মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ; টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছে শিশুদের সময়

গাজায় থমকে গেছে শৈশব: পাঠ্যবইয়ের বদলে শিশুদের হাতে এখন পানির ভারী গ্যালন



গাজায় থমকে গেছে শৈশব: পাঠ্যবইয়ের বদলে শিশুদের হাতে এখন পানির ভারী গ্যালন

যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা আর কাঁধে স্কুলের ব্যাগ, সেই বয়সে গাজার শিশুদের হাতে এখন ভারী পানির ড্রাম। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও অবরোধের ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় এখন শিক্ষা নয়, বরং এক ফোঁটা পানির জন্য জীবনসংগ্রামই শিশুদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন তীব্র পানি সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে পানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছে কয়েক লাখ শিশুর শৈশব।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণপ্রান্তের শহর খান ইউনিসে এখন আর স্কুলঘণ্টার শব্দ শোনা যায় না। সকাল ৬টা বাজলেই শিশুরা ঘুম থেকে উঠে দৌড়ায় পানির লাইনের দিকে। গাজার ২.৪ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই কোনো কর্মসংস্থান, আর সবকিছুর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র পানির সংকট।

১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু রাওয়ান আল-বায়েরুক আক্ষেপ করে জানায়, "আগে সকালে ঘুম থেকে উঠে দুধ ও নাস্তা খেয়ে স্কুলে যেতাম। এখন ঘুম থেকে উঠে পানির লাইনে দাঁড়াই, এরপর লঙ্গরখানায় খাবারের লাইনে যাই। না গেলে আমাদের না খেয়ে আর পিপাসায় মরতে হবে।" রাওয়ানের বাবা গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পরিবারের পানির ভার তার ছোট্ট কাঁধেই।

একই চিত্র ১৩ বছর বয়সী সামি হাম্মাদের ক্ষেত্রেও। সে প্রশ্ন তোলে, "কেন আমরা বিশ্বের অন্য শিশুদের মতো পোশাক পরে স্কুলে যেতে পারি না? গাজায় এখন শিক্ষার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।" ১০ বছর বয়সী ওসামা আবু জায়েদ জানায়, গত তিন বছর ধরে তারা এই অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, "আমাদের পিঠে এখন ব্যাগের বদলে পানির গ্যালন। আমাদের অপরাধ কী যে আমাদের এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হচ্ছে?"

গাজার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অঞ্চলটির অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সুপেয় পানির উৎসগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং জ্বালানি সংকটে পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। শরণার্থী শিবিরে থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছে দূর-দূরান্তে পানির খোঁজে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারী ড্রাম নিয়ে ফেরার পথে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

রাফাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া ১৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ হার্ব বলে, "আমার এখন উচিত ছিল মায়ের হাতে চুল আঁচড়ে নাস্তা খেয়ে স্কুলে যাওয়া। অথচ আমি এখন পানির খোঁজে মাইলের পর মাইল হাঁটছি।" এই করুণ দৃশ্যই এখন গাজার প্রতিটি রাস্তার বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর সমাধান এখনো পৌঁছায়নি গাজার শিশুদের কাছে।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


গাজায় থমকে গেছে শৈশব: পাঠ্যবইয়ের বদলে শিশুদের হাতে এখন পানির ভারী গ্যালন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা আর কাঁধে স্কুলের ব্যাগ, সেই বয়সে গাজার শিশুদের হাতে এখন ভারী পানির ড্রাম। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও অবরোধের ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় এখন শিক্ষা নয়, বরং এক ফোঁটা পানির জন্য জীবনসংগ্রামই শিশুদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন তীব্র পানি সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে পানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছে কয়েক লাখ শিশুর শৈশব।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণপ্রান্তের শহর খান ইউনিসে এখন আর স্কুলঘণ্টার শব্দ শোনা যায় না। সকাল ৬টা বাজলেই শিশুরা ঘুম থেকে উঠে দৌড়ায় পানির লাইনের দিকে। গাজার ২.৪ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই কোনো কর্মসংস্থান, আর সবকিছুর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র পানির সংকট।

১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু রাওয়ান আল-বায়েরুক আক্ষেপ করে জানায়, "আগে সকালে ঘুম থেকে উঠে দুধ ও নাস্তা খেয়ে স্কুলে যেতাম। এখন ঘুম থেকে উঠে পানির লাইনে দাঁড়াই, এরপর লঙ্গরখানায় খাবারের লাইনে যাই। না গেলে আমাদের না খেয়ে আর পিপাসায় মরতে হবে।" রাওয়ানের বাবা গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পরিবারের পানির ভার তার ছোট্ট কাঁধেই।

একই চিত্র ১৩ বছর বয়সী সামি হাম্মাদের ক্ষেত্রেও। সে প্রশ্ন তোলে, "কেন আমরা বিশ্বের অন্য শিশুদের মতো পোশাক পরে স্কুলে যেতে পারি না? গাজায় এখন শিক্ষার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।" ১০ বছর বয়সী ওসামা আবু জায়েদ জানায়, গত তিন বছর ধরে তারা এই অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, "আমাদের পিঠে এখন ব্যাগের বদলে পানির গ্যালন। আমাদের অপরাধ কী যে আমাদের এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হচ্ছে?"

গাজার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অঞ্চলটির অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সুপেয় পানির উৎসগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং জ্বালানি সংকটে পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। শরণার্থী শিবিরে থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছে দূর-দূরান্তে পানির খোঁজে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারী ড্রাম নিয়ে ফেরার পথে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

রাফাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া ১৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ হার্ব বলে, "আমার এখন উচিত ছিল মায়ের হাতে চুল আঁচড়ে নাস্তা খেয়ে স্কুলে যাওয়া। অথচ আমি এখন পানির খোঁজে মাইলের পর মাইল হাঁটছি।" এই করুণ দৃশ্যই এখন গাজার প্রতিটি রাস্তার বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর সমাধান এখনো পৌঁছায়নি গাজার শিশুদের কাছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ