন মুসল্লি নামাজরত অবস্থায় শহীদ হন। আজ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে তাজা, যার সাক্ষী দিচ্ছেন সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ইমাম শেখ আদিল ইদ্রিস।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তৎকালীন ইমাম শেখ আদিল ইদ্রিস বলেন, "আমরা যখন ফজরের নামাজের সেজদায় ছিলাম, ঠিক তখনই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনতে পাই। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন উগ্রপন্থী সদস্য গোল্ডস্টাইন পেছন থেকে মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। আমার চোখের সামনেই একের পর এক মুসল্লি লুটিয়ে পড়ছিলেন। পুরো মসজিদ চত্বর রক্তে ভিজে গিয়েছিল।" এই হামলায় শেখ আদিলের ভাই সেলিম শাহাদাত বরণ করেন এবং আরেক ভাই ওয়ালিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদটি ৯ মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়। এরপর যখন এটি পুনরায় খোলা হয়, তখন একটি বিতর্কিত ও একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মসজিদের ৫৪ শতাংশ অংশ ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করে একে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। হযরত ইয়াকুব (আ.) ও হযরত ইউসুফ (আ.)-এর মাকাম সম্বলিত অংশটিকে সিনাগগে রূপান্তরিত করা হয়।
২০২৬ সালে এসেও ইব্রাহিমি মসজিদের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন আরও কঠোর হয়েছে। শেখ আদিল ইদ্রিস জানান, বর্তমানে মাসে অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ বার এই মসজিদে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া:
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি 'সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' এখন এই পবিত্র স্থানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিষয় : ফিলিস্তিন

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে, পবিত্র রমজান মাসের ১৫ তারিখ ভোরে ফিলিস্তিনের হেব্রন (আল-খলিল) শহরের ঐতিহাসিক হারিমে ইব্রাহিমি মসজিদে সংঘটিত হয়েছিল এক নৃশংস গণহত্যা। ১৯৯৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উগ্রবাদী ইসরায়েলি সেটেলার বারুচ গোল্ডস্টাইনের গুলিতে ২৯ জন মুসল্লি নামাজরত অবস্থায় শহীদ হন। আজ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে তাজা, যার সাক্ষী দিচ্ছেন সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ইমাম শেখ আদিল ইদ্রিস।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তৎকালীন ইমাম শেখ আদিল ইদ্রিস বলেন, "আমরা যখন ফজরের নামাজের সেজদায় ছিলাম, ঠিক তখনই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনতে পাই। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন উগ্রপন্থী সদস্য গোল্ডস্টাইন পেছন থেকে মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। আমার চোখের সামনেই একের পর এক মুসল্লি লুটিয়ে পড়ছিলেন। পুরো মসজিদ চত্বর রক্তে ভিজে গিয়েছিল।" এই হামলায় শেখ আদিলের ভাই সেলিম শাহাদাত বরণ করেন এবং আরেক ভাই ওয়ালিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদটি ৯ মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়। এরপর যখন এটি পুনরায় খোলা হয়, তখন একটি বিতর্কিত ও একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মসজিদের ৫৪ শতাংশ অংশ ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করে একে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। হযরত ইয়াকুব (আ.) ও হযরত ইউসুফ (আ.)-এর মাকাম সম্বলিত অংশটিকে সিনাগগে রূপান্তরিত করা হয়।
২০২৬ সালে এসেও ইব্রাহিমি মসজিদের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন আরও কঠোর হয়েছে। শেখ আদিল ইদ্রিস জানান, বর্তমানে মাসে অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ বার এই মসজিদে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া:
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি 'সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' এখন এই পবিত্র স্থানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

আপনার মতামত লিখুন