শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অর্থপাচার ও অনিয়ম রোধে কঠোর তদারকির বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

শরিয়াহ বোর্ডের পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের ঘোষণা গভর্নরের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শরিয়াহ বোর্ডের পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের ঘোষণা গভর্নরের

দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিগত সময়ে যথাযথ তদারকির অভাবে এই খাতে ঘটে যাওয়া অর্থপাচারের ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি শরিয়াহ পরিপালনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় গভর্নর এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি) আয়োজিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, আলেম-উলামা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "ইসলামী ব্যাংকিং মূলত পণ্যভিত্তিক হওয়ার কথা, যা সঠিকভাবে চললে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু তদারকির অভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা এখন গভীর পর্যালোচনার বিষয়।" তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ শরিয়াহ বোর্ডের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বড় কোনো বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সুপারভাইজার বা মুরাকিবদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গভর্নর বলেন, তারা যেন কোনো চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট পেশ করতে পারেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিশ্চিত করবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন:

  • স্বতন্ত্র আইন: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা।
  • শরিয়াহ অডিট: বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ (External) শরিয়াহ নিরীক্ষা এবং শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা।
  • তারল্য সহায়তা: সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহযোগিতা প্রদান।

সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবগঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একমত হন যে, তাত্ত্বিক শরিয়াহর সাথে বাস্তব প্রয়োগের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে পারলেই জনমনে হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।

বিষয় : ইসলামী ব্যাংকিং শরিয়াহ বোর্ড

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


শরিয়াহ বোর্ডের পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের ঘোষণা গভর্নরের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিগত সময়ে যথাযথ তদারকির অভাবে এই খাতে ঘটে যাওয়া অর্থপাচারের ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি শরিয়াহ পরিপালনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় গভর্নর এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি) আয়োজিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, আলেম-উলামা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "ইসলামী ব্যাংকিং মূলত পণ্যভিত্তিক হওয়ার কথা, যা সঠিকভাবে চললে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু তদারকির অভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা এখন গভীর পর্যালোচনার বিষয়।" তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ শরিয়াহ বোর্ডের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বড় কোনো বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সুপারভাইজার বা মুরাকিবদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গভর্নর বলেন, তারা যেন কোনো চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট পেশ করতে পারেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিশ্চিত করবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন:

  • স্বতন্ত্র আইন: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা।
  • শরিয়াহ অডিট: বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ (External) শরিয়াহ নিরীক্ষা এবং শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা।
  • তারল্য সহায়তা: সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহযোগিতা প্রদান।

সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবগঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একমত হন যে, তাত্ত্বিক শরিয়াহর সাথে বাস্তব প্রয়োগের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে পারলেই জনমনে হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত