শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

তুঘলকাবাদে মুসলিমদের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রায় পুষ্পবৃষ্টির পরও উগ্রপন্থীদের উস্কানিমূলক তৎপরতা; সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

দিল্লিতে সম্প্রীতির বিপরীতে উস্কানি: মসজিদে উঠে গেরুয়া পতাকা ওড়ালো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা



দিল্লিতে সম্প্রীতির বিপরীতে উস্কানি: মসজিদে উঠে গেরুয়া পতাকা ওড়ালো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তুঘলকাবাদ এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায় যখন ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে শোভাযাত্রায় পুষ্পবৃষ্টি করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একদল উগ্রপন্থী যুবক স্থানীয় একটি মসজিদে উঠে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চললেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া উগ্রবাদী যুবকদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় উৎসবের বহিঃপ্রকাশ এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো অপরাধ করেনি। পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একদল যুবক ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ মসজিদের মিনারে উঠে পড়ে এবং সেখানে হনুমান জয়ন্তীর পতাকা লাগিয়ে দেয়। হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের স্থানীয় নেতারা মুসলিমদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি হোলির সময় এক প্রতিবেশী বিবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়াচ্ছিল। এমনকি ঈদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে ‘রক্তের হোলি খেলার’ মতো চরমপন্থী হুমকিও কিছু মহল থেকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, এসব হুমকিদাতা অনেককেই ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিল্লির তুঘলকাবাদ গ্রামে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শোভাযাত্রাটি যখন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন স্থানীয় মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবেশের মাঝেই কিছু দুষ্কৃতকারী হঠাৎ স্থানীয় একটি মসজিদে হামলা সদৃশ আচরণ করে এবং জোরপূর্বক ছাদে উঠে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে।

এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে এমন উস্কানি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুঘলকাবাদে ব্যাপক মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তারা ঝাণ্ডাটি সরিয়ে নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মসজিদের পবিত্রতা নষ্টকারী সেই উগ্রপন্থীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আইনি কাঠামো এবং ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও উপাসনালয়ের ওপর যে কোনো ধরনের আক্রমণ বা অবমাননাকর কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমদের পক্ষ থেকে বারবার সম্প্রীতির হাত বাড়ানো হলেও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ধারাবাহিকভাবে উস্কানি দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, যদি অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হয়, তবে এটি আরও বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত করতে পারে। নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর জান-মাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। কেবল পুলিশ মোতায়েন নয়, বরং মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


দিল্লিতে সম্প্রীতির বিপরীতে উস্কানি: মসজিদে উঠে গেরুয়া পতাকা ওড়ালো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তুঘলকাবাদ এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায় যখন ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে শোভাযাত্রায় পুষ্পবৃষ্টি করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একদল উগ্রপন্থী যুবক স্থানীয় একটি মসজিদে উঠে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চললেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া উগ্রবাদী যুবকদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় উৎসবের বহিঃপ্রকাশ এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো অপরাধ করেনি। পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একদল যুবক ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ মসজিদের মিনারে উঠে পড়ে এবং সেখানে হনুমান জয়ন্তীর পতাকা লাগিয়ে দেয়। হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের স্থানীয় নেতারা মুসলিমদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি হোলির সময় এক প্রতিবেশী বিবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়াচ্ছিল। এমনকি ঈদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে ‘রক্তের হোলি খেলার’ মতো চরমপন্থী হুমকিও কিছু মহল থেকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, এসব হুমকিদাতা অনেককেই ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিল্লির তুঘলকাবাদ গ্রামে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শোভাযাত্রাটি যখন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন স্থানীয় মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবেশের মাঝেই কিছু দুষ্কৃতকারী হঠাৎ স্থানীয় একটি মসজিদে হামলা সদৃশ আচরণ করে এবং জোরপূর্বক ছাদে উঠে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে।

এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে এমন উস্কানি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুঘলকাবাদে ব্যাপক মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তারা ঝাণ্ডাটি সরিয়ে নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মসজিদের পবিত্রতা নষ্টকারী সেই উগ্রপন্থীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আইনি কাঠামো এবং ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও উপাসনালয়ের ওপর যে কোনো ধরনের আক্রমণ বা অবমাননাকর কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমদের পক্ষ থেকে বারবার সম্প্রীতির হাত বাড়ানো হলেও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ধারাবাহিকভাবে উস্কানি দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, যদি অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হয়, তবে এটি আরও বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত করতে পারে। নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর জান-মাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। কেবল পুলিশ মোতায়েন নয়, বরং মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত