অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের দক্ষিণে একটি ফিলিস্তিনি স্কুলে গভীর রাতে হামলা চালিয়েছে একদল উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। সোমবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় তারা স্কুলের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফিলিস্তিনি পতাকা ছিঁড়ে ফেলে এবং সেখানে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করে। এছাড়াও স্কুলের দেয়ালে "আরবদের মৃত্যু চাই"—এর মতো চরম উগ্র ও বর্ণবাদী স্লোগান লিখে এলাকা ত্যাগ করে তারা।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা আনদোলু এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোরে নাবলুসের হাওয়ারা বয়েজ হাই স্কুলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। বসতি স্থাপনকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্কুলের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে স্কুলের মূল খুঁটি থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা নামিয়ে ফেলে এবং দম্ভের সাথে সেখানে ইসরায়েলি পতাকা টাঙিয়ে দেয়।
শুধু পতাকা পরিবর্তন করেই হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। হিব্রু ভাষায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষের বাইরের দেয়ালে তারা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং বর্ণবাদী স্লোগান লিখে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দেয়ালে লেখা ছিল "মউত ল্যা আরাভ" বা "আরবদের মৃত্যু চাই"। এই ধরণের উস্কানিমূলক বার্তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
"বসতি স্থাপনকারীদের এই কর্মকাণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষণ পরিবেশের ওপর নগ্ন আঘাত। এটি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা লাভের অধিকারকে খর্ব করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।"
মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরণের হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় তারা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, কৃষি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই হামলা চালায়। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া নতুন করে হামলার এই ঢেউয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমান্তরালে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১,১৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১,৭০০ জন আহত হয়েছেন।
বিষয় : ফিলিস্তিন পশ্চিম তীর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের দক্ষিণে একটি ফিলিস্তিনি স্কুলে গভীর রাতে হামলা চালিয়েছে একদল উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। সোমবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় তারা স্কুলের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফিলিস্তিনি পতাকা ছিঁড়ে ফেলে এবং সেখানে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করে। এছাড়াও স্কুলের দেয়ালে "আরবদের মৃত্যু চাই"—এর মতো চরম উগ্র ও বর্ণবাদী স্লোগান লিখে এলাকা ত্যাগ করে তারা।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা আনদোলু এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোরে নাবলুসের হাওয়ারা বয়েজ হাই স্কুলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। বসতি স্থাপনকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্কুলের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে স্কুলের মূল খুঁটি থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা নামিয়ে ফেলে এবং দম্ভের সাথে সেখানে ইসরায়েলি পতাকা টাঙিয়ে দেয়।
শুধু পতাকা পরিবর্তন করেই হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। হিব্রু ভাষায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষের বাইরের দেয়ালে তারা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং বর্ণবাদী স্লোগান লিখে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দেয়ালে লেখা ছিল "মউত ল্যা আরাভ" বা "আরবদের মৃত্যু চাই"। এই ধরণের উস্কানিমূলক বার্তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
"বসতি স্থাপনকারীদের এই কর্মকাণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষণ পরিবেশের ওপর নগ্ন আঘাত। এটি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা লাভের অধিকারকে খর্ব করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।"
মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরণের হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় তারা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, কৃষি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই হামলা চালায়। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া নতুন করে হামলার এই ঢেউয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমান্তরালে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১,১৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১,৭০০ জন আহত হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন