শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

দেশজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারি তুষারপাতের সতর্কতা; মানবিক সংকটের মুখে হাজারো পরিবার

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও বৃষ্টিপাত: ২০ প্রদেশে মৃত্যুমিছিল, বিধ্বস্ত ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি



আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও বৃষ্টিপাত: ২০ প্রদেশে মৃত্যুমিছিল, বিধ্বস্ত ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি

আফগানিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। বন্যায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা দেশটিতে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDMA) দেওয়া তথ্যমতে, গত এক দিনে রাজধানী কাবুলসহ ২০টি প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবুল, কাপিসা, পারওয়ান, পাঞ্জশির, পাক্তিয়া, পাক্তিকা, খোস্ত, লোগার, ময়দান ওয়ারদাক, জাবুল, উরুজগান, ঘোর, বাদঘিস, সামানগান, সার-এ পোল, ফারিয়াব, বাঘলান, বাদাখশান, কুনার এবং লাঘমান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসেফ হামাদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শতাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি এবং ডজনখানেক কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ।

পরিবহন ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগ এখনই থামছে না। উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ নাসিম মুরাদি জানিয়েছেন, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা দুর্গতদের সহায়তা করতে দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। উপ-মন্ত্রী আবদুল লতিফ নাজারী জানিয়েছেন, তারা জাতীয় ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে খাবার, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে পাহাড়ি এলাকা এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও বৃষ্টিপাত: ২০ প্রদেশে মৃত্যুমিছিল, বিধ্বস্ত ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। বন্যায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা দেশটিতে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDMA) দেওয়া তথ্যমতে, গত এক দিনে রাজধানী কাবুলসহ ২০টি প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবুল, কাপিসা, পারওয়ান, পাঞ্জশির, পাক্তিয়া, পাক্তিকা, খোস্ত, লোগার, ময়দান ওয়ারদাক, জাবুল, উরুজগান, ঘোর, বাদঘিস, সামানগান, সার-এ পোল, ফারিয়াব, বাঘলান, বাদাখশান, কুনার এবং লাঘমান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসেফ হামাদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শতাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি এবং ডজনখানেক কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ।

পরিবহন ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগ এখনই থামছে না। উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ নাসিম মুরাদি জানিয়েছেন, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা দুর্গতদের সহায়তা করতে দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। উপ-মন্ত্রী আবদুল লতিফ নাজারী জানিয়েছেন, তারা জাতীয় ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে খাবার, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে পাহাড়ি এলাকা এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত