ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক মুসলিম স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ইন্টারভিউ চলাকালীন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ন্যাশনাল ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি (NDTL)-এর অনলাইন ইন্টারভিউতে নাম বলার পর কোনো প্রযুক্তিগত প্রশ্ন ছাড়াই তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি ভারতের সরকারি কর্মক্ষেত্রে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি (NDTL), যা যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, তাদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করেছিল। নির্বাচক প্যানেলের পক্ষ থেকে শান মোহাম্মদকে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে, তার পড়াশোনার বিষয় (Pharmacology) এই ইন্টার্নশিপের কাজের সাথে 'সংগতিপূর্ণ নয়'। যদিও প্রাথমিক বাছাই পর্বে তাকে যোগ্য বিবেচনা করে ইমেইল পাঠানো হয়েছিল, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডে তাকে 'অনুপযুক্ত' বলে অভিহিত করা হয়। সরকারি প্যানেলের দাবি অনুযায়ী, প্রার্থীর যোগ্যতা বা বিশেষায়িত ক্ষেত্র পদের চাহিদার সাথে না মেলায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা এনডিটিএল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি বা আত্মপক্ষ সমর্থনকারী তথ্য প্রদান করা হয়নি।
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের আহমেদপুর তান্ডা গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক ও আসবাবপত্র কারিগরের বড় ছেলে শান মোহাম্মদ। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে তিনি ফার্মাকোলজি বিষয়ে এম.ফার্ম সম্পন্ন করছেন।
৩০ মার্চ, দুপুর ১২টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইন্টারভিউটি অনুষ্ঠিত হয়।
২০ মার্চ তিনি ২০,০০০ টাকা স্টাইপেন্ডসহ ৬ মাসের ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ইমেইল পান। ২২ জন সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীর মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মুসলিম আবেদনকারী।
শান জানান, ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার ২-৩ মিনিটের মাথায় তাকে নাম জিজ্ঞেস করা হয়। নাম বলার পরেই ইন্টারভিউয়ারের সুর বদলে যায়। কোনো একাডেমিক বা টেকনিক্যাল প্রশ্ন ছাড়াই তাকে বলা হয়, "আপনি এই পদের জন্য উপযুক্ত নন। আপনি অন্য কোথাও চেষ্টা করুন, এটি আপনার জন্য নয়। আপনি এখন লিভ নিতে পারেন।"
শান জানান, এই আকস্মিক প্রত্যাখ্যান তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের যে গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে ছিল, এই ঘটনা তাতে গভীর আত্মসংশয় তৈরি করেছে। যোগ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হওয়ার এই অনুভূতি তাকে হতাশ করেছে।
এই ঘটনাটি কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়, বরং ভারতের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। ভারতীয় সংবিধানের ধারা ১৪ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ধারা ১৫ (ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্য বিলোপ) এবং ধারা ১৬ (সরকারি চাকুরিতে সমান সুযোগ) প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে।
এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার রেকর্ডিং বা নথিপত্র যাচাই করে একটি স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মেধা ও যোগ্যতাই যেন সুযোগের একমাত্র মাপকাঠি হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো শিক্ষার্থী যেন তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বিষয় : ভারত

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক মুসলিম স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ইন্টারভিউ চলাকালীন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ন্যাশনাল ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি (NDTL)-এর অনলাইন ইন্টারভিউতে নাম বলার পর কোনো প্রযুক্তিগত প্রশ্ন ছাড়াই তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি ভারতের সরকারি কর্মক্ষেত্রে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি (NDTL), যা যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, তাদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করেছিল। নির্বাচক প্যানেলের পক্ষ থেকে শান মোহাম্মদকে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে, তার পড়াশোনার বিষয় (Pharmacology) এই ইন্টার্নশিপের কাজের সাথে 'সংগতিপূর্ণ নয়'। যদিও প্রাথমিক বাছাই পর্বে তাকে যোগ্য বিবেচনা করে ইমেইল পাঠানো হয়েছিল, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডে তাকে 'অনুপযুক্ত' বলে অভিহিত করা হয়। সরকারি প্যানেলের দাবি অনুযায়ী, প্রার্থীর যোগ্যতা বা বিশেষায়িত ক্ষেত্র পদের চাহিদার সাথে না মেলায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা এনডিটিএল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি বা আত্মপক্ষ সমর্থনকারী তথ্য প্রদান করা হয়নি।
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের আহমেদপুর তান্ডা গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক ও আসবাবপত্র কারিগরের বড় ছেলে শান মোহাম্মদ। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে তিনি ফার্মাকোলজি বিষয়ে এম.ফার্ম সম্পন্ন করছেন।
৩০ মার্চ, দুপুর ১২টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইন্টারভিউটি অনুষ্ঠিত হয়।
২০ মার্চ তিনি ২০,০০০ টাকা স্টাইপেন্ডসহ ৬ মাসের ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ইমেইল পান। ২২ জন সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীর মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মুসলিম আবেদনকারী।
শান জানান, ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার ২-৩ মিনিটের মাথায় তাকে নাম জিজ্ঞেস করা হয়। নাম বলার পরেই ইন্টারভিউয়ারের সুর বদলে যায়। কোনো একাডেমিক বা টেকনিক্যাল প্রশ্ন ছাড়াই তাকে বলা হয়, "আপনি এই পদের জন্য উপযুক্ত নন। আপনি অন্য কোথাও চেষ্টা করুন, এটি আপনার জন্য নয়। আপনি এখন লিভ নিতে পারেন।"
শান জানান, এই আকস্মিক প্রত্যাখ্যান তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের যে গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে ছিল, এই ঘটনা তাতে গভীর আত্মসংশয় তৈরি করেছে। যোগ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হওয়ার এই অনুভূতি তাকে হতাশ করেছে।
এই ঘটনাটি কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়, বরং ভারতের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। ভারতীয় সংবিধানের ধারা ১৪ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ধারা ১৫ (ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্য বিলোপ) এবং ধারা ১৬ (সরকারি চাকুরিতে সমান সুযোগ) প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে।
এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার রেকর্ডিং বা নথিপত্র যাচাই করে একটি স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মেধা ও যোগ্যতাই যেন সুযোগের একমাত্র মাপকাঠি হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো শিক্ষার্থী যেন তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আপনার মতামত লিখুন