শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

অল্প বয়সে ইনস্টাগ্রাম-ইউটিউব ব্যবহারে মানসিক বিপর্যয় ও আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরির দায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের দণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি: মেটা ও ইউটিউবকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি: মেটা ও ইউটিউবকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরির দায়ে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবং ইউটিউবকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি বোর্ড বুধবার এই যুগান্তকারী রায়ে বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের ডিজাইন এবং ব্যবহারকারীর আসক্তি নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে একটি শক্তিশালী আইনি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস জুরি বোর্ড বুধবার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে। মামলার প্রধান বাদী ক্যালি (যিনি আদালতের নথিতে KGM নামে পরিচিত) অভিযোগ করেছিলেন যে, শৈশব থেকেই ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব ব্যবহারের ফলে তিনি মারাত্মক আসক্তিতে পড়ে যান। এই আসক্তি তাকে বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা এবং 'বডি ডিসমর্ফিয়া' (নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা)-র মতো গুরুতর মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়।

বর্তমানে ২০ বছর বয়সী ক্যালি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানান, তিনি সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে থাকতেন এবং লাইক-নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এক ধরনের সাময়িক মানসিক উত্তেজনা বা 'রাশ' অনুভব করতেন, যা তাকে ফোনের স্ক্রিনে আটকে রাখত। তার আইনজীবীরা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তির ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের এই শুনানিতে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। এই মামলাটিকে নব্বইয়ের দশকের তামাক শিল্পের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালে ক্যালি মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক) এবং গুগল-মালিকানাধীন ইউটিউবের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। যদিও প্রাথমিক মামলায় টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটও ছিল, তবে তারা জানুয়ারিতে বিচার শুরু হওয়ার আগেই আদালতের বাইরে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ফেলে।

বাদীর আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার যুক্তি দেখান যে, মেটা এবং ইউটিউব জানত তাদের পণ্য শিশুদের ক্ষতি করছে, কিন্তু তারা নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। জুরি বোর্ড এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে অবহেলা এবং ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত 'ধারা ২৩০' (Section 230)-এর দোহাই দিয়ে এ ধরনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে, যা তাদের তৃতীয় পক্ষের কন্টেন্টের জন্য দায়মুক্তি দেয়। তবে ক্যালির মামলাটি কন্টেন্টের ওপর নয়, বরং অ্যাপের ‘ক্ষতিকর ডিজাইনের’ ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছিল। মেটা এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ে আরও হাজার হাজার মামলার পথ প্রশস্ত করবে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি: মেটা ও ইউটিউবকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরির দায়ে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবং ইউটিউবকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি বোর্ড বুধবার এই যুগান্তকারী রায়ে বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের ডিজাইন এবং ব্যবহারকারীর আসক্তি নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে একটি শক্তিশালী আইনি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস জুরি বোর্ড বুধবার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে। মামলার প্রধান বাদী ক্যালি (যিনি আদালতের নথিতে KGM নামে পরিচিত) অভিযোগ করেছিলেন যে, শৈশব থেকেই ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব ব্যবহারের ফলে তিনি মারাত্মক আসক্তিতে পড়ে যান। এই আসক্তি তাকে বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা এবং 'বডি ডিসমর্ফিয়া' (নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা)-র মতো গুরুতর মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়।

বর্তমানে ২০ বছর বয়সী ক্যালি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানান, তিনি সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে থাকতেন এবং লাইক-নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এক ধরনের সাময়িক মানসিক উত্তেজনা বা 'রাশ' অনুভব করতেন, যা তাকে ফোনের স্ক্রিনে আটকে রাখত। তার আইনজীবীরা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তির ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের এই শুনানিতে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। এই মামলাটিকে নব্বইয়ের দশকের তামাক শিল্পের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালে ক্যালি মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক) এবং গুগল-মালিকানাধীন ইউটিউবের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। যদিও প্রাথমিক মামলায় টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটও ছিল, তবে তারা জানুয়ারিতে বিচার শুরু হওয়ার আগেই আদালতের বাইরে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ফেলে।

বাদীর আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার যুক্তি দেখান যে, মেটা এবং ইউটিউব জানত তাদের পণ্য শিশুদের ক্ষতি করছে, কিন্তু তারা নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। জুরি বোর্ড এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে অবহেলা এবং ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত 'ধারা ২৩০' (Section 230)-এর দোহাই দিয়ে এ ধরনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে, যা তাদের তৃতীয় পক্ষের কন্টেন্টের জন্য দায়মুক্তি দেয়। তবে ক্যালির মামলাটি কন্টেন্টের ওপর নয়, বরং অ্যাপের ‘ক্ষতিকর ডিজাইনের’ ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছিল। মেটা এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ে আরও হাজার হাজার মামলার পথ প্রশস্ত করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত