শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ছদ্মবেশ ধারণ করে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি; খেলনা পিস্তল ও বোরকা ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উসকানির শঙ্কা তৈরি করেছিল অভিযুক্ত পায়েল

অযোধ্যায় বোরকা পরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি: নেপথ্যে হিন্দু তরুণীর পরিকল্পিত অপরাধ



অযোধ্যায় বোরকা পরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি: নেপথ্যে হিন্দু তরুণীর পরিকল্পিত অপরাধ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় বোরকা পরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার সময় এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—বোরকা পরিহিত ওই ছিনতাইকারী আসলে একজন হিন্দু তরুণী, যে নিজের পরিচয় গোপন করতে মুসলিম নারীদের পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরিকল্পিত এই অপরাধে তাকে সহায়তা করার অপরাধে তার এক পুরুষ সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন বোরকা পরিহিত এক ব্যক্তির সশস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরণের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। অপরাধী বোরকা পরে থাকায় অনেকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। লখনউ জোনের এডিজি প্রবীণ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান:

"আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বোরকা পরে ডাকাতি করা মেয়েটির নাম পায়েল এবং তার সহযোগীর নাম রাহুল। তারা অনেকটা 'বান্টি অর বাবলি' স্টাইলে এই অপরাধটি ঘটিয়েছে। তারা খেলনা পিস্তল দেখিয়ে ভয় প্রদর্শন করে এই ছিনতাই সম্পন্ন করে।"

তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং সিসিটিভি ফুটেজে মুসলিম নারী হিসেবে পরিচিত হতে তারা বাজার থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বোরকা ও খেলনা পিস্তল ক্রয় করেছিল। এটি নিছক একটি ডাকাতি হলেও, পোশাকের অপব্যবহার সামাজিক অস্থিরতা তৈরির কারণ হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অযোধ্যার রুদৌলি থানা এলাকার কোঠি বাজারে 'মহেশ জুয়েলার্স'-এ এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পায়েল (২৫) এবং তার বন্ধু রাহুল (২৭) মটরসাইকেলে করে দোকানটির কাছে পৌঁছায়। রাহুল বাইরে অপেক্ষা করে এবং পায়েল বোরকা পরে দোকানে প্রবেশ করে।

  • কৌশল: পায়েল দোকানে ঢুকে একটি স্বর্ণের নেকলেস এবং চেইন দেখতে চায়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩.৬ লক্ষ রুপি। এরপর সে কৌশলে দোকানদারের কর্মচারী অঙ্কিত কুমারকে পানি ও মিষ্টি আনতে বাইরে পাঠায়।
  • হুমকি: সুযোগ বুঝে পায়েল গয়নাগুলো নিজের ব্যাগে ভরে নেয়। দোকানদার মহেশ বাধা দিতে চাইলে সে তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেয়।
  • পলায়ন: এরপর সে দ্রুত দৌড়ে বাইরে অপেক্ষায় থাকা রাহুলের মটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি দোকানের ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পায়েল মথানা নিভাদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রামকেভালের মেয়ে। তার সহযোগী রাহুল পারান কা পুরওয়া গ্রামের বাসিন্দা। দারিদ্র্য বা অন্য কোনো কারণে নয়, বরং দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশায় তারা এই 'ছদ্মবেশী' ডাকাতির পরিকল্পনা করে।

এই ঘটনাটি বর্তমান ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপরাধী নিজের পরিচয় লুকিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পোশাক ব্যবহার করা কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, যদি পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারত, তবে এই 'বোরকা' কেন্দ্র করে নিরপরাধ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা হতে পারত।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


অযোধ্যায় বোরকা পরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি: নেপথ্যে হিন্দু তরুণীর পরিকল্পিত অপরাধ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় বোরকা পরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার সময় এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—বোরকা পরিহিত ওই ছিনতাইকারী আসলে একজন হিন্দু তরুণী, যে নিজের পরিচয় গোপন করতে মুসলিম নারীদের পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরিকল্পিত এই অপরাধে তাকে সহায়তা করার অপরাধে তার এক পুরুষ সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন বোরকা পরিহিত এক ব্যক্তির সশস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরণের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। অপরাধী বোরকা পরে থাকায় অনেকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। লখনউ জোনের এডিজি প্রবীণ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান:

"আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বোরকা পরে ডাকাতি করা মেয়েটির নাম পায়েল এবং তার সহযোগীর নাম রাহুল। তারা অনেকটা 'বান্টি অর বাবলি' স্টাইলে এই অপরাধটি ঘটিয়েছে। তারা খেলনা পিস্তল দেখিয়ে ভয় প্রদর্শন করে এই ছিনতাই সম্পন্ন করে।"

তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং সিসিটিভি ফুটেজে মুসলিম নারী হিসেবে পরিচিত হতে তারা বাজার থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বোরকা ও খেলনা পিস্তল ক্রয় করেছিল। এটি নিছক একটি ডাকাতি হলেও, পোশাকের অপব্যবহার সামাজিক অস্থিরতা তৈরির কারণ হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অযোধ্যার রুদৌলি থানা এলাকার কোঠি বাজারে 'মহেশ জুয়েলার্স'-এ এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পায়েল (২৫) এবং তার বন্ধু রাহুল (২৭) মটরসাইকেলে করে দোকানটির কাছে পৌঁছায়। রাহুল বাইরে অপেক্ষা করে এবং পায়েল বোরকা পরে দোকানে প্রবেশ করে।

  • কৌশল: পায়েল দোকানে ঢুকে একটি স্বর্ণের নেকলেস এবং চেইন দেখতে চায়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩.৬ লক্ষ রুপি। এরপর সে কৌশলে দোকানদারের কর্মচারী অঙ্কিত কুমারকে পানি ও মিষ্টি আনতে বাইরে পাঠায়।
  • হুমকি: সুযোগ বুঝে পায়েল গয়নাগুলো নিজের ব্যাগে ভরে নেয়। দোকানদার মহেশ বাধা দিতে চাইলে সে তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেয়।
  • পলায়ন: এরপর সে দ্রুত দৌড়ে বাইরে অপেক্ষায় থাকা রাহুলের মটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি দোকানের ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পায়েল মথানা নিভাদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রামকেভালের মেয়ে। তার সহযোগী রাহুল পারান কা পুরওয়া গ্রামের বাসিন্দা। দারিদ্র্য বা অন্য কোনো কারণে নয়, বরং দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশায় তারা এই 'ছদ্মবেশী' ডাকাতির পরিকল্পনা করে।

এই ঘটনাটি বর্তমান ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপরাধী নিজের পরিচয় লুকিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পোশাক ব্যবহার করা কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, যদি পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারত, তবে এই 'বোরকা' কেন্দ্র করে নিরপরাধ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা হতে পারত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত