বুধবার, ২০ মে ২০২৬
বুধবার, ২০ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

জায়গা না থাকলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করুন— ভারতের উত্তরপ্রদেশে রাস্তা বন্ধ করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যোগীর, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

পছন্দমতো না চললে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে: রাস্তায় নামাজ আদায় নিয়ে যোগীর হুঁশিয়ারি



পছন্দমতো না চললে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে: রাস্তায় নামাজ আদায় নিয়ে যোগীর হুঁশিয়ারি

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যে রাস্তা অবরুদ্ধ করে নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তায় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কেউ ভালোবাসা বা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই নিয়ম না মানলে সরকার 'অন্য পন্থা' অবলম্বন করবে। একই সঙ্গে এই স্থান সংকটের সমাধানের সূত্র ধরে মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতিনীতি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। রাজ্যে নামাজ পড়া অবৈধ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, "হ্যাঁ, অবৈধ। একজন মুসলিমের রাস্তা বন্ধ করার কী অধিকার আছে? যার যার নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে, সেখানে গিয়েই প্রার্থনা করা উচিত।"

তিনি আরও যোগ করেন, "নামাজ পড়তে হলে শিফটে (পর্যায়ক্রমে) পড়ুন। ভালোবাসায় মানলে ঠিক আছে, না মানলে অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।" উপস্থিত অতিথিদের করতালির মধ্যে তিনি মুচকি হেসে বলেন, "যদি তোমাদের ঘরে থাকার জায়গা না থাকে, তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করো। আর জায়গা যদি না-ই থাকে, তবে কেন অহেতুক জনসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছ?"

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং তার সরকার কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয় না। সড়ক সাধারণ নাগরিক, অসুস্থ রোগী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচলের জন্য। কিন্তু সমালোচকদের মতে, জনশৃঙ্খলার এই যুক্তি কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সাধারণ মুসলিম ও স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ আসা শুরু করেছে। অনেক ভুক্তভোগী ও বিশ্লেষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন:

  • প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় নির্মিত হাজারো মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া বা ছোট করা হয়েছে। ফলে উপাসনালয়ে তীব্র স্থান সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই জুমার নামাজে কয়েক মিনিটের জন্য মানুষ রাস্তায় দাঁড়ায়।
  • শুধু রাস্তা নয়, অনেক সময় ব্যক্তিগত বাড়িতে বা ঘরের ভেতরে নামাজ পড়ার কারণেও মুসলিমদের আটক ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, হোলির রঙ খেলা, দীর্ঘমেয়াদী শোভাযাত্রা এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য দিনের পর দিন রাস্তা বন্ধ রাখা হয়, তখন প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। কিন্তু মুসলিমদের কয়েক মিনিটের নামাজের ক্ষেত্রে জনশৃঙ্খলার অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে নিধন ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

অনেকে ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তুলছেন, "মুসলিমরা এখন কী করবে? তাদের কি শেষ পর্যন্ত ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়ে যেতে হবে?" মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জনশৃঙ্খলার নাম দিয়ে মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার এবং পরিকল্পিত নিপীড়নের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


পছন্দমতো না চললে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে: রাস্তায় নামাজ আদায় নিয়ে যোগীর হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যে রাস্তা অবরুদ্ধ করে নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তায় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কেউ ভালোবাসা বা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই নিয়ম না মানলে সরকার 'অন্য পন্থা' অবলম্বন করবে। একই সঙ্গে এই স্থান সংকটের সমাধানের সূত্র ধরে মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতিনীতি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। রাজ্যে নামাজ পড়া অবৈধ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, "হ্যাঁ, অবৈধ। একজন মুসলিমের রাস্তা বন্ধ করার কী অধিকার আছে? যার যার নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে, সেখানে গিয়েই প্রার্থনা করা উচিত।"

তিনি আরও যোগ করেন, "নামাজ পড়তে হলে শিফটে (পর্যায়ক্রমে) পড়ুন। ভালোবাসায় মানলে ঠিক আছে, না মানলে অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।" উপস্থিত অতিথিদের করতালির মধ্যে তিনি মুচকি হেসে বলেন, "যদি তোমাদের ঘরে থাকার জায়গা না থাকে, তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করো। আর জায়গা যদি না-ই থাকে, তবে কেন অহেতুক জনসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছ?"

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং তার সরকার কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয় না। সড়ক সাধারণ নাগরিক, অসুস্থ রোগী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচলের জন্য। কিন্তু সমালোচকদের মতে, জনশৃঙ্খলার এই যুক্তি কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সাধারণ মুসলিম ও স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ আসা শুরু করেছে। অনেক ভুক্তভোগী ও বিশ্লেষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন:

  • প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় নির্মিত হাজারো মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া বা ছোট করা হয়েছে। ফলে উপাসনালয়ে তীব্র স্থান সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই জুমার নামাজে কয়েক মিনিটের জন্য মানুষ রাস্তায় দাঁড়ায়।
  • শুধু রাস্তা নয়, অনেক সময় ব্যক্তিগত বাড়িতে বা ঘরের ভেতরে নামাজ পড়ার কারণেও মুসলিমদের আটক ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, হোলির রঙ খেলা, দীর্ঘমেয়াদী শোভাযাত্রা এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য দিনের পর দিন রাস্তা বন্ধ রাখা হয়, তখন প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। কিন্তু মুসলিমদের কয়েক মিনিটের নামাজের ক্ষেত্রে জনশৃঙ্খলার অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে নিধন ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

অনেকে ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তুলছেন, "মুসলিমরা এখন কী করবে? তাদের কি শেষ পর্যন্ত ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়ে যেতে হবে?" মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জনশৃঙ্খলার নাম দিয়ে মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার এবং পরিকল্পিত নিপীড়নের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ