শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ভারতে নিখোঁজের দুই সপ্তাহ পর খালে মিলল মুসলিম ছাত্রের মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য



ভারতে নিখোঁজের দুই সপ্তাহ পর খালে মিলল মুসলিম ছাত্রের মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ২৩ বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্র প্রায় দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর হরিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মোহাম্মদ ফাইয়াজ নামের ওই তরুণ নিখোঁজ হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে নিজের বিপদের কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য, আর পরিবার দাবি করছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ রাতে দিল্লির ওখলার মদনপুর খাদার এলাকা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হন জামিয়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাইয়াজ। পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

৮ মার্চ পরিবারের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে ফাইয়াজ জানান, কাজের প্রলোভনে তিনি ভাদোদরা যাচ্ছিলেন। তবে ট্রেনে থাকা অবস্থায় চারজন অপরিচিত ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মথুরা স্টেশনে নেমে যান। ফোনে তাকে অত্যন্ত আতঙ্কিত শোনাচ্ছিল এবং তিনি বলেন, তিনি কিছু লোকের মধ্যে ‘আটকে পড়েছেন’ ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এরপরই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন রমজানের কারণে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে ১১ মার্চ কালিন্দি কুঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

হরিয়ানা পুলিশ ২১ মার্চ ফাইয়াজের পরিবারকে জানায়, ১৭ মার্চ পালওয়াল জেলার একটি খাল থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দেহটি বিকৃত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং মর্গে রাখা হয়েছিল।

পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও আধার কার্ডের মাধ্যমে সেটি মোহাম্মদ ফাইয়াজের বলে নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, দেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তারা সরাসরি দেখে চিনতে পারেননি।

ফাইয়াজের পরিবার এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার ফোনকল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং কয়েকদিনের অজানা অবস্থান—সবকিছুই এই মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যা—সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। তবে নিখোঁজ থাকার সময় ফাইয়াজ কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে তিনি পালওয়ালের খালে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম যুবকদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফাইয়াজের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ভারতে নিখোঁজের দুই সপ্তাহ পর খালে মিলল মুসলিম ছাত্রের মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ২৩ বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্র প্রায় দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর হরিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মোহাম্মদ ফাইয়াজ নামের ওই তরুণ নিখোঁজ হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে নিজের বিপদের কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য, আর পরিবার দাবি করছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ রাতে দিল্লির ওখলার মদনপুর খাদার এলাকা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হন জামিয়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাইয়াজ। পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

৮ মার্চ পরিবারের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে ফাইয়াজ জানান, কাজের প্রলোভনে তিনি ভাদোদরা যাচ্ছিলেন। তবে ট্রেনে থাকা অবস্থায় চারজন অপরিচিত ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মথুরা স্টেশনে নেমে যান। ফোনে তাকে অত্যন্ত আতঙ্কিত শোনাচ্ছিল এবং তিনি বলেন, তিনি কিছু লোকের মধ্যে ‘আটকে পড়েছেন’ ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এরপরই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন রমজানের কারণে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে ১১ মার্চ কালিন্দি কুঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

হরিয়ানা পুলিশ ২১ মার্চ ফাইয়াজের পরিবারকে জানায়, ১৭ মার্চ পালওয়াল জেলার একটি খাল থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দেহটি বিকৃত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং মর্গে রাখা হয়েছিল।

পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও আধার কার্ডের মাধ্যমে সেটি মোহাম্মদ ফাইয়াজের বলে নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, দেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তারা সরাসরি দেখে চিনতে পারেননি।

ফাইয়াজের পরিবার এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার ফোনকল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং কয়েকদিনের অজানা অবস্থান—সবকিছুই এই মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যা—সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। তবে নিখোঁজ থাকার সময় ফাইয়াজ কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে তিনি পালওয়ালের খালে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম যুবকদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফাইয়াজের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত