গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কড়া গোপনীয়তা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও দেশটিতে আহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬ জন ইসরায়েলি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যাকে ৬,২৮৬ জনে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৬,২৮৬ জন ইসরায়েলি নাগরিক ও সামরিক সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১০০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ১৩ জনের অবস্থা গুরুতর।
যদিও ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশে অনীহা দেখাচ্ছে, তবে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (INSS) জানিয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ইসরায়েল সরকার ইরান ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে রেখেছে।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে তেহরান এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আকাশসীমায় ৫৮৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৬৫টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর পাশাপাশি গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে 'হিজবুল্লাহ' ড্রোন ও রকেট হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় তেল আবিব (১৬৯০ জন বাস্তুচ্যুত), আরাদ (১৫৭০ জন) এবং ডিমোনার (৯৫০ জন) মতো শহরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর তেহরান তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইতিমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০৩ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জনরোষ ও আতঙ্ক বাড়ছে। ৬ হাজারের বেশি মানুষকে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (ইভাকুয়েশন)। স্বাধীন কোনো উৎস থেকে হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ইসরায়েলি হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় যুদ্ধের ভয়াবহতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিষয় : ইসরায়েল

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কড়া গোপনীয়তা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও দেশটিতে আহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬ জন ইসরায়েলি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যাকে ৬,২৮৬ জনে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৬,২৮৬ জন ইসরায়েলি নাগরিক ও সামরিক সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১০০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ১৩ জনের অবস্থা গুরুতর।
যদিও ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশে অনীহা দেখাচ্ছে, তবে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (INSS) জানিয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ইসরায়েল সরকার ইরান ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে রেখেছে।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে তেহরান এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আকাশসীমায় ৫৮৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৬৫টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর পাশাপাশি গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে 'হিজবুল্লাহ' ড্রোন ও রকেট হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় তেল আবিব (১৬৯০ জন বাস্তুচ্যুত), আরাদ (১৫৭০ জন) এবং ডিমোনার (৯৫০ জন) মতো শহরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর তেহরান তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইতিমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০৩ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জনরোষ ও আতঙ্ক বাড়ছে। ৬ হাজারের বেশি মানুষকে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (ইভাকুয়েশন)। স্বাধীন কোনো উৎস থেকে হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ইসরায়েলি হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় যুদ্ধের ভয়াবহতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন