শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজা, ইরান ও লেবাননে হামলার প্রতিবাদে লন্ডন থেকে রোম—ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গণসমাবেশ ও মিছিল

ইউরোপজুড়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ: উত্তাল লন্ডন থেকে রোম



ইউরোপজুড়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ: উত্তাল লন্ডন থেকে রোম

গাজা, লেবানন এবং ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের প্রধান শহরগুলো। লন্ডন, মাদ্রিদ, বার্লিন এবং রোমের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা এই সংঘাতকে 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি' এবং 'সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশাল জনসমাগম ঘটে। বিশেষ করে লন্ডনে 'প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন' (PSC)-এর ডাকে প্রায় ৫ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। লন্ডনের হাইড পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিন, লেবানন এবং ইরানের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— "ইরানে বোমা হামলা বন্ধ করো", "গাজা একা নয়" এবং "মুক্ত ফিলিস্তিন"। মিছিলে ব্রিটিশ গায়িকা পালোমা ফেইথ, মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সংহতি প্রকাশ করেন।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে "যুদ্ধকে না বলুন" স্লোগানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধেও সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। অন্যদিকে, জার্মানিতে 'ফিলিস্তিন ভূমি দিবস'-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বার্লিনের পটসডামার স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে 'শিশু হত্যাকারী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ জানান।

ইতালির রাজধানী রোমে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ "No Kings" (রাজতন্ত্র ও তাদের যুদ্ধকে না) স্লোগানে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ন্যাটোর উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করেন। বিক্ষোভের আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইলারিয়া সালিসের হোটেল রুমে পুলিশের তল্লাশি নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রিসের এথেন্সেও বামপন্থী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলো মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে গ্রিসকে এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানায়।

ইউরোপীয় এই বিক্ষোভগুলোতে একটি সাধারণ দাবি ছিল—বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত না হানা। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী হিসেবে জুতা এবং পুতুল রেখে যুদ্ধে নিহত শিশুদের স্মরণ করেন।

বিষয় : ইউরোপ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইউরোপজুড়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ: উত্তাল লন্ডন থেকে রোম

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

গাজা, লেবানন এবং ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের প্রধান শহরগুলো। লন্ডন, মাদ্রিদ, বার্লিন এবং রোমের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা এই সংঘাতকে 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি' এবং 'সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশাল জনসমাগম ঘটে। বিশেষ করে লন্ডনে 'প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন' (PSC)-এর ডাকে প্রায় ৫ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। লন্ডনের হাইড পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিন, লেবানন এবং ইরানের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— "ইরানে বোমা হামলা বন্ধ করো", "গাজা একা নয়" এবং "মুক্ত ফিলিস্তিন"। মিছিলে ব্রিটিশ গায়িকা পালোমা ফেইথ, মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সংহতি প্রকাশ করেন।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে "যুদ্ধকে না বলুন" স্লোগানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধেও সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। অন্যদিকে, জার্মানিতে 'ফিলিস্তিন ভূমি দিবস'-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বার্লিনের পটসডামার স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে 'শিশু হত্যাকারী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ জানান।

ইতালির রাজধানী রোমে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ "No Kings" (রাজতন্ত্র ও তাদের যুদ্ধকে না) স্লোগানে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ন্যাটোর উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করেন। বিক্ষোভের আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইলারিয়া সালিসের হোটেল রুমে পুলিশের তল্লাশি নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রিসের এথেন্সেও বামপন্থী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলো মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে গ্রিসকে এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানায়।

ইউরোপীয় এই বিক্ষোভগুলোতে একটি সাধারণ দাবি ছিল—বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত না হানা। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী হিসেবে জুতা এবং পুতুল রেখে যুদ্ধে নিহত শিশুদের স্মরণ করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত