যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে চর্মরোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। তীব্র ওষুধের সংকট, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়, যারা দিনরাত চুলকানি ও সংক্রমণের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
গাজার খান ইউনিস এলাকার মোয়াসি আশ্রয় শিবিরে এখন কেবল হাহাকার। সেখানে আশ্রয় নেওয়া হালা কুদিহ তার ছোট মেয়ের শরীরে হওয়া অসংখ্য ক্ষত ও ফুসকুড়ি দেখে অঝোরে কাঁদছেন। সাত সদস্যের এই পরিবারটি সামান্য কাপড় ধোয়া বা রোদে তোষক শুকিয়েও রক্ষা পাচ্ছে না ছাড়পোকা আর বিষাক্ত পতঙ্গের হাত থেকে।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান ডা. আসাদ সাদিক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে চর্মরোগের প্রকোপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, "মশা, মাছি এবং ছারপোকার কামড় ছাড়াও ইঁদুর ও বেওয়ারিশ পশুর সংস্পর্শে আসার ফলে মানুষ মারাত্মক সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে 'আর্টিকারিয়া' বা তীব্র অ্যালার্জির কারণে মানুষ রাতে ঘুমাতেও পারছে না।"
ডা. সাদিক আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনো ওষুধ বর্তমানে হাতে নেই। কর্টিসোন ক্রিম বা অ্যান্টি-হিস্টামিনের মতো প্রাথমিক ওষুধগুলোর ৫২ শতাংশই ফুরিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে লোনা বা দূষিত পানি দিয়ে গোসল করার কারণে একজিমা ও এলার্জি কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাজেদ আবু রমজান সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার পাহাড়ের কারণে গাজায় ইঁদুরের বংশবিস্তার অকল্পনীয়ভাবে বেড়েছে। এর ফলে প্লেগ, সালমোনেলা এবং হান্তা ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় বর্জ্য অপসারণও সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় এই মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বর্তমানে কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই তাবু ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন, যেখানে জীবন বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে চর্মরোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। তীব্র ওষুধের সংকট, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়, যারা দিনরাত চুলকানি ও সংক্রমণের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
গাজার খান ইউনিস এলাকার মোয়াসি আশ্রয় শিবিরে এখন কেবল হাহাকার। সেখানে আশ্রয় নেওয়া হালা কুদিহ তার ছোট মেয়ের শরীরে হওয়া অসংখ্য ক্ষত ও ফুসকুড়ি দেখে অঝোরে কাঁদছেন। সাত সদস্যের এই পরিবারটি সামান্য কাপড় ধোয়া বা রোদে তোষক শুকিয়েও রক্ষা পাচ্ছে না ছাড়পোকা আর বিষাক্ত পতঙ্গের হাত থেকে।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান ডা. আসাদ সাদিক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে চর্মরোগের প্রকোপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, "মশা, মাছি এবং ছারপোকার কামড় ছাড়াও ইঁদুর ও বেওয়ারিশ পশুর সংস্পর্শে আসার ফলে মানুষ মারাত্মক সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে 'আর্টিকারিয়া' বা তীব্র অ্যালার্জির কারণে মানুষ রাতে ঘুমাতেও পারছে না।"
ডা. সাদিক আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনো ওষুধ বর্তমানে হাতে নেই। কর্টিসোন ক্রিম বা অ্যান্টি-হিস্টামিনের মতো প্রাথমিক ওষুধগুলোর ৫২ শতাংশই ফুরিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে লোনা বা দূষিত পানি দিয়ে গোসল করার কারণে একজিমা ও এলার্জি কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাজেদ আবু রমজান সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার পাহাড়ের কারণে গাজায় ইঁদুরের বংশবিস্তার অকল্পনীয়ভাবে বেড়েছে। এর ফলে প্লেগ, সালমোনেলা এবং হান্তা ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় বর্জ্য অপসারণও সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় এই মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বর্তমানে কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই তাবু ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন, যেখানে জীবন বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন