রোববার, ১০ মে ২০২৬
রোববার, ১০ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

মোল্লাদের খাবার নয়, শুধু হিন্দুরা আসবে"—বিতর্কিত নেতার সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অমানবিক আচরণে তীব্র ক্ষোভ

মুসলমানদের খাবার দেব না বলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির থালা কেড়ে নিলেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান



মুসলমানদের খাবার দেব না বলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির থালা কেড়ে নিলেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চলাকালীন এক দরিদ্র ব্যক্তির হাত থেকে খাবারের থালা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু রক্ষা দলের (HRD) প্রধান ভূপেন্দ্র তোমার ওরফে পিঙ্কি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে মুসলিমদের খাবার না দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটিতে পিঙ্কি চৌধুরীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, "কেউ খারাপ মনে করলেও আমরা মোল্লাদের খাবার দেব না; কোনো মুসলিম যেন এখানে না খায়।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "মোল্লা না আসুক, শুধু হিন্দু আসুক।"

তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো দাপ্তরিক কারণ জানানো না হলেও, অতীতে তিনি দাবি করেছিলেন যে ভারতে কেবল হিন্দুরাই কর প্রদান করে—যা তথ্যের দিক থেকে ভিত্তিহীন এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনমূলক।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ সংলগ্ন এলাকায় একটি জনসমাগমস্থলে। ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় এক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পিঙ্কি চৌধুরী সরাসরি তার হাত থেকে খাবারের থালাটি কেড়ে নেন।

পিঙ্কি চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানির দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। ২০২১ সালে যন্তর মন্তরে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে গাজিয়াবাদে একটি মুসলিম বসতিতে হামলা চালানো হয়, যেখানে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার সংগঠন জাতীয় মহাসড়কে "মুসলিমদের জন্য রাস্তা নয়" লিখে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রকাশ্যে একজন দরিদ্র মানুষের খাদ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (বৈষম্যহীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ২১ (জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার)-এর পরিপন্থী। হিন্দু রক্ষা দল নামক এই নজরদারি গোষ্ঠীটি বারবার আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করে আসছে।

যদিও পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবুও এই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধ প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

হিন্দু রক্ষা দল গাজিয়াবাদ ভিত্তিক একটি কট্টরপন্থী সংগঠন। প্রকাশ্যে তলোয়ার প্রদর্শন এবং উস্কানিমূলক র‍্যালির মাধ্যমে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে খাদ্য বা নাগরিক অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত মুসলিম বিদ্বেষ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ১০ মে ২০২৬


মুসলমানদের খাবার দেব না বলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির থালা কেড়ে নিলেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চলাকালীন এক দরিদ্র ব্যক্তির হাত থেকে খাবারের থালা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু রক্ষা দলের (HRD) প্রধান ভূপেন্দ্র তোমার ওরফে পিঙ্কি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে মুসলিমদের খাবার না দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটিতে পিঙ্কি চৌধুরীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, "কেউ খারাপ মনে করলেও আমরা মোল্লাদের খাবার দেব না; কোনো মুসলিম যেন এখানে না খায়।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "মোল্লা না আসুক, শুধু হিন্দু আসুক।"

তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো দাপ্তরিক কারণ জানানো না হলেও, অতীতে তিনি দাবি করেছিলেন যে ভারতে কেবল হিন্দুরাই কর প্রদান করে—যা তথ্যের দিক থেকে ভিত্তিহীন এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনমূলক।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ সংলগ্ন এলাকায় একটি জনসমাগমস্থলে। ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় এক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পিঙ্কি চৌধুরী সরাসরি তার হাত থেকে খাবারের থালাটি কেড়ে নেন।

পিঙ্কি চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানির দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। ২০২১ সালে যন্তর মন্তরে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে গাজিয়াবাদে একটি মুসলিম বসতিতে হামলা চালানো হয়, যেখানে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার সংগঠন জাতীয় মহাসড়কে "মুসলিমদের জন্য রাস্তা নয়" লিখে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রকাশ্যে একজন দরিদ্র মানুষের খাদ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (বৈষম্যহীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ২১ (জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার)-এর পরিপন্থী। হিন্দু রক্ষা দল নামক এই নজরদারি গোষ্ঠীটি বারবার আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করে আসছে।

যদিও পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবুও এই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধ প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

হিন্দু রক্ষা দল গাজিয়াবাদ ভিত্তিক একটি কট্টরপন্থী সংগঠন। প্রকাশ্যে তলোয়ার প্রদর্শন এবং উস্কানিমূলক র‍্যালির মাধ্যমে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে খাদ্য বা নাগরিক অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত