যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে হাজার হাজার উগ্র ডানপন্থী ও চরমপন্থী বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে এক বিশাল ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী সমাবেশ করেছে। শনিবার (১৬ মে) আয়োজিত এই বিতর্কিত মিছিলে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে উপহাস এবং শিশুদের দিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
যুক্তরাজ্যে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়ার এক চরম রূপ প্রত্যক্ষ করল লন্ডনের রাজপথ। গত শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার উগ্র ডানপন্থী বিক্ষোভকারী একত্রিত হয়ে তীব্র ইসলাম এবং অভিবাসী বিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত করে তোলে।
যুক্তরাজ্যের কুখ্যাত উগ্র ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসন (যার আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) এই ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামক সমাবেশের আয়োজন করেন। মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগানের আদলে ‘মেক ইংল্যান্ড গ্রেট এগেইন’ (ইংল্যান্ডকে আবার মহান করুন) বলে স্লোগান দিতে থাকে। সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে টমি রবিনসন তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার’ উস্কানিমূলক আহ্বান জানান, যা পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তোলে।
বিক্ষোভ মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ক্রুশ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতীক দেখা যায়। তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আড়ালে চরমপন্থী জনতাকে লন্ডনের রাস্তায় চলাচলকারী হিজাব, বোরকা ও চাদর পরিহিত মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে দেখা যায়। তারা মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে উপহাস ও কটূক্তি করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এই চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো অবুঝ ও কম বয়সী শিশুদের দিয়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও অবমাননাকর স্লোগান বলাচ্ছে। শিশুদের এভাবে ঘৃণ্য প্রোপাগান্ডায় ব্যবহার করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন শিশুদের দিয়ে এভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভের পুরো রুট জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা এবং বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে।
বিষয় : যুক্তরাজ্য

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে হাজার হাজার উগ্র ডানপন্থী ও চরমপন্থী বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে এক বিশাল ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী সমাবেশ করেছে। শনিবার (১৬ মে) আয়োজিত এই বিতর্কিত মিছিলে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে উপহাস এবং শিশুদের দিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
যুক্তরাজ্যে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়ার এক চরম রূপ প্রত্যক্ষ করল লন্ডনের রাজপথ। গত শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার উগ্র ডানপন্থী বিক্ষোভকারী একত্রিত হয়ে তীব্র ইসলাম এবং অভিবাসী বিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত করে তোলে।
যুক্তরাজ্যের কুখ্যাত উগ্র ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসন (যার আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) এই ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামক সমাবেশের আয়োজন করেন। মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগানের আদলে ‘মেক ইংল্যান্ড গ্রেট এগেইন’ (ইংল্যান্ডকে আবার মহান করুন) বলে স্লোগান দিতে থাকে। সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে টমি রবিনসন তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার’ উস্কানিমূলক আহ্বান জানান, যা পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তোলে।
বিক্ষোভ মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ক্রুশ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতীক দেখা যায়। তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আড়ালে চরমপন্থী জনতাকে লন্ডনের রাস্তায় চলাচলকারী হিজাব, বোরকা ও চাদর পরিহিত মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে দেখা যায়। তারা মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে উপহাস ও কটূক্তি করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এই চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো অবুঝ ও কম বয়সী শিশুদের দিয়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও অবমাননাকর স্লোগান বলাচ্ছে। শিশুদের এভাবে ঘৃণ্য প্রোপাগান্ডায় ব্যবহার করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন শিশুদের দিয়ে এভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভের পুরো রুট জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা এবং বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন