ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় উত্তর গাজার জাবালিয়া থেকে বিতাড়িত শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। গাজা সিটির পশ্চিমে অবস্থিত বিদ্ধস্ত ‘আল-আমাদি’ মসজিদটি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। ঘরবাড়ি, জমি ও জনপদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির পানি আর তীব্র শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন এই মানুষগুলো।
গাজার জাবালিয়া এলাকার নেজলে অঞ্চলের বাসিন্দা তায়ে আল-আলিয়া। চার সন্তানের এই জননী এখন আল-আমাদি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের মাঝে সংসার পেতেছেন। তার সেই সাজানো গোছানো ঘর এখন কেবলই স্মৃতি। আল-আলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের আর ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ঘর নেই, তাবু খাটানোর মতো এক চিলতে জমিও অবশিষ্ট নেই। পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ।"
মসজিদটি ইসরায়েলি গোলার আঘাতে কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে সবকিছু ভিজে যায়। সেখানে বিদ্যুৎ বা বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। আল-আলিয়াকে রান্না করতে হয় কাঠের আগুনে, যার ধোঁয়ায় তার হাত ও শরীর সবসময় কালচে হয়ে থাকে। পানি সংগ্রহের জন্য ছোট ছোট শিশুদের মাইলের পর মাইল বালতি হাতে দৌড়াতে হয়। তিনি জানান, পানি রাখার মতো কোনো বড় পাত্র বা ড্রামও তাদের কাছে নেই।
শীতকালীন তীব্র ঠান্ডা আর বৃষ্টির মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আল-আলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "একসময় সামান্য ত্রাণ পাওয়া যেত, এখন তাও বন্ধের পথে। যুদ্ধবিরতি আর পুনর্গঠনের অনেক প্রতিশ্রুতি আমরা শুনি, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। প্রতি রাতে বোমার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।" তার মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ হয়েছে—একথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
পবিত্র রমজান মাস পার হলেও এই পরিবারগুলোর ভাগ্যে বিন্দুমাত্র স্বস্তি জোটেনি। যে মসজিদে একসময় মানুষ সিজদায় অবনত হতো, আজ সেখানে মানুষ একটুখানি ঘুমের জন্য হাহাকার করছে। আল-আলিয়ার ভাষায়, "এটি ইবাদত করার জায়গা ছিল, কিন্তু এখন এটি আমাদের শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। অথচ এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বসবাসের কোনো ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই।"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লিপ্ততা আর সহায়তার অভাবে গাজার এই বিদ্ধস্ত মসজিদগুলো এখন দীর্ঘশ্বাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ যেন একেকটি যন্ত্রণার মহাকাব্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় উত্তর গাজার জাবালিয়া থেকে বিতাড়িত শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। গাজা সিটির পশ্চিমে অবস্থিত বিদ্ধস্ত ‘আল-আমাদি’ মসজিদটি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। ঘরবাড়ি, জমি ও জনপদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির পানি আর তীব্র শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন এই মানুষগুলো।
গাজার জাবালিয়া এলাকার নেজলে অঞ্চলের বাসিন্দা তায়ে আল-আলিয়া। চার সন্তানের এই জননী এখন আল-আমাদি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের মাঝে সংসার পেতেছেন। তার সেই সাজানো গোছানো ঘর এখন কেবলই স্মৃতি। আল-আলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের আর ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ঘর নেই, তাবু খাটানোর মতো এক চিলতে জমিও অবশিষ্ট নেই। পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ।"
মসজিদটি ইসরায়েলি গোলার আঘাতে কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে সবকিছু ভিজে যায়। সেখানে বিদ্যুৎ বা বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। আল-আলিয়াকে রান্না করতে হয় কাঠের আগুনে, যার ধোঁয়ায় তার হাত ও শরীর সবসময় কালচে হয়ে থাকে। পানি সংগ্রহের জন্য ছোট ছোট শিশুদের মাইলের পর মাইল বালতি হাতে দৌড়াতে হয়। তিনি জানান, পানি রাখার মতো কোনো বড় পাত্র বা ড্রামও তাদের কাছে নেই।
শীতকালীন তীব্র ঠান্ডা আর বৃষ্টির মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আল-আলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "একসময় সামান্য ত্রাণ পাওয়া যেত, এখন তাও বন্ধের পথে। যুদ্ধবিরতি আর পুনর্গঠনের অনেক প্রতিশ্রুতি আমরা শুনি, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। প্রতি রাতে বোমার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।" তার মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ হয়েছে—একথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
পবিত্র রমজান মাস পার হলেও এই পরিবারগুলোর ভাগ্যে বিন্দুমাত্র স্বস্তি জোটেনি। যে মসজিদে একসময় মানুষ সিজদায় অবনত হতো, আজ সেখানে মানুষ একটুখানি ঘুমের জন্য হাহাকার করছে। আল-আলিয়ার ভাষায়, "এটি ইবাদত করার জায়গা ছিল, কিন্তু এখন এটি আমাদের শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। অথচ এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বসবাসের কোনো ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই।"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লিপ্ততা আর সহায়তার অভাবে গাজার এই বিদ্ধস্ত মসজিদগুলো এখন দীর্ঘশ্বাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ যেন একেকটি যন্ত্রণার মহাকাব্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন