শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক আইনি ব্যবস্থার প্রতিবাদে মিলানে বিশাল বিক্ষোভ

ইসরায়েলের বিতর্কিত ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুদণ্ড আইনের প্রতিবাদে উত্তাল ইতালির রাজপথ



ইসরায়েলের বিতর্কিত ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুদণ্ড আইনের প্রতিবাদে উত্তাল ইতালির রাজপথ

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড বিল পাস হওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপ। ইতালির মিলান শহরে শত শত মানুষ রাজপথে নেমে এই আইনকে 'বর্ণবাদী' এবং 'মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উপেক্ষা করে নেসেট (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) কর্তৃক অনুমোদিত এই আইনটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন করে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিলানের ঐতিহাসিক ডুয়োমো ক্যাথেড্রালের সামনে শুক্রবার শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। ফিলিস্তিনি পতাকায় সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীরা ইসরায়েলের নতুন এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন। "ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই", "আমরা সবাই ফিলিস্তিনি", এবং "নদী থেকে সাগর—ফিলিস্তিন হবে স্বাধীন" স্লোগানে মুখরিত হয় মিলানের রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এই আইনটি কেবল ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য একটি আইনি হাতিয়ার।

গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্ট এই বিতর্কিত আইনটি অনুমোদন করে। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, যারা "ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে কোনো ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা" করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আইনের এই ভাষা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এটি মূলত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দমনে ব্যবহৃত হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই আইনে বেশ কিছু নজিরবিহীন ধারা যুক্ত করা হয়েছে:

সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়: আগে মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকলেও, এখন কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই এই সাজা দেওয়া যাবে।

আপিল করার সুযোগ নেই: অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক আদালত যদি কোনো ফিলিস্তিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে তার জন্য কোনো সাধারণ ক্ষমা বা উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিমুখী বিচার ব্যবস্থা: ইসরায়েলি ভূখণ্ডে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের সাজা যাবজ্জীবনে কমানোর সুযোগ থাকলেও, সামরিক আদালতের অধীনে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য সেই পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আরব সংখ্যালঘু অধিকার কেন্দ্র 'আদালাহ' (Adalah) সহ বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৪ মে পর্যন্ত আইনটির কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।

ইতালির মিলানের পর আগামীকাল নেপলস শহরেও এই একই ইস্যুতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) মানদণ্ড লঙ্ঘন করায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

বিষয় : ইতালি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইসরায়েলের বিতর্কিত ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুদণ্ড আইনের প্রতিবাদে উত্তাল ইতালির রাজপথ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড বিল পাস হওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপ। ইতালির মিলান শহরে শত শত মানুষ রাজপথে নেমে এই আইনকে 'বর্ণবাদী' এবং 'মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উপেক্ষা করে নেসেট (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) কর্তৃক অনুমোদিত এই আইনটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন করে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিলানের ঐতিহাসিক ডুয়োমো ক্যাথেড্রালের সামনে শুক্রবার শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। ফিলিস্তিনি পতাকায় সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীরা ইসরায়েলের নতুন এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন। "ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই", "আমরা সবাই ফিলিস্তিনি", এবং "নদী থেকে সাগর—ফিলিস্তিন হবে স্বাধীন" স্লোগানে মুখরিত হয় মিলানের রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এই আইনটি কেবল ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য একটি আইনি হাতিয়ার।

গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্ট এই বিতর্কিত আইনটি অনুমোদন করে। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, যারা "ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে কোনো ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা" করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আইনের এই ভাষা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এটি মূলত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দমনে ব্যবহৃত হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই আইনে বেশ কিছু নজিরবিহীন ধারা যুক্ত করা হয়েছে:

সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়: আগে মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকলেও, এখন কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই এই সাজা দেওয়া যাবে।

আপিল করার সুযোগ নেই: অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক আদালত যদি কোনো ফিলিস্তিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে তার জন্য কোনো সাধারণ ক্ষমা বা উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিমুখী বিচার ব্যবস্থা: ইসরায়েলি ভূখণ্ডে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের সাজা যাবজ্জীবনে কমানোর সুযোগ থাকলেও, সামরিক আদালতের অধীনে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য সেই পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আরব সংখ্যালঘু অধিকার কেন্দ্র 'আদালাহ' (Adalah) সহ বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৪ মে পর্যন্ত আইনটির কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।

ইতালির মিলানের পর আগামীকাল নেপলস শহরেও এই একই ইস্যুতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) মানদণ্ড লঙ্ঘন করায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত