অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে একটি প্রধান পানি শোধনাগার। এর ফলে খান ইউনুস ও দির আল-বালাহ অঞ্চলের অন্তত ৫ লাখ ফিলিস্তিনি বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজার খান ইউনুস এলাকায় অবস্থিত ‘সাউথ গাজা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’ বা দক্ষিণ গাজা পানি শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার ঘনমিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করত। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় প্ল্যান্টটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে পুরো শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনটি মেরামত করা হলেও প্ল্যান্টটি তার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। বর্তমানে এটি আগের সক্ষমতার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ মাত্র ২ হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি উৎপাদন করছে। ফলে দির আল-বালাহ এবং খান ইউনুসের উত্তরাঞ্চলীয় মাওয়াসি এলাকায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় বর্তমানে কেবল পানিরই সংকট নয়, রান্নার গ্যাসেরও তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা বর্জ্য পুড়িয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ৩ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবু তলিয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৬০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা থামছে না। গত এক সপ্তাহে ২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮১ জন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য রোগীদের গাজার বাইরে নেওয়ার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বেসরকারি খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিষয় : গাজা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে একটি প্রধান পানি শোধনাগার। এর ফলে খান ইউনুস ও দির আল-বালাহ অঞ্চলের অন্তত ৫ লাখ ফিলিস্তিনি বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজার খান ইউনুস এলাকায় অবস্থিত ‘সাউথ গাজা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’ বা দক্ষিণ গাজা পানি শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার ঘনমিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করত। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় প্ল্যান্টটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে পুরো শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনটি মেরামত করা হলেও প্ল্যান্টটি তার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। বর্তমানে এটি আগের সক্ষমতার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ মাত্র ২ হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি উৎপাদন করছে। ফলে দির আল-বালাহ এবং খান ইউনুসের উত্তরাঞ্চলীয় মাওয়াসি এলাকায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় বর্তমানে কেবল পানিরই সংকট নয়, রান্নার গ্যাসেরও তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা বর্জ্য পুড়িয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ৩ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবু তলিয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৬০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা থামছে না। গত এক সপ্তাহে ২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮১ জন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য রোগীদের গাজার বাইরে নেওয়ার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বেসরকারি খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন