দীর্ঘ ৪১ দিন পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হলো মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান পবিত্র মসজিদুল আকসা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে ইরানে হামলার অজুহাতে দীর্ঘ দিন বন্ধ রাখার পর আজ ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ভোরে মুসল্লিদের জন্য মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আল-আকসা খুলে দেওয়ার খবরে শত শত ফিলিস্তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।
ফিলিস্তিনের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত মসজিদুল আকসা আজ ফজরের আজানের সাথে সাথেই খুলে দেওয়া হয়। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, গেট খোলার সাথে সাথেই কয়েক’শ ফিলিস্তিনি ইবাদতের উদ্দেশ্যে হারাম-আল-শরিফে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ ৪১ দিন পর প্রিয় মসজিদে ফিরতে পেরে অনেককেই অশ্রুসিক্ত চোখে শুকরিয়া আদায় করতে এবং চত্বরে সিজদাহ দিতে দেখা যায়। ৪১ দিন পর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম জামাতে শত শত মুসল্লি কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে জেরুজালেমের নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সেই সময় থেকেই আল-আকসা মসজিদ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র 'চার্চ অফ দ্য হলি সেপুলকার' (কিয়ামাত গির্জা) সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে কেবল ওয়াকফ প্রশাসনের হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে নামাজ পড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। বাকি ফিলিস্তিনিদের শহরের ছোট ছোট গলিতে বা ছোট মসজিদে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
মসজিদটি সাধারণের জন্য বন্ধ থাকলেও গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কড়া নিরাপত্তায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করেন, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ এপ্রিল রাত ১:৩০ মিনিটে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ওরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই আজ আল-আকসার দ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না এবং সেখানে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিষয় : ফিলিস্তিন পূর্ব জেরুজালেম মসজিদুল আকসা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ৪১ দিন পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হলো মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান পবিত্র মসজিদুল আকসা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে ইরানে হামলার অজুহাতে দীর্ঘ দিন বন্ধ রাখার পর আজ ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ভোরে মুসল্লিদের জন্য মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আল-আকসা খুলে দেওয়ার খবরে শত শত ফিলিস্তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।
ফিলিস্তিনের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত মসজিদুল আকসা আজ ফজরের আজানের সাথে সাথেই খুলে দেওয়া হয়। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, গেট খোলার সাথে সাথেই কয়েক’শ ফিলিস্তিনি ইবাদতের উদ্দেশ্যে হারাম-আল-শরিফে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ ৪১ দিন পর প্রিয় মসজিদে ফিরতে পেরে অনেককেই অশ্রুসিক্ত চোখে শুকরিয়া আদায় করতে এবং চত্বরে সিজদাহ দিতে দেখা যায়। ৪১ দিন পর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম জামাতে শত শত মুসল্লি কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে জেরুজালেমের নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সেই সময় থেকেই আল-আকসা মসজিদ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র 'চার্চ অফ দ্য হলি সেপুলকার' (কিয়ামাত গির্জা) সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে কেবল ওয়াকফ প্রশাসনের হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে নামাজ পড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। বাকি ফিলিস্তিনিদের শহরের ছোট ছোট গলিতে বা ছোট মসজিদে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
মসজিদটি সাধারণের জন্য বন্ধ থাকলেও গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কড়া নিরাপত্তায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করেন, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ এপ্রিল রাত ১:৩০ মিনিটে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ওরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই আজ আল-আকসার দ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না এবং সেখানে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন