শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

খেলাধুলার মঞ্চে উগ্রবাদের হানা: ফুটবলীয় শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে মুসলিম খেলোয়াড়দের সেজদা ও মিসরের জাতীয় সংগীতে স্প্যানিশ দর্শকদের ধৃষ্টতা

বার্সেলোনায় স্পেন-মিসর প্রীতি ম্যাচ: গ্যালারিতে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ও উগ্রতা



বার্সেলোনায় স্পেন-মিসর প্রীতি ম্যাচ: গ্যালারিতে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ও উগ্রতা

স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত স্পেন বনাম মিসরের মধ্যকার একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে চরম ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা ঘটেছে। খেলার মাঠের সৌজন্য ও ভ্রাতৃত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্যালারির একটি অংশ থেকে মুসলিম ও ইসলামের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ম্যাচ চলাকালীন স্পেনের আরসিডিই (RCDE) স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগানে দাবি করা হয় যে, তারা কেবল তাদের দলকে সমর্থন দিচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে রাখছে। বিশেষ করে মিসরের জাতীয় সংগীত বাজার সময় তাদের দুয়োধ্বনি দেওয়া এবং "যে লাফাবে না সে মুসলিম" (অপ্রীতিকর অর্থে ব্যবহৃত স্থানীয় স্লোগান) জাতীয় চিৎকারকে তারা "খেলার অংশ" হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। এছাড়া মিসরীয় খেলোয়াড়দের মাঠে সেজদা দেওয়ার বিষয়টিকে তারা "অপ্রাসঙ্গিক ধর্মীয় প্রদর্শন" হিসেবে দাবি করে বিদ্রূপাত্মক শিস ও প্রতিবাদ জানায়। মূলত উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারা থেকে তারা এই ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণকে সমর্থনযোগ্য বলে দাবি করে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেন ও মিসরের মধ্যে এই প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শুরুতেই যখন মিসরের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল, তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের বিশাল একটি অংশ সম্মিলিতভাবে শিস বাজিয়ে ও চিৎকার করে চরম অসম্মান প্রদর্শন করে।

খেলার প্রথম অর্ধে যখন মিসরীয় খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ফুটবলীয় আবেগ থেকে বা কোনো গোল প্রচেষ্টার পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মাঠে সেজদাবনত হন, তখন গ্যালারি থেকে প্রবল প্রতিবাদ ও ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ভেসে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমর্থকদের একটি অংশ বারবার "মুসলিমবিরোধী" নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহার করছিল। পরিস্থিতির অবনতি দেখে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ স্কোরবোর্ড এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে দুইবার ঘোষণা দেয় যে, "বিদেশি-বিদ্বেষী এবং বৈষম্যমূলক স্লোগান অবিলম্বে বন্ধ করুন।" ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হলেও মাঠের পরিবেশ মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য ছিল অত্যন্ত পীড়াদায়ক। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একে "ঘৃণ্য" আখ্যা দিয়ে বলেন, "এই ব্যক্তিরা ফুটবলকে প্রতিনিধিত্ব করে না।" স্প্যানিশ তারকা পেদ্রিও এই ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (FIFA) এবং ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (UEFA) কঠোর বর্ণবাদবিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের মাঠে বারবার ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার পুনরাবৃত্তি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, জাতীয় সংগীতের অবমাননা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক (সেজদা) নিয়ে বিদ্রূপ করা সরাসরি নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

এটি কেবল একটি ম্যাচ বা স্রেফ কিছু স্লোগান নয়, বরং ইউরোপীয় সমাজে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিফলন। এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিরাপত্তা ঘাটতি খতিয়ে দেখা। কেবল মৌখিক নিন্দা যথেষ্ট নয়; বরং ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন প্ল্যাটফর্মকে ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মুসলিম খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষা করা আয়োজক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।

বিষয় : স্পেন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


বার্সেলোনায় স্পেন-মিসর প্রীতি ম্যাচ: গ্যালারিতে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ও উগ্রতা

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত স্পেন বনাম মিসরের মধ্যকার একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে চরম ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা ঘটেছে। খেলার মাঠের সৌজন্য ও ভ্রাতৃত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্যালারির একটি অংশ থেকে মুসলিম ও ইসলামের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ম্যাচ চলাকালীন স্পেনের আরসিডিই (RCDE) স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগানে দাবি করা হয় যে, তারা কেবল তাদের দলকে সমর্থন দিচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে রাখছে। বিশেষ করে মিসরের জাতীয় সংগীত বাজার সময় তাদের দুয়োধ্বনি দেওয়া এবং "যে লাফাবে না সে মুসলিম" (অপ্রীতিকর অর্থে ব্যবহৃত স্থানীয় স্লোগান) জাতীয় চিৎকারকে তারা "খেলার অংশ" হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। এছাড়া মিসরীয় খেলোয়াড়দের মাঠে সেজদা দেওয়ার বিষয়টিকে তারা "অপ্রাসঙ্গিক ধর্মীয় প্রদর্শন" হিসেবে দাবি করে বিদ্রূপাত্মক শিস ও প্রতিবাদ জানায়। মূলত উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারা থেকে তারা এই ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণকে সমর্থনযোগ্য বলে দাবি করে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেন ও মিসরের মধ্যে এই প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শুরুতেই যখন মিসরের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল, তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের বিশাল একটি অংশ সম্মিলিতভাবে শিস বাজিয়ে ও চিৎকার করে চরম অসম্মান প্রদর্শন করে।

খেলার প্রথম অর্ধে যখন মিসরীয় খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ফুটবলীয় আবেগ থেকে বা কোনো গোল প্রচেষ্টার পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মাঠে সেজদাবনত হন, তখন গ্যালারি থেকে প্রবল প্রতিবাদ ও ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ভেসে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমর্থকদের একটি অংশ বারবার "মুসলিমবিরোধী" নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহার করছিল। পরিস্থিতির অবনতি দেখে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ স্কোরবোর্ড এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে দুইবার ঘোষণা দেয় যে, "বিদেশি-বিদ্বেষী এবং বৈষম্যমূলক স্লোগান অবিলম্বে বন্ধ করুন।" ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হলেও মাঠের পরিবেশ মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য ছিল অত্যন্ত পীড়াদায়ক। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একে "ঘৃণ্য" আখ্যা দিয়ে বলেন, "এই ব্যক্তিরা ফুটবলকে প্রতিনিধিত্ব করে না।" স্প্যানিশ তারকা পেদ্রিও এই ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (FIFA) এবং ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (UEFA) কঠোর বর্ণবাদবিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের মাঠে বারবার ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার পুনরাবৃত্তি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, জাতীয় সংগীতের অবমাননা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক (সেজদা) নিয়ে বিদ্রূপ করা সরাসরি নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

এটি কেবল একটি ম্যাচ বা স্রেফ কিছু স্লোগান নয়, বরং ইউরোপীয় সমাজে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিফলন। এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিরাপত্তা ঘাটতি খতিয়ে দেখা। কেবল মৌখিক নিন্দা যথেষ্ট নয়; বরং ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন প্ল্যাটফর্মকে ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মুসলিম খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষা করা আয়োজক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত