দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধ শেষ হলেও আফগানিস্তানের মাটিতে রয়ে যাওয়া ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত কামানের গোলা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জন মানুষ মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছেন, যাদের মধ্যে সিংহভাগই নিষ্পাপ শিশু। আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
আফগানিস্তানে ল্যান্ডমাইন ও যুদ্ধকালীন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ (ERW) এক নীরব মহামারীতে রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (UNAMA) মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাইন-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান তৃতীয়; যার আগে রয়েছে কেবল মিয়ানমার ও সিরিয়া।
জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের প্রধান নিক পন্ড জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু। খেলার সময় বা পথ চলার সময় মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা এসব বিস্ফোরক তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে অথবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বাঘলান প্রদেশের ১১ বছর বয়সী হিজরতুল্লাহ এমনই এক পরিস্থিতির শিকার। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারানো হিজরতুল্লাহ সম্প্রতি কৃত্রিম পা পাওয়ার পর নতুন করে হাঁটাচলা শুরু করেছে। সে জানায়, "পা ছাড়া আমি স্কুলে যেতে পারতাম না। এখন আমি স্বাভাবিক কাজ করতে পারছি। বড় হয়ে আমি ডাক্তার হতে চাই, যেন আমার মতো অন্য শিশুদের সেবা করতে পারি।"
ইউনাইটেড নেশনস মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের (UNMAS) প্রধান কাজুমি ওগাওয়া এক ব্রিফিংয়ে জানান, আফগানিস্তানকে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করার একটি পরিকল্পনা ২০১৩ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক মহলের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পিছিয়ে যাওয়ায় কাজ থমকে গেছে।"
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে ১৯৩টি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষক আসাদুল্লাহ নাদিমের মতে, কেবল আফগানদের একার পক্ষে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আবারও এগিয়ে আসতে হবে।
বিষয় : আফগানিস্তান

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধ শেষ হলেও আফগানিস্তানের মাটিতে রয়ে যাওয়া ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত কামানের গোলা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জন মানুষ মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছেন, যাদের মধ্যে সিংহভাগই নিষ্পাপ শিশু। আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
আফগানিস্তানে ল্যান্ডমাইন ও যুদ্ধকালীন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ (ERW) এক নীরব মহামারীতে রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (UNAMA) মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাইন-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান তৃতীয়; যার আগে রয়েছে কেবল মিয়ানমার ও সিরিয়া।
জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের প্রধান নিক পন্ড জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু। খেলার সময় বা পথ চলার সময় মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা এসব বিস্ফোরক তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে অথবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বাঘলান প্রদেশের ১১ বছর বয়সী হিজরতুল্লাহ এমনই এক পরিস্থিতির শিকার। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারানো হিজরতুল্লাহ সম্প্রতি কৃত্রিম পা পাওয়ার পর নতুন করে হাঁটাচলা শুরু করেছে। সে জানায়, "পা ছাড়া আমি স্কুলে যেতে পারতাম না। এখন আমি স্বাভাবিক কাজ করতে পারছি। বড় হয়ে আমি ডাক্তার হতে চাই, যেন আমার মতো অন্য শিশুদের সেবা করতে পারি।"
ইউনাইটেড নেশনস মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের (UNMAS) প্রধান কাজুমি ওগাওয়া এক ব্রিফিংয়ে জানান, আফগানিস্তানকে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করার একটি পরিকল্পনা ২০১৩ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক মহলের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পিছিয়ে যাওয়ায় কাজ থমকে গেছে।"
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে ১৯৩টি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষক আসাদুল্লাহ নাদিমের মতে, কেবল আফগানদের একার পক্ষে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আবারও এগিয়ে আসতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন