ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে জুমার নামাজ চলাকালীন একটি মসজিদে এক পুলিশ কনস্টেবলের জুতা পরে প্রবেশ এবং লাউডস্পিকারের তার কেটে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় একে ধর্মীয় অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখলেও পুলিশ প্রশাসন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলো সত্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কর্তব্যরত কনস্টেবল মসজিদের ভেতর প্রবেশ করেননি এবং জুতা পরে ভেতরে যাওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই কনস্টেবল নিয়মিত টহলের সময় মসজিদের লাউডস্পিকারের শব্দ সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শুনতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয়দের সাথে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এসএইচও’র ভাষায়, "এসব উল্টোপাল্টা কথা বলা হচ্ছে। এমন কিছুই ঘটেনি।" লখনউ পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ 'মিথ্যা' এবং বর্তমানে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তারা আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির মুতাওয়াল্লির সাথে বৈঠক হয়েছে এবং ভবিষ্যতে শব্দদূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা মানার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
লখনউয়ের ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার একটি মসজিদে তখন জুমার খুতবা বা নামাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, পুলিশের এক কনস্টেবল কোনো অনুমতি ছাড়াই জুতা পায়ে মসজিদের পবিত্র সীমানায় প্রবেশ করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ওই কনস্টেবলকে ঘিরে ধরে তার 'দাদাগিরি' ও 'গুন্ডামির' প্রতিবাদ করছেন।
মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, নামাজ চলাকালীন ওই পুলিশ সদস্য হঠাৎ ভেতরে ঢুকে লাউডস্পিকারের তার কেটে দেন। প্রতিবাদ করায় তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জনৈক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, ওই পুলিশ সদস্য হুমকি দিয়ে বলেন, "তোমরা নামাজ পড়ার যোগ্য থাকবে না।" ভিডিওতে মুসল্লিদের বলতে শোনা যায়, "আপনি অনুমতি ছাড়া ইবাদতখানায় কীভাবে ঢুকলেন? নামাজের মাঝখানে কেন এই হঠকারিতা?" এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে। জুমার নামাজের মতো একটি সংবেদনশীল সময়ে পুলিশের এমন আচরণকে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, তবে অভিযুক্ত কনস্টেবলের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতের সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকলেও তা কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও সময়জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক সুরক্ষা নীতি অনুযায়ী, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা বাধ্যতামূলক। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যদি লাউডস্পিকারের শব্দ নির্ধারিত সীমার বেশি হয়েও থাকে, তবে তা নামাজের মাঝখানে বলপ্রয়োগ করে বা পবিত্রতা নষ্ট করে সমাধান করা কাম্য নয়।
এই ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেহেতু পুলিশ বিভাগ সরাসরি তাদের সদস্যকে নির্দোষ দাবি করেছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা। যদি জুতা পরে প্রবেশের অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা ধর্মীয় অবমাননার শামিল, যা দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারার আওতায় পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং একইসাথে সাংবিধানিক অধিকার ও ধর্মীয় মর্যাদা সুরক্ষায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিষয় : ভারত

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে জুমার নামাজ চলাকালীন একটি মসজিদে এক পুলিশ কনস্টেবলের জুতা পরে প্রবেশ এবং লাউডস্পিকারের তার কেটে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় একে ধর্মীয় অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখলেও পুলিশ প্রশাসন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলো সত্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কর্তব্যরত কনস্টেবল মসজিদের ভেতর প্রবেশ করেননি এবং জুতা পরে ভেতরে যাওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই কনস্টেবল নিয়মিত টহলের সময় মসজিদের লাউডস্পিকারের শব্দ সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শুনতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয়দের সাথে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এসএইচও’র ভাষায়, "এসব উল্টোপাল্টা কথা বলা হচ্ছে। এমন কিছুই ঘটেনি।" লখনউ পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ 'মিথ্যা' এবং বর্তমানে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তারা আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির মুতাওয়াল্লির সাথে বৈঠক হয়েছে এবং ভবিষ্যতে শব্দদূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা মানার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
লখনউয়ের ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার একটি মসজিদে তখন জুমার খুতবা বা নামাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, পুলিশের এক কনস্টেবল কোনো অনুমতি ছাড়াই জুতা পায়ে মসজিদের পবিত্র সীমানায় প্রবেশ করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ওই কনস্টেবলকে ঘিরে ধরে তার 'দাদাগিরি' ও 'গুন্ডামির' প্রতিবাদ করছেন।
মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, নামাজ চলাকালীন ওই পুলিশ সদস্য হঠাৎ ভেতরে ঢুকে লাউডস্পিকারের তার কেটে দেন। প্রতিবাদ করায় তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জনৈক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, ওই পুলিশ সদস্য হুমকি দিয়ে বলেন, "তোমরা নামাজ পড়ার যোগ্য থাকবে না।" ভিডিওতে মুসল্লিদের বলতে শোনা যায়, "আপনি অনুমতি ছাড়া ইবাদতখানায় কীভাবে ঢুকলেন? নামাজের মাঝখানে কেন এই হঠকারিতা?" এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে। জুমার নামাজের মতো একটি সংবেদনশীল সময়ে পুলিশের এমন আচরণকে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, তবে অভিযুক্ত কনস্টেবলের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতের সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকলেও তা কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও সময়জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক সুরক্ষা নীতি অনুযায়ী, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা বাধ্যতামূলক। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যদি লাউডস্পিকারের শব্দ নির্ধারিত সীমার বেশি হয়েও থাকে, তবে তা নামাজের মাঝখানে বলপ্রয়োগ করে বা পবিত্রতা নষ্ট করে সমাধান করা কাম্য নয়।
এই ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেহেতু পুলিশ বিভাগ সরাসরি তাদের সদস্যকে নির্দোষ দাবি করেছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা। যদি জুতা পরে প্রবেশের অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা ধর্মীয় অবমাননার শামিল, যা দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারার আওতায় পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং একইসাথে সাংবিধানিক অধিকার ও ধর্মীয় মর্যাদা সুরক্ষায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন