শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

গণতন্ত্রে ফেরার দাবি হ্লাইংয়ের, আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা

মিয়ানমারে সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট: শপথ নিলেন ক্যু নেতা মিন অং হ্লাইং



মিয়ানমারে সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট: শপথ নিলেন ক্যু নেতা মিন অং হ্লাইং

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার রাজধানী নেপিডোতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর এই আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্ষমতাকে একটি বেসামরিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের বর্তমান সেনাপ্রধান ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং আজ শুক্রবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, "মিয়ানমার পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।" তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

গত সপ্তাহে জান্তা-সমর্থিত পার্লামেন্টে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তার দলের জয়কে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং পশ্চিমা দেশগুলো 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য যে, এই পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কোনো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে বন্দি করে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে। হ্লাইংয়ের এই ক্ষমতা দখলের পর দেশটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ান) থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। আজকের ভাষণে হ্লাইং জানান, তিনি আসিয়ানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে সচেষ্ট থাকবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি 'সামাজিক পুনর্মিলন ও শান্তির' স্বার্থে রাজনৈতিক বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘোষণাকে লোকদেখানো হিসেবে বর্ণনা করেছে। এএফপির তথ্যমতে, আজকের অনুষ্ঠানে চীন, ভারত এবং থাইল্যান্ডসহ ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় অন্তত ৯৬,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো হ্লাইংয়ের এই নির্বাচন ও ক্ষমতা গ্রহণকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিষয় : মিয়ানমার

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


মিয়ানমারে সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট: শপথ নিলেন ক্যু নেতা মিন অং হ্লাইং

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার রাজধানী নেপিডোতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর এই আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্ষমতাকে একটি বেসামরিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের বর্তমান সেনাপ্রধান ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং আজ শুক্রবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, "মিয়ানমার পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।" তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

গত সপ্তাহে জান্তা-সমর্থিত পার্লামেন্টে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তার দলের জয়কে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং পশ্চিমা দেশগুলো 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য যে, এই পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কোনো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে বন্দি করে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে। হ্লাইংয়ের এই ক্ষমতা দখলের পর দেশটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ান) থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। আজকের ভাষণে হ্লাইং জানান, তিনি আসিয়ানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে সচেষ্ট থাকবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি 'সামাজিক পুনর্মিলন ও শান্তির' স্বার্থে রাজনৈতিক বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘোষণাকে লোকদেখানো হিসেবে বর্ণনা করেছে। এএফপির তথ্যমতে, আজকের অনুষ্ঠানে চীন, ভারত এবং থাইল্যান্ডসহ ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় অন্তত ৯৬,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো হ্লাইংয়ের এই নির্বাচন ও ক্ষমতা গ্রহণকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত